News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ছাত্রদলের ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে : মাহফুজ খান


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ১০:২০ পিএম ছাত্রদলের ইমেজ সংকট তৈরি হয়েছে : মাহফুজ খান

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহবায়ক মাহফুজ খান বলেছেন, নতুন রাজনৈতিক সংগঠন দাঁড় করানোটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারণ আমরা একটা নতুন সংগঠন একদম গ্রাউন্ড থেকে তৈরি করছি। সেই সাথে তৃণমূলে থেকেও সরাসরি কেন্দ্রের নেতাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করার সুযোগ পেয়েছি। অন্যান্য বড় সংগঠনগুলোর বিশাল ফান্ডিং এবং জনবল থাকে, আমাদের সেটা নেই। তারপরেও এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আমরা গড়ে উঠছি। যেভাবে ধীরে ধীরে ছাত্রশক্তিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যুক্ত হচ্ছে সেটা আশা জাগানোর মত।

সম্প্রতি নিউজ নারায়ণগঞ্জে দেয়া সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে মাহফুজ খান এই মন্তব্য করেন। এদিন ছাত্রদল, তোলারাম কলেজে নবীন বরণ সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।

তোলারাম কলেজের নবীন বরণ নিয়ে ছাত্রদলের সাথে ছাত্রশক্তির সাম্প্রতিক বিতর্কের বিষয়ে মাহফুজ বলেন, আমাদের এই নবীন বরণটা গত ডিসেম্বর মাসে হওয়ার কথা ছিল। তখন আমাদের দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তখন সেই প্রোগ্রামটি বাতিল হয়। সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া অনুষ্ঠানে আমাদের প্রশ্নের জায়গা ছিলো যে স্টেজে ছাত্র নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখবেন কিনা? রাখলে যেহেতু আমাদের কোন নির্বাচিত ছাত্র সংগঠন ছাত্র সংসদ নেই। ছাত্র সংসদ না থাকার কারণে ছাত্র সংগঠনগুলো বক্তব্য পাওয়ার সুযোগ পাবে কিনা? শিক্ষকরা আমাদের আশ্বস্ত করেছিল যে প্রত্যেক সংগঠনকে দুইবার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। অতিথিদের তালিকা আমাদের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। সঞ্চালনায় শিক্ষকদের থাকার কথা থাকলেও শিক্ষকদের হাত থেকে তারা মাইকটা কেড়ে নিয়েছেন এবং অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ভাগে একাই একজন পুরো সঞ্চালনা করেছেন গায়ের জোড়ে। সেই ব্যক্তিরা ছাত্রদলের হওয়ায় ছাত্রশক্তি এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ছাত্রদল নেতাকে আদুভাই ডাকা প্রসঙ্গে বলেন,  যার ব্যাপারে কথা হচ্ছে মূলত সে ২০১৯-২০ সেশনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। এই সেশনের শেষ পরীক্ষা ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর আরও চারটি মাস্টার্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাস্টার্সে কেউ তিন সেশনে সম্পন্ন করতে না পারলে তার ছাত্রত্ব বাতিল হয় এবং নতুন রেজিস্ট্রেশন নিতে হয়। কিন্তু আমরা বুঝলাম না যে পাঁচবারের মাস্টার্সের সেশন শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সে কিভাবে ছাত্র থাকে এবং আরো একটা বিষয় হচ্ছে যে এখানে খুব চমৎকারভাবে সে বলল যে ওই আমলে সে পরীক্ষা দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরেও দুইটি মাস্টার্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই দুইবারে তার অংশগ্রহণ কোথায় ছিলো? এখন হয়তো কোনভাবে ছাত্রত্বের নাম ভাঙ্গাচ্ছেন। ছাত্রলীগের রিয়াদকে দেখেছি ১০-১৫ বছরেও মাস্টার্স শেষ করতে পারেনি। এই ধারাবাহিকতা দেখে আমরা অভ্যস্ত। জুলাইয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে অনেক কথা বলেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ থেকে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে পারে। 

এই বিরোধ সংঘাতের দিকে টেনে নিবে কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমরা সংঘাত নয় সংলাপ চাই। আমরা জানতে পেরেছি আমাদের প্রতিবাদের কারনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মারধরের পরিকল্পনা করছেন। এবং মারার পরে চাঁদাবাজ, ইভটিজার ট্যাগ দিয়ে এই মারধরকে জায়েজ করার পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। ছাত্রশক্তির জেলার যুগ্ম সদস্য সচিব তানজিল ভুইয়া শিথিলকে ফোনে হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি কেন হুমকি দিলেন এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে শুধু অভিযোগ করে গেলেন তাদের নাকি বার বার খোচা দেয়া হয়। আমরা বলবো কেউ অন্যায় করলে তাকে প্রতিদিন নয়, প্রতি ঘণ্টা প্রতি মিনিটে প্রতিবাদ করে যাব।

