News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

পরিচিতি নিয়ে টানাটানি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম পরিচিতি নিয়ে টানাটানি

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোহাম্মদ আলী বলেছেন, এই আসনে বিএনপি অনেকে নমিনেশন চেয়েছিলো। শাহ আলম চেয়েছিলো, গিয়াসউদ্দিন সাহেব চেয়েছিলো, কিন্তু কাউকে দেয়নি। জোটের একটি প্রার্থীকে দিসে, তার মার্কা হলো খেজুর গাছ। তাকে কিন্তু এই এলাকায় কেউ চিনে না। সেই তো এই এলাকা থাকতো কিনা জানি, বনানীতে থাকতো সে তো পরিচিত না। ২৫ জানুয়ারি রোববার এনায়েতনগর ইউনিয়নের পুলিশ লাইনস্থ এলাকায় ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন।

এদিকে ‘অপরিচিত’ মুফতি কাসেমীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানিয়েছেন মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি মনোনয়ন বঞ্চিত মাসুদুজ্জামান মাসুদ।

বিএনপির মনোনীত হওয়ার আগেই মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় মাসুদুজ্জামান মাসুদকে শহর-বন্দরে এমপি হিসেবে দেখার আহবান জানিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী। ওই সময়ে মোহাম্মদ আলীকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী হলে পাশে থাকার ঘোষণা দেন ভাতিজা মাসুদ। মোহাম্মদ আলী তার বক্তব্যে বলেছিলেন, মাসুদুজ্জামান মাসুদকে আমি ‘বাজান’ বলে ডাকি।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী রেখে তার প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীকে সমর্থন দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত ও নব্য যোগদানকারী মাসুদুজ্জামান মাসুদ।

২৪ জানুয়ারি বিকালে তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে মাসুদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি আসনে আমাদের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে হলে দল ও জোটের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য প্রয়োজন। মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী রাজপথের পরীক্ষিত নেতা। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। তাই রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের স্বার্থে তাকে বিজয়ী করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দলীয় আদর্শ ও গণমানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ, খেজুর গাছ মার্কার বিজয় মানেই হবে এ দেশের সাধারণ মানুষের বিজয়। এ সময় সকল স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা কোনো দ্বিধা না রেখে মুফতি কাসেমীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানান মাসুদুজ্জামান মাসুদ।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের আগেই ‘বাজান’ মাসুদুজ্জামান মাসুদকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত করার ঘোষনা আগে সমর্থন দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী। গত বছরের ১৩ অক্টোবর মোহাম্মদ আলী বলেন, মাসুদুজ্জামান আমার বাজান। আমি তাকে বাজান বাজান বলেই ডাকি সবসময়। আপনারা যারা এখানে উপস্থিত আছেন, আপনারা সবাই বলছেন যদি নমিনেশন দেয়; নমিনেশন দেয় মানেটা কী? আপনারা যারা সদর-বন্দরের মুক্তিযোদ্ধা ভাই আছেন, তারা চান এলাকার লোক। এলাকার লোক তো মাসুদ ছাড়া আর কেউ নাই। সে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক, তার বাবা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার তল্লা এলাকায় স্থাপিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণে মাসুদুজ্জামানের অর্থায়নের কথাও তুলে ধরেন মোহাম্মদ আলী। আপনারা যারা বন্দর ও সদরের লোকজন আছেন তাদের সবাইকে আমি অনুরাধ করবো, যদি আগামী দিনে মাসুদুজ্জামান মাসুদকে নমিনেশন দেয়, আমরা অবশ্যই এলাকার লোক হিসেবে তাকে পাস করিয়ে নিয়ে আসতে পারবো।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৫ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ বলায় বিএনপি জামায়াতে ইসলামী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রোষানলে পড়েন মোহাম্মদ আলী। এক ব্যবসায়ী আড়ালে মহানগর বিএনপি সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু ওই সময়ে মোহাম্মদ আলীকে দোসর আখ্যা দিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস পালনে অনুপস্থিত রাখেন। যার কারণে উত্তপ্ত পরিস্থিতি মধ্যে ৫৪ বছর দিবসে থাকতে পারেনি মোহাম্মদ আলী। এর ৭ মাস পরই বাজান মাসুদুজ্জামান মাসুদকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে বিএনপি মনোনীত করার লক্ষ্যে সমর্থন দেন মোহাম্মদ আলী নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা।