News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

জামানত হারিয়ে রাজনীতি থেকে ছিটকে সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১১:০৬ পিএম জামানত হারিয়ে রাজনীতি থেকে ছিটকে সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা

নারায়ণগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলোচিত কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও এমপি শেষ পর্যন্ত ব্যালটের লড়াইয়ে ভরাডুবির পর রাজনীতিতেও হুমকির মুখে পড়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে একে একে জামানত হারিয়েছেন তারা। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গণে তাদের অবস্থান নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আইন অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এবারের নির্বাচনে সেই শর্ত পূরণ করতে পারেননি নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন দৌর্দান্ড প্রভাবশালী নেতা।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার)

নারায়ণগঞ্জ ২  আসনে মোট বৈধ ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৩ জন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েন সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর। তিনি পেয়েছেন ১৮ হাজার ৭৪৪ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোটের ১২.৫ শতাংশের কম পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে একসময় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এই নেতার এমন ফলাফল দলীয় ও তৃণমূল পর্যায়ে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনে মোট বৈধ ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৫২ জন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম এবং সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন। এর মধ্যে রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৬৯ ভোট এবং গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট। দুজনই প্রয়োজনীয় ভোটের হার অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় জামানত হারিয়েছেন। 

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর)

নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে মোট বৈধ ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৬২ হাজার ৭২৯ জন। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন গিয়াস উদ্দিন। পাশাপাশি বিআরপি থেকে নির্বাচন করেন সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী। গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৭৯ ভোট এবং মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ১১ হাজার ৩২৮ ভোট। তারাও জামানত রক্ষা করতে পারেননি। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক ও সংগঠনের শক্তি ছাড়া নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যক্তিগত প্রভাব বা অতীতের জনপ্রিয়তা এবার ভোটে প্রতিফলিত হয়নি। বরং দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে নেতাদের সাংগঠনিক সমর্থন দুর্বল হয়েছে। কর্মিরা ধীরে ধীরে সরতে শুরু করেছেন। বুঝতে পেরেছেন যে, নেতাদের আগের মত সক্ষমতা আর নেই। বরং তারা খুজে নিচ্ছেন শক্ত সমর্থ নেতার আশ্রয়। 

ভোটের এই ফলাফল নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বড় বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ক্ষমতার রাজনীতিতে থাকা সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা এখন কার্যত রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা। সামনে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।