ছাত্রশক্তিকে ছাত্রশিবিরের  বি টিম বলার প্রসঙ্গে বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের শাসন আমলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একসাথে কাজ করেছে। তখন ছাত্রলীগ বলতো ছাত্রদল হচ্ছে শিবিরের বি টিম। এখন দেখতে পাই ছাত্রদল বলছে ছাত্রশক্তি শিবিরে বি টিম। তারা সেই ট্যাগিং এর কালচার শুরু করেছে। আমরা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করি। আমাদের জেলা ও মহানগর কমিটি উন্মুক্ত। এই ট্যাগ অপরাজনীতি ছাড়া কিছু নয়। নবীন বরণের দিন আমার বক্তব্যের সময় ছাত্র ফেডারেশনের একজন কর্মী আমাকে থামানোর চেষ্টা করেছে। আমি সেদিন অবাক হয়েছি। তারা হয়তো ছাত্রফেডারেশনকে তাদের বি টিম হিসেবে তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ছাত্রদলের সবার সাথে বৈরী সম্পর্ক নেই দাবি করে বলেন, বিএনপি এবং ছাত্রদলের ৯০ এবং ৮০ দশকে যেই ড্যাশিং রূপ ছিলো এখন সেটা দেখা যায়না। এখন হুমকি ও মারদাঙ্গা স্বভাবের কারন ছাত্রদলের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। টোটাল ছাত্রদলের সাথে আমাদের খারাপ সম্পর্ক নেই। তবে কয়েকজন যেভাবে অপরাজনীতি শুরু করেছেন তাতে ছাত্রদলের ইমেজ সংকট তৈরি হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের অনুরোধ করবো যারা এভাবে প্রকাশ্যে হুমকি দিতে পারে তার বিষয়ে আপনারা খোঁজ নিন।

ছাত্রশক্তির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মাহফুজ বলেন, ছাত্র সংগঠনগুলোর উচিৎ ছাত্রদের প্রতি বেশি মনোযোগী হওয়া। কলেজের ভিতরে আধিপত্যের রাজনীতি শিক্ষার্থীরা পছন্দ করে না। এখানে ছাত্রবান্ধব কর্মসূচি হওয়া প্রয়োজন। কলেজে পর্যাপ্ত লাইব্রেরি আছে কিনা? লাইব্রেরিতে পড়ার স্পেস আছে কিনা? পর্যাপ্ত ক্লাস হচ্ছে কিনা। ক্লাসরুমে কয়জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকছে। রেজাল্ট ভালো হচ্ছে কিনা এসব খোঁজ রাখা দরকার। ভালো পড়ার পরিবেশ থাকলে শিক্ষার্থীরা চাকরি জীবনে ভালো করতে পারবে। আমরা সেই জায়গায় কাজ করতে চাই।

তিনি ছাত্রদল নেতা রাজীবের দিকে অভিযোগ তুলে বলেন, আমাদের ভাই কথায় কথায় বাপ তুলে কথা বলেন। আমাদের সহযোদ্ধা শিথিলকে বলছিলেন তোর বাপ এগুলো শিখাইছে? অন্যদের বাবা নিয়ে চিন্তা বাদ দিয়ে আমাদের ভাইয়ের তার বাবা নিয়ে চিন্তা করা উচিত। তিনি যে আভিজাতের কথা বলেন, সেই আভিজাত্য খুঁজতে গিয়ে জেনেছি তার বোন মিলি ইডেন কলেজের ছাত্রলীগের নেত্রী ছিলেন। তার বাবা আওয়ামী লীগের মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মেম্বার ছিলেন। তার চাচা যুবলীগের নেতা ছিলেন। সম্প্রতি ডিশ ব্যবসায়ী হত্যাকান্ডের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে দেখেছি আমাদের ভাইয়ের সাথে বেশ ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখতে। অবাক হতে হয় যে তিনি টাকার জন্য কি না করেন। কলেজ রোডের মাথা থেকে জামতলা ঈদগা পর্যন্ত বিভিন্ন দোকানে চাঁদাবাজি, মাদকের শেল্টার দেওয়া। জামতলায় বিউটি পার্লার বা মাসাজ সেন্টার নামে কিছু অনৈতিক কার্যক্রমের শেল্টার উনি দিয়ে থাকেন। একজন সেলুন মালিককে উঠিয়ে এনে বলেছেন তাকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে। সে দিতে না চাওয়ায় তাকে মারধর করাও হয়েছে।

মাহফুজ বলেন, কলেজে শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন নেই। আমাদের অবকাঠামো উন্নয়ন হাসিনা কম করেনি। আমাদের গুনগত উন্নয়ন প্রয়োজন। আমাদের লাইব্রেরি স্পেস বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, ক্লাসরুমে ডিজিটাল বোর্ড আনা প্রয়োজন, মহিলা কলেজের রেজাল্ট ভালো, আমাদের কেন ভালো হচ্ছে না সেদিকে নজর দেয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থী বান্ধব ক্যাম্পাস ও শ্রেণিকক্ষ আমরা গড়ে তুলতে চাই। জোর করে কাউকে যেখানে মিছিলে যেতে বাধ্য করবে না। তবে একদল মেধাবী তরুণের সুশৃঙ্খল হয়ে কাজ করা প্রয়োজন। তাহলেই আমরা অন্যায় রুখে দিতে পারবো।