ফেব্রুয়ারি মাস এলেই শহরের অলিগলি রঙিন হয়ে ওঠে ভালোবাসার আবেশে। লাল গোলাপ, হৃদয়চিহ্নে মোড়া কার্ড আর ঝলমলে উপহারের সাজ যেন জানান দেয় ভালোবাসা দিবস এসে গেছে। এই দিনে প্রিয় মানুষটিকে বিশেষভাবে অনুভব করানোর আকাঙ্ক্ষা সবার মনেই কাজ করে। কিন্তু দোকানের শোকেসে সাজানো দামি উপহারের ভিড়ি দাঁড়িয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন কি দিলে সত্যিই ভালোবাসা প্রকাশ পাবে?
বাস্তবে উপহার শুধু একটি বস্তু নয় এটি অনুভূতির প্রতীক। দামের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ভাবনা যত্ন আর আন্তরিকতা। যে উপহার প্রিয়জনের রুচি ও মনের কথা বুঝে বেছে নেওয়া হয়, সেটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে মূল্যবান। ভালোবাসা দিবস তাই বাহ্যিক চাকচিক্যের নয়, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ছোট ছোট অনুভূতির উদযাপন।
ফুল
ফুল চিরকালীন ভালোবাসার প্রতীক। ভালোবাসা দিবসে ফুলের আবেদন কখনো পুরোনো হয় না। বাতাসে যখন প্রেমের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে, তখন হাতে একগুচ্ছ ফুলই যেন হয়ে ওঠে অনুভূতি প্রকাশের সবচেয়ে সহজ ও সুন্দর মাধ্যম। মুখে না বললেও ফুল বলে দেয় মনের কথা।
ভালোবাসা প্রকাশে লাল গোলাপ সবচেয়ে জনপ্রিয় হলেও প্রিয়জনের পছন্দ অনুযায়ী হলুদ, গোলাপি, সাদা গোলাপ, রজনীগন্ধা, কাঠগোলাপ, জারবেরা, অর্কিড বা টিউলিপ যেকোনো ফুলই হতে পারে সুন্দর উপহার। ফুলের সঙ্গে ছোট একটি নোট, তাতে যদি শুধু ভালবাসি লেখা থাকে তবুও উপহারটি হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ।
হাতে তৈরি কার্ড
ডিজিটাল বার্তা আর ইমোজির ভিড়ে হাতে তৈরি কার্ড আজ এক ধরনের নীরব বিলাসিতা। ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনকে একটু বিশেষ অনুভব করাতে চাইলে হাতে বানানো একটি কার্ড হতে পারে সবচেয়ে আন্তরিক উপহার।
এই কার্ডের প্রতিটি রঙ, ভাঁজ আর লেখায় মিশে থাকে সময়, যত্ন ও আবেগ, যা কোনো প্রস্তুত কার্ডে খুঁজে পাওয়া যায় না। নিজের হাতের লেখায় লেখা কয়েকটি লাইন, ছোট কোনো স্কেচ বা দু’জনের স্মৃতির কোনো ইঙ্গিত এসবই কার্ডটিকে করে তোলে আলাদা। এতে দামি কাগজ বা নিখুঁত ডিজাইন না থাকলেও অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ থাকে।
বই
ভালোবাসা দিবসের উপহার হিসেবে বই অনন্য এক বিকল্প। বইয়ের প্রতিটি ভাঁজে মিশে থাকে শীতল অনুভূতি। কারো পছন্দ রোমান্টিক কবিতা, কারো পছন্দ থ্রিলার গল্প, কেউ ভালোবাসে উপন্যাসে নিজেকে খুঁজতে। প্রিয়জনের পছন্দ, রুচি ও ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী বই হতে পারে দীর্ঘ জীবনের স্মৃতির বাহক।
কাস্টমাইজড সামগ্রী
আজকাল উপহার মানেই আর শুধু বাজারের প্রি-মেড জিনিস নয়। মানুষ চায় আলাদা কিছু, যেখানে থাকবে ব্যক্তিগত ছোাঁ। প্রিয়জনের নাম খোদাই করা লকেট, চাবির রিং, মানিব্যাগ, ছবি প্রিন্টেড মগ, কাপল টি-শার্ট বা কাপল ঘড়ি এসব উপহার করে তুলতে পারে দিনটিকে আরও বিশেষ।
সুগন্ধি মোমবাতি বা অ্যারোমা ক্যান্ডেল
সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে যখন প্রিয়জন ঘরে ফেরে তখন ক্লান্ত মন আর ভারী শরীর একটু প্রশান্তির খোঁজে থাকে। ঠিক তখন যদি একটি সুগন্ধি মোমবাতি জ্বলে ওঠে, মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে যায়। মৃদু সুবাস যেন দিনের সব ক্লান্তি ধুয়ে মুছে দিতে শুরু করে।
এই ছোট্ট আয়োজন প্রিয়জনের মনে এনে দেয় আরাম ও স্বস্তির অনুভূতি। ভালোবাসা দিবসে এমন একটি উপহার জানিয়ে দেয় ভালোবাসা মানে শুধু আনন্দ নয়, প্রিয় মানুষের বিশ্রাম ও শান্তির কথাও ভাবা। প্রতিবার মোমবাতি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুভূতি মনে পড়ে, নীরবে, গভীরভাবে।
ঘরের সাজের ছোট সামগ্রী (হোম ডেকোর):
ভালোবাসা দিবসের উপহার হিসেবে ঘরের সাজের সামগ্রী হতে পারে রুচিশীল ও দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য। বর্তমানে ঘর সাজানোর জন্য নানা ধরনের নান্দনিক সামগ্রী সহজেই পাওয়া যায়, যা ঘরের পরিবেশে আলাদা মাত্রা যোগ করে।
যেমন ডেকোরেটিভ ট্রে, সিরামিক বা টেরাকোটা ফুলদানি, কাঠ বা মেটালের শোপিস, দেয়ালে ঝোলানো ওয়াল ডেকোর, শো-কেস বা সাইড টেবিলের জন্য ছোট আর্ট পিস, ক্যান্ডেল হোল্ডার বা টেবিলটপ ভাস্কর্য। এগুলো ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত রুচির প্রকাশও করে।
সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান উপহার
সব উপহারের ঊর্ধ্বে যে উপহারটি সবচেয়ে প্রয়োজনীয়, তা হলো সময়। কর্মব্যস্ত জীবনে প্রিয়জনের জন্য একটু সময় বের করা, মন খুলে দু’চারটি কথা বলা, একসাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়া বা তার পছন্দের রান্না নিজের হাতে করে খাওয়ানো এসব ছোট ছোট যত্নই ভালোবাসাকে সত্যিকার অর্থে অনুভব করায়।
ভালোবাসা দিবসে দামি উপহার না থাকলেও যদি থাকে আন্তরিক উপস্থিতি ও যত্ন, তাহলেই সেই দিনটি হয়ে ওঠে সবচেয়ে সুন্দর।



































আপনার মতামত লিখুন :