News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

ভোটের মাঠে এগিয়ে শাহ আলম


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম ভোটের মাঠে এগিয়ে শাহ আলম

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায় ভোটের মাঠে এগিয়ে রয়েছেন মো. শাহ আলম যিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নেমেছেন। আর এই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাকে সাদরে গ্রহণ করে নিয়েছেন। যা বিএনপি দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর বেলায় পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তিনি ভোটারদের কোনোরকম মনযোগই আকর্ষণ করতে পারছেন না।

মো. শাহ আলম স্বতন্ত্র প্রতীর পাওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায় সরব প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন। সেই সাথে ভোটারাও তাকে সাদরে গ্রহণ করছেন। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই যেন গণজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। দল মত নির্বিশেষে সকলেই তাকে সমর্থন করবেন বলে জানান দিচ্ছেন। আর তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা প্রার্থীকে এলাকাবাসী যেন চিনছেনই না। সেই সাথে প্রার্থী তেমন সারা জাগাতে পারছেন না।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসন এলাকায় অনেক আগে থেকেই জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন মোহাম্মদ শাহ আলম। যিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। কিন্তু বারবার নির্বাচনী সমীকরণে তাকে পিছনে টেলে দেয়া হয়। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসন এলাকায় তার জনপ্রিয় অবস্থান ধরে রেখেছিলেন।

বরং আগের চেয়ে তিনি আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তার নির্বাচনী এলাকায়। কারণ গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রভাবশালী নেতারা নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে আসলেও শাহ আলম ছিলেন একেবারেই প্রভাবমুক্ত। কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো রকমের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করতে পারবে না। একই সাথে বিভিন্ন নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হলেও শাহ আলমের বিরুদ্ধে কেউ চাঁদাবাজির অভিযোগ করতে পারে নি।

পাশাপাশি শাহ আলমের কোনো বাহিনী নেই। তার কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী। অথচ বর্তমানে এমন কোনো নেতা পাওয়া যাবে না যার কোনো বাহিনী নেই। নেতারা যেখানেই গিয়ে থাকেন সেই সাথেই তার বাহিনী ঘিরে থাকেন। কিন্তু এক্ষেত্রে একবারেই ব্যতিক্রম শাহ আলম। আর এজন্যই নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসন এলাকায় তার ক্লিন ইমেজ রয়েছে। সেই সাথে সংসদ সদস্য পদে জয়ী হওয়ার মতো তার অবস্থাও রয়েছে।

এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর নাম ঘোষণা করা হয়। সেই সাথে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তার দলীয় খেজুর গাছ নিয়ে ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন। যা বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। বিএনপি দলীয় অনেক নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভও সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের সাথে সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। এই অবস্থায় একদম খালি মাঠে রয়েছে বিএনপি। সেই সাথে সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারেও আলাপ আলোচনা শুরু হয়।

যার ধারাবাহিকতকায় নারায়ণগঞ্জের বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও নিজেদের নানানভাবে জানান দিয়ে আসছিলেন। তারই অংশ হিসেবে শাহ আলম বেশ জোরেশোরে নিজেকে জানান দিয়ে আসতে শুরু করেন। সেই সাথে বিভিন্ন সভা সামবেশের মধ্য দিয়ে নিজেকে জানান দিতে থাকেন। একই সাথে এবার ভোটের মাধ্যমেও বিভিন্নভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিপরীতে নিজেকে অনেক এগিয়ে রেখেছেন।

এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোহাম্মদ শাহ আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও নাটকীয়ভাবে শেষ মুহূর্তে এসে ২০-দলীয় জোটের উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিলো।

তার আগে, ২০০৮ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ শাহ আলম আওয়ামী লীগের প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে মাত্র ২ হাজার ১০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।