স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পাশাপাশি অন্যন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে খেলাফত মজলিসও নারায়ণগঞ্জে নিজেদেরকে জানান দিতে যাচ্ছে। তারা সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় বজায় রেখে স্থানীয় নির্বাচনেও শক্তভাবে নিজেদের উপস্থাপন করতে চাচ্ছেন। প্রয়োজনে নির্বাচনী ঐক্যের বাইরে গিয়ে হলেও তাদের ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় থাকবেন বলে জানান দিচ্ছেন। বিশেষ করে কয়েকটি এলাকায় তারা বেশ জোড়ালোভাবেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
জানা যায়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে বেশকিছু প্রার্থী ঘোষণা করেছে খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখা। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধায় খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন জেলা মজলিস কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
যেসকল এলাকায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে- বন্দর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মহানগর সেক্রেটারি ইলিয়াস আহমদ, ভাইস-চেয়ারম্যান পদে সদর থানা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হাফেজ আওলাদ।
নাসিকের কাউন্সিলর হিসেবে- ২নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান তালুকদার, ৩নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সভাপতি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা হেফাজতের সেক্রেটারি মাওলানা নুর হুসাইন নূরানী, ৪নং ওয়ার্ডে মুফতি জাকারিয়া ফরহাদ, ৫নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সেক্রেটারি মাওলানা সিফাতুল্লাহ, ৭ নং ওয়ার্ডে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি নুর মোহাম্মদ খান, ৮নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সভাপতি ফারুকুল ইসলাম, ১১ নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সভাপতি হানিফ কবির বাবুল, ১২ নং ওয়ার্ডে সদর থানা সহ-সভাপতি আলমগীর হুসাইন, ১৩ নং ওয়ার্ডে ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, ১৬ নং ওয়ার্ডে ফরহাদ হোসাইন, ১৭ নং ওয়ার্ডে আব্দুস সামাদ, ১৮ নং ওয়ার্ডে মুহাম্মদ শাহআলম, ২০ নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সভাপতি মুহাম্মদ ছানাউল্লাহ, ২৪ নং ওয়ার্ডে বন্দর থানা সহ-সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম, ২৫ নং ওয়ার্ডে বন্দর থানা সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শাহিদুজ্জামান, ২৬ নং ওয়ার্ডে দলের ওয়ার্ড সভাপতি হাফেজ আবুল হাসান ও ২৭ নং ওয়ার্ডে সালমান হোসাইন শাহীন।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে- ধামগড় ইউনিয়নে উপজেলা সভাপতি মুফতী আবুল কাসেম, মদনপুর ইউনিয়নে উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাজহারুল ইসলাম ভূইয়া, কলাগাছিয়া ইউনিয়নে ফারুকুল ইসলাম প্রধান, কাঁচপুর ইউনিয়নে মুহাম্মদ সাহাবুদ্দীন, সনমান্দি ইউনিয়নে ইবনে মিজান, ইউপি সদস্য হিসেবে- মদনপুর ইউনিয়ন ৭নং ওয়ার্ডে মুফতি আল-আমীন, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে ইউনিয়ন সভাপতি মাসুম আহমদ, ৩নং ওয়ার্ডে জুয়েল মাহমুদ, ৬নং ওয়ার্ডে মাওলানা আব্দুল কাদির।
স্থানীয় নির্বাচনে জোট প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, আমরা এখনও ১১ দলীয় জোটের সাথে আছি। যতদিন পর্যন্ত জাতির স্বার্থ রক্ষিত হয় আমরা এই জোটে থাকবো। আমরা এখন যার যার দল থেকে প্রার্থী দিচ্ছি। তফসিল ঘোষণার সময়ে আমরা এখানে এনসিপি আছে জামায়াতে ইসলামীর ভাইয়েরা আছে অন্যান্য রাজনৈতিক দল আছে সবাই মিলে চেষ্টা করবো সমন্বিত প্রার্থী দেয়ার জন্য।
তাদের প্রার্থীদের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আমাদের ভোটের মাঠ ধরে রাখার জন্য চেষ্টা করবো। আমরা কখনও মাঠ ছাড়বো না। সংসদ নির্বাচনের হলে আমরা মেনে নিবো না।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। সেই সাথে তিনি নির্বাচনে বেশ শক্তভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন। তিনি তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ রেখেছেন। খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা মনে করেন, তাদের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন ভোটের মাঠে পাশ করেছেন। কিন্তু তাকে ফেল করানো হয়েছে।
তারই ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় নির্বাচনে খেলাফত মজলিসের সেই জনপ্রিয়তাকে ধরে রাখতে চাচ্ছেন। সেই সাথে আগে থেকেই প্রার্থী ঘোষণা করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।






































আপনার মতামত লিখুন :