মাত্র ৬ মাস পূর্বেও একজন শিল্পপতি দাপটে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতি যেন এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলো। দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিলেন, ওই শিল্পপতির আগমনের পর যেন রাজপথ থেকে উঠে আসা সেই সকল নেতারা মিইয়ে যাচ্ছিলেন। ঢাকায় বিএনপির গুলশানের কার্যালয়ে ঘটা করে জমকালো যোগদান, বিএনপির সহযোগী ইউনিট গুলোকে একের পর এক নিজের পক্ষে টেনে নেওয়া সব শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণায় প্রথম পছন্দে চলে এসে সবাইকে চমকে দিয়ে মহানগর বিএনপির বাতাস উত্তর দিকে বইয়ে নিয়ে গিয়েছিলো। ওই শিল্পপতির নাম মাসুদুজ্জামান মাসুদ। যিনি মডেল মাসুদ নামেই বেশি পরিচিত। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে প্রথমে মাসুদুজ্জামান মাসুদকেই দলীয় মনোনয়ন দিয়ে ছিলেন বিএনপি। সে সময় মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যান্য নেতাদের মধ্যে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর বিএনপি নেতা আবু জাফর বাবুল। মাসুদকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে সেই তৃণমূলকে বঞ্চিত করা হয়েছে এমন দাবিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক মঞ্চে চলে আসেন। তখন তারা অনেকটাই কোনঠাসা ছিলেন। কারণ ইতোমধ্যে সহযোগিত সংগঠন গুলো তাদেরকে ছেড়ে মডেল মাসুদের দিকে ঝুকে গিয়ে ছিলেন। এর মধ্যে মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্য থেকে আবু আল ইউসুফ খান টিপুও মডেল মাসুদের দিকে চলে যায়।
কিন্তু অনেকটা সবাইকে চমকে দিয়ে হঠাৎ ১৬ ডিসেম্বর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ। যদিও ২৪ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি আবারো নির্বাচনে ফেরার ঘোষণা দেন। কিন্তু তার পরিবর্তিত সেই সিদ্ধান্ত আর আমলে নেয়নি কেন্দ্র। শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সাবেক তিনবারের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের উপর আস্থা রাখেন তারেক রহমান। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে এ আসন থেকে জয় লাভ করে এমপি নির্বাচিত হয়েছে আবুল কালাম। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণলয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে মহানগর বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন খানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি নবনিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। সাখাওয়াত হোসেন খানের দায়িত্ব গ্রহণের দিনে দলে দলে দলীয় নেতাকর্মীরা সাখাওয়াত হোসেনে কাছে ছুটে আসেন। যারা মাসুদুজ্জামান মাসুদের দিকে ঝুকে ছিলেন, সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী পক্ষে আন্তরিক ভাবে কাজ না করার অভিযোগ রয়েছে সেই সকল নেতারাও বুধবার নগর ভবন ছুটে গিয়েছিলেন। মহানগর বিএনপির রাজনীতির বাতাস যেন উত্তর দিক থেকে বুধবার দক্ষিণে অতিবাহিত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম পর্যায়ে দলীয় প্রার্থী বঞ্চিতরা হতাশ হলেও দল শেষ পর্যন্ত মাঠের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেছেন। ত্যাগীদের তাদের যোগ্য স্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন এর এমন সম্মানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির তৃণমূল থেকে আবারো ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ দল থেকে ইতোমধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে রাজপথ কখনো অবমূল্যায়ন করেনা। দলের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করবে দল তাদের মূল্যায়ন করবে।

































আপনার মতামত লিখুন :