ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের তিনটি স্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কথা রয়েছে। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ সবার আগে নির্মান করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন। নির্মাণের আগ পর্যন্ত সেখানে জেব্রা ক্রস, সতর্ককতা মূলক চিহ্ন এবং গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। তবে দুই মাসেও নির্মানকাজের কোন উদ্যোগ না নেয়ায় প্রশ্নে উঠেছে সওজের আগ্রহ নিয়ে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দুই পাশের মানুষকে নিরাপদে চলাচলের জন্য নেই কোন ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পয়েন্টে ওভারপাস এবং ইউলুপ থাকলেও প্রতিনিয়ত রাস্তা পারাপার হয় আরও ১০ থেকে ১২ টি স্থানে। যেখানে মানুষের চাপ কম থাকলেও মাঝেমধ্যেই পথচারীদের দৌড়ে পারাপার হতে দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্র্ণ ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকা। যেখানে একটি ওভারপাস নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা করা হয়নি।
এমন অবস্থায় সড়ক চালু হবার পর থেকে এই অংশে কেবল রাস্তা পাড় হতে গিয়ে একাধিক প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন নির্বাচনের আগেও এই স্থানে ফুটওভার ব্রিজের দাবীতে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচিত হবার পর পরেই এই স্থানে ফুটওভার ব্রিজের দাবী জানিয়েছেন সওজের কাছে।
গত ২৬ মার্চ ফতুল্লা স্টেডিয়াম এলাকায় সড়ক পারাপার হতে গিয়ে নিহত হন রানী মন্ডল (৫০)। একই ঘটনায় আহত হয় তার স্বামী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে এই স্থানে মৃত্যুর ঘটনায় এই এলাকার মানুষকে ফের একত্রিত করে তোলে এই স্থানে ফুটওভার ব্রিজের দাবীতে। দ্রুত এখানে ব্রিজ নির্মানের দাবী জানান এমপি আল আমিনের কাছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সকালেই মুঠোফোনে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোনে এই স্থানে দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এমপি আল আমিন। ছুটে যান নিহত রানী মন্ডলের বাড়িতে। সেখানে তার আহত স্বামীর খোঁজ খবর নেন এবং দ্রুত এই স্থানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মানের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান।
সওজ তাৎক্ষনিক জানায় এই লিংক রোডে তিনটি ব্রিজ নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, ফতুল্লা স্টেডিয়াম বাসস্ট্যান্ডের সামনে, জালকুড়ি কড়ইতলা বাসস্ট্যান্ডের সামনে এবং ভুইগড় রুপায়ন টাউনের সামনে। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্টেডিয়াম এলাকায় দ্রুত কাজ করার নির্দেশনা দেন আল আমিন। সেই সাথে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একাধিক সভায় এই ব্রিজ নির্মানে তাগাদা দেন তিনি।
তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি এই স্থানে। বিকল্প হিসেবে গতিরোধক পোস্ট এবং জেব্রা ক্রসিং দেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার হারও কমে এসেছে। তবে অস্থায়ী এসব উদ্যোগের চাইতে দ্রুত স্থায়ীভাবে ব্রিজ নির্মান করা জরুরী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বাসিন্দারা। প্রয়োজনে এমপির উচিৎ নিজ উদ্যোগে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দেয়া এবং কাজটি আদায় করে নেয়া।




































-20260603135648.jpg)
আপনার মতামত লিখুন :