নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নুরুদ্দিন হাওলাদার (৩২) নামের এক ঠিকাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পাওনা টাকা নিয়ে পূর্বের দ্বন্দ্বের জেরে তিন পিতাপুত্রে মিলে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছেন।
রবিবার (১৭ মে) ভোর ৬ টায় ওই ঠিকাদার মৃত্যুবরণ করে। এরআগ ১৪ তারিখ ছুরিকাঘাতের পর থেকে নিহত ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অভিযুক্তরা হলো উপজেলার গঙ্গানগর এলাকার মো. আব্দুর রব (৫০) তার ছেলে হৃদয় (২৮) ও শুভ (২২)।
নিহত নুরুদ্দিন হাওলাদার ভোলা জেলার সদর উপজেলা পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মালেরহাট গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে। তিনি মেঘনা নিউটাউন আবাসিক এলাকার সোহেল মিয়া নামক এক বাড়ি মালিকের ভাড়াটিয়া হিসেবে পরিবারসহ বসবাস করে আসছিলেন।
নিহতের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার বলেন, প্রায় ২ বছর আগে গঙ্গানগর এলাকার আব্দুর রবের বাড়ির ঠিকাদারি কাজ করেছিল আমার স্বামী। কাজ হলেও পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো আরো কাজ করতে দীর্ঘদিন যাবত চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলো আব্দুর রবসহ তার দুই ছেলে। এরপর এই কান্ড ঘটিয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত নুরুদ্দিনের ভাই মিজান রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টার সময়ে মোটরসাইকেলেযোগে আব্দুর রব ও তার দুই ছেলে হৃদয় ও শুভ এসে আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর তারা বাড়ির সামনের রাস্তায় তর্কাতর্কি করার একপর্যায়ে হঠাৎ হৃদয়ের পকেটে থাকা সুইচ গিয়ার বের আমার ভাইকে ৩টি আঘাত করে। আঘাতের একটি বুকের বাপাশে লাগে। ঘটনার সময়ে আমি ৭ তলা থেকে নেমে আসতে আসতে তারা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর আমরা প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাই। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে মৃত্যু হয়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, নিহত একজন শ্রমিক ছিলেন। সে দেড় বছর পূর্বে নিউটন এলাকার আব্দুর রবের বাড়ি নির্মাণে কাজ করেছিল। ওই কাজ নিয়ে তাদের উভয়ের মধ্যে ঝামেলা চলছিল, যার জের ধরে গত ১৪ মে রবের ছেলে নিহতকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। ছুরিকাঘাতের পর থেকে নিহত চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল এবং আজ মৃত্যুবরণ করেছে। এ ঘটনায় আমাদের আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের করা হবে।




































আপনার মতামত লিখুন :