২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন সাত খুন হত্যার বাদী পক্ষের আলোচিত আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান। কিন্তু ওই সময়ে তিনি বৈতরণী পার হতে পারেনি। আওয়ামী লীগের নেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ধরাশয়ী হন। ভোটে সেলিনা হায়াৎ আইভী (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) প্রতীক : নৌকা পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট। সাখাওয়াত হোসেন খান (জাতীয়তবাদী দল বিএনপি) প্রতীক : ধানের শীষ পেয়েছেন ৯৬ হাজার ০৪৪ ভোট। প্রায় ৯ বছর পর সেই সাখাওয়াত এবার সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে। সরকার তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। বর্তমান সিটি করপোরেশনের মেয়ার শেষ হওয়ার পর নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনিই প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। আর এ সময়টাকে বেশ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে তাঁকে। ২০২৪ এর ৫ আগস্টে হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের যখন সবকিছুতেই অচলাবস্থায় নগরবাসীকে ভুগতে হচ্ছে তখন সকল কর্মকাণ্ডে গত ফেরানো ও নগরবাসীর চাহিদা মেটানোর এক কঠিন পথের সারথি হচ্ছেন সাখাওয়াত।
২৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কাছে প্রশাসকের দায়িত্বে জমা দেন।
বুধবার সকাল ৯টায় তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এমপি আবুল কালাম, জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু সহ জেলা ও মহানগরের দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নগরভবনে প্রবেশ করেন। এসময় সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি নির্ধারিত কক্ষে অফিস শুরু করেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ২১ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এএইচএম কামরুজ্জামান। প্রায় বছরখানেক দায়িত্ব পালনের পরে তাকে পরিবর্তন করে যুগ্ম-সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে নিয়োগ দেয়া হয় ।
মূলত নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সমস্যা হিসেবে পরিণত হয়েছে হকার, যানজট ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা। বিশেষ করে হকারমুক্ত ফুটপাত ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা অনেক বড় চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নতুন প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেও নিয়োগ পেয়েই এ বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। সেই সাথে ৬০ দিনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে থাকবেন বলে জানিয়েছেন।

































আপনার মতামত লিখুন :