৩ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের সোনারগাঁয়ের পাকুন্দা এলাকায় ধস ও ফাটলের ঘটনায় কারণ অনুসন্ধান করার মধ্যেই ইট-সুরকির মাধ্যমে সড়কটির ভাঙ্গা অংশটি জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। সড়কের নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের একটি অংশে ধস নামায় প্রশ্ন উঠেছে নির্মাণকাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে। এরই মধ্যে সাময়িকভাবে জোড়াতালি দেওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।
সড়ক নির্মাণকাজের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ৩ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে। বিগত সরকারের আমলে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে নবনির্মিত সড়কের একটি অংশে ধস ও ফাটলের ঘটনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালু ও সুড়কি ফেলে সাময়িকভাবে সংস্কার করা হয়েছে। ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও সংস্কার করা অংশটি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সেখানে আবারও সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের একটি অংশে ধস নামার বিষয়টি উদ্বেগের। বিশেষ করে এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যান চলাচল করে। সাময়িকভাবে বালু-সুড়কি দিয়ে সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হলেও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কের ধসের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে কোনো ধরনের কারিগরি ত্রæটি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই ধসের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, কাজ শেষ হওয়ার পথে থাকা একটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের সড়কে কেন এমন সমস্যা দেখা দিল। নির্মাণের সময় মাটির ধারণক্ষমতা, সড়কের নিচের স্তরের প্রস্তুতি, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কিংবা নির্মাণসামগ্রীর মান যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না এসব বিষয় এখন সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কের ওপরের পিচের স্তরে ফাটল দেখা দিলেই শুধু সেটিকে সংস্কার করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। যদি নিচের মাটি বা বেজ স্তরে দুর্বলতা থাকে, তাহলে ওপর থেকে বালু-সুড়কি কিংবা নতুন পিচ দিয়ে সংস্কার করলেও কিছুদিন পর আবার একই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ধসের কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি সড়কের নিচের স্তরের গুণগত মানও পরীক্ষা করা জরুরি।
এদিকে ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে নারায়ণগঞ্জের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। রাজধানীর সঙ্গে চট্টগ্রামসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করতে এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক জোড়াতালি দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি দ্রæত স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ধসের কারণ নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করে কোনো নির্মাণগত ত্রæটি পাওয়া গেলে তার দায়ও নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কারণ, প্রায় ৩ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়ক শুধু একটি যোগাযোগপথ নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই যদি এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ব্যয় ও ভোগান্তি এড়াতে এখনই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এর আগে সড়কটি দেবে যাওয়ার পর ঢাকা বাইপাস সড়ক চারলেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ আসলাম আলী তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের বলেন, টানা দুই তিন দিনের বৃষ্টির কারণে সড়কের ঢাকা অংশের মাটি নরম হয়ে পড়ে। তার উপর সড়ক দিয়ে ভারী ভারী যানবাহন চলার কারণে সড়কের নরম হওয়া মাটি সরে যাওয়ার কারণে রাস্তা দেবে গেছে। এ কারণে বেশ কিছু জায়গাজুড়ে সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে ডেভেলপমেন্টে কোম্পানী লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা জরুরীভাবে ডাইভারশন সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। যেখানে মাটি সরে গেছে সেখানে ড্রিল করে নতুন করে রাস্তা মেরামত করা হবে।
তবে কি কারণে সড়কটি এমন জোড়াতালি দেওয়া হলো এবং এ বিষয়ে বর্তমান তথ্য জানতে রোববার একাধিকবার তাকে কল দেওয়া হলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি।





































আপনার মতামত লিখুন :