নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রামনগর এলাকার একটি খামারে এখন মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়, যার নাম রাখা হয়েছে ‘হিরা মানিক’।
ফ্রিজিয়ান ক্রস জাতের এই ষাঁড়টি আসন্ন কোরবানির ঈদের হাটে বড় ধরণের চমক দেবে বলে আশা করছেন খামারি ও এলাকাবাসী। প্রায় ২৫ মণ ওজনের এই বিশালকার গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
খামারি মনির হোসেনের পরম যতেœ বেড়ে ওঠা ‘হিরা মানিক’-এর উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং দৈর্ঘ্য ৯ ফুট ৯ ইঞ্চি। কালো কুচকুচে ও সুঠাম দেহের এই ষাঁড়টি যেমন শান্ত, তেমনি এর নামটিও রাখা হয়েছে বেশ আদর করে।
মনির হোসেন জানান, দুই বছর আগে তিনি ষাঁড়টি কেনেন মূলত প্রজনন কাজে ব্যবহারের জন্য। কিন্তু পরবর্তীতে গরুটির প্রতি গভীর মায়া ও ভালোবাসা জন্মানোয় তিনি এটিকে পরিবারের সদস্যের মতো লালন-পালন শুরু করেন।
পুরোপুরি প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা হয়েছে এই হিরা মানিককে। মনির হোসেন জানান, "আমরা গাভিদের জন্য যে পুষ্টিকর খাবার তৈরি করি, সেটিই একে খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি দেওয়া হয় ভুট্টার ফাঁকি। কোনো প্রকার কৃত্রিম ইনজেকশন বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পরিচিত মানুষের সামনে এটি অত্যন্ত শান্ত থাকে এবং পরিবারের বাচ্চারাও এর সাথে নির্ভয়ে খেলা করে।
আসন্ন কোরবানির ঈদে মনির হোসেন এই ‘হিরা মানিক’-এর দাম হাঁকছেন ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে অনেক ক্রেতা খামারে এসে এটি দেখে গেছেন এবং বিভিন্ন দাম প্রস্তাব করেছেন। তবে মনের মতো দাম না পেলে শেষ পর্যন্ত এটিকে বড় কোরবানির হাটে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মনির হোসেনের মতে, পশুপালন কেবল ব্যবসা নয়, এটি তাঁর ভালোবাসার জায়গা। তিনি বলেন, "দেশীয় খামারিদের পাশে দাঁড়াতে সবার উচিত দেশি ও সুস্থ পশু কেনা। এতে নিরাপদ মাংস যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি আমাদের মতো খামারিরাও উৎসাহ পাবেন।"





































আপনার মতামত লিখুন :