News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনে মাসুদুজ্জামানের দায়সারা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম নির্বাচনে মাসুদুজ্জামানের দায়সারা

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত হয়েছিলেন শিল্পপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। ১৬ ডিসেম্বর তিনি সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেন নির্বাচন করবেন না। ২দিন পর ফের ঘোষণা দেন নির্বাচনের মাঠে থাকবেন। এ কারণে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। কিন্তু দল শেষ পর্যন্ত তার উপর আস্থা রাখেনি। মনোনয়ন তুলে দেন সাবেক তিনবারের এমপি আবুল কালামের কাছে। এর পর নেতাকর্মীদের ডেকে ধানের শীষের জন্য নির্বাচন করার কথা বললেও সেটা নিছক মিডিয়ায় প্রকাশের জন্য। ঘনিষ্ঠজনেরা এখনো কেউ মাঠে নামেনি ধানের শীষের পক্ষে। তাদের একজন বলছেন, মাসুদুজ্জামান দায়সারা মনোভাব দেখাচ্ছেন। সে কারণেই কেউ নামছেন না। যদিও তিনি পাশের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোট প্রার্থী মনির কাসেমীর জন্য আটঘাট বেধে নামতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে যোগদান করেন এক সময়ে ১১নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ও মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এরপরই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তিনিই বিএনপির মনোনয়ন পাবেন এমন নিশ্চিত ছিলো মহানগরের একাংশ নেতাকর্মীরা। এর পর্যায়ে দেড় মাসের ব্যবধানে ৩ নভেম্বর বিএনপি প্রাথমিক ঘোষনায় মাসুদুজ্জামান মাসুদকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনীত করে ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এতে নতুন করে আলোচনা সমালোচনা মধ্যে দ্রুত বিদেশ থেকে ফিরে মনোনয়ন বঞ্চিতদের সাথে সাক্ষাৎ করে সহযোগিতা পায়নি মাসদুজ্জামান। এক পর্যায়ে ১৫ নভেম্বর মনোনয়ন বঞ্চিত এক টেবিলে বসে তার বিরোধীতা করেন এবং চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষার কথ জানান। তার প্রায় ১ মাস লাগাতার শহর-বন্দর গণসংযোগ ও ৩১ দফা লিফলেট বিতরণে সক্রিয় ছিলেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ।

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ঘোষণা মাসুদুজ্জামান। এতে করে তার অনুসারী ও মহানগর বিএনপি নেতা-কর্মীদের কপালে ভাজ পড়ে। এ সময় তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। পরিবারের অনুরোধে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এবং তিনি মনোনয়নপত্রও কিনবেন না।

এরপরও মাসুদুজ্জামানের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে টানা তিনদিন রাজপথে নেমে পড়েন তার অনুগামীরা। এতে ১৯ ডিসেম্বর নেতা-কর্মীদের টানা চাপের মুখে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাল্টে ভোটের মাঠে ফেরার ঘোষণা দেন মাসুদ। এমন সুযোগে ১৯ ডিসেম্বর রাতে মনোনয়নের আশ্বাস পান মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি পরদিন ২০ ডিসেম্বর তাকে মনোনীত করা হয়েছে বলে প্রচার চালিয়ে বিভিন্ন নেতাকর্মী ও মনোনয়ন বঞ্চিতদের বাড়িতে ছুটে যান।

পরবর্তিতে ২৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা ফেসবুকে তার বাবা আবুল কালামকে দলের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে জানিয়ে পোস্ট দেন। এতে আবারো মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে দ্রুত সময়ে দলের সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করেন। দল থেকে লিখিত ও মৌখিক কোন সিদ্ধান্ত না আসায় ২৬ ডিসেম্বর মাসুদুজ্জামানের পক্ষে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা জেলা নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন নেতারা। 

মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেও ২৯ ডিসেম্বর শেষ দিনেও মনোনয়ন জমা দেয়নি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। বরং বিএনপি মনোনীত আবুল কালামকে মুরব্বী সম্মানীত করে মনোনয়ন জমা দেয়নি ও তাকে জয়ী করার বার্তা দেন তিনি।

৬ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে স্মরণ সভা ও ১৯ জানুয়ারি শহীদ জিয়ার জন্মাবার্ষিকীকে আবুল কালামকে জয়ী করতে মহানগর বিএনপি ও অনুসারীদের নিদের্শেনা দিলেও এখনো নির্বাচনে মাঠে নামেনি মাসুদুজ্জামান মাসুদ। ইতোমধ্যে মাসুদুজ্জামানের অনুসারী শওকত হাসেম শকু ও মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ পৃথকভাবে আবুল কালামের ভোট চেয়েছেন। এখনো প্রকাশ্যে নামেনি মহানগর বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক আবদুস সবুর খান সেন্টু, আনোয়ার হোসেন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আতাউর রহমান মুকুল সহ একাধিক শীর্ষ নেতারা।