বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নের দাশেরগাঁও শ্মশানের বাগ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি ফসলি জমি থেকে মাটিকাটা। বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে গিয়ে সেখানে ভেকু লাগিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে ভর্তি করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
এদিকে ওই জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণে আশেপাশের বসত বাড়িগুলো ধ্বসে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা ওই সকল প্রভাবশালী মাটি খেকোদের ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পায়না।
বাংলাদেশে ভূমি সংরক্ষণ ও মাটি কাটা সংক্রান্ত প্রধান আইন অনুয়ারি বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা ২০১০ (২০২৩ সালে সংশোধিত আইন অনুযায়ী, পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা, সেতু, সড়ক, বা আবাদি জমি থেকে মাটি/বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। বসতবাড়ির প্রয়োজনে শুধুমাত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নিয়ে সীমিত পরিসরে মাটি কাটা যাবে।
সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামোর ১ কিলোমিটারের মধ্যে মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কিন্তু এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করে দাশেরগাঁও শ্মশানের বাগ এলাকায় বসতবাড়ির আশে পাশে ইটভাটা জন্য মাটি কেটে যাচ্ছে জৈনক আলম নামের একজন। তিনি তার মালিকানাধীন মেসার্স মামা ভাগিনা ব্রিকস এর জন্য মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, এভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের বাড়িঘর ধ্বসে পড়ে যাওয়ার ভয় রয়েছে। এখানে উপজেলা থেকে লোক আসছিলো আমরা তাদেরকে আমাদের সমস্যার কথা বলেছি। কিন্তু উনারা শিক্ষিত মানুষ আমাদের মূর্খ মানুষের ভাষা কি তারা বুঝবে। মাটি কাটার ফলে আমাদের বাড়ির সামীনার মাটি অনেকটা ধ্বসে পড়ে গেছে।
বন্দর উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) রহিমা আক্তার ইতির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভূমি সংরক্ষণ আইনে কেউ ফসলি জমি অথবা আশেপাশের বসত বাড়ির জমির মাটি কেটে নিয়ে যেতে পারেনা। আমরা এই মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করছি। এছাড়া বিভিন্ন সময় থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ আসছে, কিন্তু এটা থামানো যাচ্ছে না। যদি কেউ ভূমি আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি হয় তাহলে আমরা সেই মামলা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
অন্যদিকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে মাটি কাটার অপরাধে ৬০ হাজার টাকা জরিমানার পরেও জৈনক আলম কিভাবে ওই স্থান থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা আবারো সেখানে অভিযান পরিচালনা করবো। এর আগে অভিযান চালিয়ে ভেকু নিয়ে এসেছিলাম। পুলিশ ও পাঠিয়ে ছিলাম কিন্তু এখন যদি আবারো তারা মাটি কাটে আমরা আবারো সেখানে অভিযান পরিচালনা করবো।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অবৈধ ভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বন্দরে ভ্রাম্যমান আদালত। ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাহিমা আক্তার ইতি নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত বন্দর উপজেলার দাঁশেরগাও এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে উল্লেখিত টাকা জরিমানা আদায় করে মাটি কাটা কাজ বন্ধ করে দেয়। অভিযানের পর ভ্রাম্যমান আদালত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পর ভূমিদস্যুরা একত্রিত হয়ে পুনরায় মাটি কাটার কাজ শুরু করে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, বন্দর উপজেলার কৃষি জমির মালিকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দাঁশেরগাও এলাকার কৃষি জমি অবাধে কেটে নিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করে আসছে কতিপয় ভূমিদস্যুরা। ইটভাটার কারণে বিপন্ন হচ্ছে বন্দরের পরিবেশ। সরকারি কৃষি খাস জমিসহ ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তি জোর পূর্বক কেটে নেওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে বন্দর উপজেলা পরিষদের সহকারি ভূমি কমিশনার রহিমা আক্তার ইতি নেতৃত্বে দাঁশেরগাও এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। অভিযানের পর মাটি কাটা কাজ সাময়িক ভাবে বন্ধ থাকলেও ভ্রাম্যমান আদালত চলে যাওয়ার পর মাটি খেকুদের কার্যক্রম শুরু করার খবরের র্তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে স্থানীয় এলাকাবাসী।





































আপনার মতামত লিখুন :