News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২

বহিষ্কৃত প্রার্থীরা আলোচনায়


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম বহিষ্কৃত প্রার্থীরা আলোচনায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই কাছে আসছে, ততই নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ হয়ে উঠছে আরও জটিল ও উত্তপ্ত। দলীয় সিদ্ধান্ত, জোট রাজনীতি, বহিষ্কার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থিতার টানাপোড়েনে জেলার রাজনীতি এখন কার্যত বহুমুখী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন শীর্ষ নেতার অবস্থান বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। মাঠপর্যায়ের হিসাব বলছে, দলীয় পরিচয় হারালেও ভোটের রাজনীতিতে তারা এখনো ভালো অবস্থানেই রয়েছেন।

বিশেষ করে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক শীর্ষ নেতা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আলম, সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর এবং অভিজ্ঞ নেতা রেজাউল করিম এই চার বহিষ্কৃত নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। জয় বা শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারলেই তাদের জন্য দলীয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে এমন বাস্তবতায় তারা সবাই নির্বাচনী মাঠে মরিয়া।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে। সেই সিদ্ধান্তে জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জমিয়তের জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী। তবে এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ মেনে নিতে পারেননি। এরই ধারাবাহিকতায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলম। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পরে তাদের বহিষ্কার করা হলেও নির্বাচনী বাস্তবতায় তারা এখনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই বিবেচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখনো একটি বড় ফ্যাক্টর। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির নেতৃত্বে থাকার সুবাদে সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও শক্ত ভিত দিয়েছে। বহিষ্কারের পরপরই মাঠে নেমে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাওয়ায় তার অবস্থান দিন দিন আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।

একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলমও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেতা দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তার সমর্থক গোষ্ঠী এখনো সক্রিয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তার অংশগ্রহণ এবং সে সময়কার রাজনৈতিক যোগাযোগ আজও তার পক্ষে কাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন একক কোনো প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি বহু-মুখী লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। এখানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও এলাকায় পরিচিত মুখ হওয়ায় আঙ্গুরের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের স্বস্তির সুযোগ খুব একটা নেই। তার বিপরীতে মাঠে রয়েছেন বহিষ্কৃত দুই নেতা রেজাউল করিম এবং মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। দুইজনই সাংগঠনিকভাবে পরিচিত ও নির্বাচনী অভিজ্ঞতায় এগিয়ে। ফলে এই আসনেও ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা প্রবল, যা শেষ পর্যন্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বহিষ্কার এখন আর শেষ অধ্যায় নয়; বরং অনেকের জন্য এটি নতুন লড়াইয়ের সূচনা। দলীয় পরিচয় হারালেও ব্যক্তিগত প্রভাব, সাংগঠনিক সম্পর্ক এবং মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে বহিষ্কৃত প্রার্থীরা এখনো ভালো অবস্থানেই রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত কারা টিকে থাকবেন আর কারা রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু করবেন তার উত্তর দেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন।