News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেশীয় পাহাড়ি বন্যপ্রাণী পাচার প্রকৃতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয়


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | জোবায়ের হোসেন তামজিদ প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম দেশীয় পাহাড়ি বন্যপ্রাণী পাচার প্রকৃতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয়

দেশীয় পাহাড়ি বন্যপ্রাণী পাচার প্রকৃতির জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। প্রথমত, এই পাচারের শিকার প্রাণীগুলো যেমন পাহাড়ি হলুদ কচ্ছপ, চশমা পরা হনুমান, ধনেশ বা লজ্জাবতী বানর-এদের অনেকগুলিই ইতিমধ্যে বিপন্ন বা সংকটাপন্ন। নিয়মিত পাচারের কারণে এদের সংখ্যা দ্রুত কমে গেলে প্রজাতিগুলো বিলুপ্তির পথে চলে যায়, যা ফিরিয়ে আনা কার্যত অসম্ভব।

দ্বিতীয়ত, প্রতিটি প্রাণীই পাহাড়ি বাস্তুসংস্থানে নির্দিষ্ট ভূমিকা রাখে ধনেশ ও টিয়া পাখি বনের বীজ বাহক, পাম সিভেট পোকামাকড় ও ছোট প্রাণী নিয়ন্ত্রণ করে, সজারু মাটি ফুঁড়ে বাতাস ও পানি চলাচলের পথ তৈরি করে, আর কচ্ছপ জলাশয় পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। এসব প্রাণী সরিয়ে নেওয়ার ফলে বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ে, খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গাছপালার পুনরুজ্জীবন ব্যাহত হয়।

তৃতীয়ত, এই শৃঙ্খল ধ্বংস হলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস, পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়া এবং কীটপতঙ্গের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। একটি পাচারচক্র যেমন সাজুদ্দিন বা হাদিস রহমানের মতো ব্যক্তিদের মাধ্যমে কয়েকটি প্রাণী বিক্রি করে লাভবান হতে পারে, তেমনি পুরো একটি পাহাড়ি বন তার প্রাণসম্পদ হারিয়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

তাই এটি শুধু পশুপাখির সংকট নয়, বরং পুরো পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টেকসই জীবনের জন্য এক অশনি সংকেত। আমাদের দেশের ভালোর জন্য উচিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন আরো জোরদার করা এবং এধরণের অভিযান অব্যাহত রাখা।

সম্প্রতি ১৩টি পাহাড়ি হলুদ কচ্ছপ, ১২টি টিয়া পাখি, ৩টি ধনেশ, ৩টি চশমা পরা হনুমান, ৩টি লজ্জাবতী বানর, ৩টি এশিয়ান পাম সিভেট, ৩টি সজারু, ১টি ময়না ও ১টি ঈগল পেঁচা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীগুলো প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বন অধিদপ্তরে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে এদের উপযুক্ত পরিবেশে স্থানান্তর করা হবে। এই অভিযান বন্যপ্রাণী পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার উদাহরণ।

সদস্য সচিব, নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপি