ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নিবাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) বিএনপির জোটের মনোনীত প্রার্থী বিরোধীতায় লাগাতার বহিস্কার ও বহিস্কাদেশ প্রত্যাহার নিয়ে থানা বিএনপি ধ্বস নেমেছে। একই সাথে সাড়ে ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির জোট প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় দলের নেতাকর্মীরা আরো চাপে পড়েছেন। এর ফলে ফতুল্লায় বিএনপি রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজে সক্রিয় নেতা পাওয়া নিয়ে এখন চলছে আলোচনা সমালোচনা। প্রায় ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মীদের বহিস্কার ওয়ার্ড কমিটি স্থগিত হওয়া পাশাপাশি আসনটি হেরে যাওয়া ফতুল্লা বিএনপি বিপদ সীমানায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন জমা শেষ সময় অতিক্রম হয় গত বছর ২৯ ডিসেম্বর। এতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জোট প্রার্থী বিরুদ্ধে বিএনপির তিন হেভিওয়েট নেতা সু-কৌশলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে বিএনপি সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হন। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও শিল্পপতি শাহ আলমকে বহিস্কার করে বিএনপি হাইকমান্ড। যার কারণে গত বছর ৩০ ডিসেম্বর থেকে ফতুল্লা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন চার ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। পরদিন তাকে আবারো বহিস্কার আদেশ বহাল রেখে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এর তিন সপ্তাহে ব্যবধানে ২১ জানুয়ারি আবার সেন্টুর বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করে নেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি এ সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে তার আবেদনের পর দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে প্রাথমিক সদস্য পদে পুনর্বহাল করা হয়।
১ ফেব্রুয়ারি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা বিএনপির ১০ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বহিষ্কৃতদের সঙ্গে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, ফতুল্লা থানা বিএনপির সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ মোল্লা, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বিল্লাল হোসেন, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আলী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিপ্লব ও মো. মুসলিম আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্তার খন্দকার, থানা বিএনপির সদস্য জাহিদ হাসান রোজেল, নজরুল ইসলাম পান্না ও আলম এবং কুতুবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত এসব নেতা দলের নির্দেশনা অমান্য করে বিএনপির আরেক বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহ আলমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।
এক সপ্তাহে ব্যবধানে ৮ ফেব্রুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ২০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মাহমুদ পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে।
বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা হলেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সেলিম, সদস্য মাখলেকুল মান্নান পায়েল, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ জাকির হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবুল, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ডালিম, সহ-সভাপতি সফিউর রহমান রাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রহিমা আক্তার, প্রচার সম্পাদক তপু রহমান, সদস্য হানিফ শেখ, আবুল হেসেন খোকন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. শহিদ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অর্থ সম্পাদক ডা. জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য মাজহারুল ইসলাম, মেস্তাক আল মামুন, মিছির আলী ও সোহরাব হোসেন।


































আপনার মতামত লিখুন :