প্রযুক্তির প্রসার, লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি এড়াতে ক্রমেই ডিজিটাল লেনদেনের দিকে ঝুঁকছে মানুষ। ঘরে বসে যখন সব সুবিধা মোবাইলের মাধ্যমেই পাওয়া যায়, তখন ব্যাংকে লাইন ধরার চিন্তা কেউ করবে না এটাই স্বাভাবিক। যে কারণে বাণিজ্য নগরী নারায়ণগঞ্জেও বেড়েছে ডিজিটাল লেনদেন। তবে ডিজিটাল লেনদেন বাড়লেও নারায়ণগঞ্জে ব্যাংকের এটিএম বুথ নিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই। শহরে প্রতিটি সরকারি বেসরকারি ব্যাংকের একাধিক শাখা রয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে কোন কোন ব্যাংকের একাধিক বুথ থাকলেও মানুষের চাহিদার যোগানদিতে পারছে না ব্যাংক গুলো। বিশেষ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথ কম থাকায় বিড়ম্বনা বাড়িয়েছে গ্রাহকদের।
জানা গেছে, নগদ টাকার ব্যবহার ক্রমেই কমে আসছে। কারণ এখন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা প্রতি মাসে ৯০ শতাংশের বেশি কেনাকাটা করেন ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। আর যেসব চাকরিজিবী বা ব্যবসায়ীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, তাঁরা ৩০ শতাংশের বেশি কেনাকাটা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে করে থাকেন। এর জন্য কেউ মোবাইল ব্যাংকিং, কেউ ইন্টারনেট ব্যাংকিং আবার কেউ কার্ড ব্যবহার করেন। বাংলা কিউআর পুরোপুরি চালু হলে এই লেনদেন আরো বাড়বে। ক্যাশনির্ভরতা কমবে। এতে প্রতিবছর ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ বাঁচবে সরকারের। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মোবাইল আর্থিক সেবা। শুধু অর্থ পাঠানোই নয়, অনেক নতুন সেবাও মিলছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা বিতরণ, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোসহ (রেমিট্যান্স) বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে। সে কারণেই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাধ্যমটি। বর্তমানে ১৪টি এমএফএস প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৯টি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) প্রতিষ্ঠান ই-ওয়ালেট ও ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা দিচ্ছে।
এগুলো হচ্ছে, আইপে সিস্টেমস লিমিটেড, ডি মানি বাংলাদেশ লিমিটেড, রিকারশন ফিনটেক লিমিটেড, গ্রিন অ্যান্ড রেড টেকনোলজিস লিমিটেড, প্রগতি সিস্টেমস লিমিটেড, এবিজি টেকনোলজিস লিমিটেড, ডিজিটাল পেমেন্টস লিমিটেড, সেবা ফিনটেক লিমিটেড এবং সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড। এই পিএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা ই-ওয়ালেট, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ও বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন সেবা প্রদান করে নগদবিহীন লেনদেন সহজ ও জনপ্রিয় করে তুলছে। এর ফলে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও সহজ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে দেশের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হচ্ছে।
তবে ডিজিটাল লেনদেনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলেও বাণিজ্যনগরী নারায়ণগঞ্জে ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা বুথ বিড়ম্বনায় ভুগছেন। নারায়ণগঞ্জে শহরে যমুনা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাক, সিটি ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ফাস্ট ট্র্যাকসহ প্রায় প্রত্যেকটি ব্যাংকের একাধিক শাখা রয়েছে। কোন কোন ব্যাংককের একাধিক বুথ রয়েছে। তার পরও মানুষের চাহিদার যোগানদিতে পারছে না ব্যাংক গুলো। যদিও গ্রাহকের প্রয়োজন এবং সুবিধার জন্য এসব বুথ করা হয়েছে কিন্তু এখন এই বুথ গুলো বিড়ম্বনা বাড়িয়েছে গ্রাহকদের। নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া ও আশেপাশে অনেকগুলো সরকারি বেসরকারি ব্যাংক থাকলেও পর্যাপ্ত এটিএম বুথ নেই। আর যেগুলোও আছে সেগুলোতে কার্ড আটকে যাওয়া, বুথে টাকা না থাকার সমস্যার পাশাপাশি রয়েছে দীর্ঘক্ষণ ব্যাংকের মত লাইনে দাড়িয়ে টাকা তোলার মত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। তার উপর বিদ্যুত না থাকা, যখন তখন নেটওয়ার্ক চলে যাওয়ার দোহাই দিয়ে বুথ বন্ধ করে দেয়া। মেশিনের কার্যক্ষমতা ধীর হয়ে যাওয়া। রিসিট পেপার না থাকা। ইত্যাদী সমস্যা নিয়েই নারায়ণগঞ্জের এটিএম বুথের সেবা চালিয়ে যাচ্ছে ব্যাংক গুলো। ফাস্ট ট্র্যাকগুলোতেও ব্যাংকের লাইনের মতো দাড়াতে হচ্ছে গ্রাহকদের। আর এতে দিন দিন ভোগান্তি বাড়ছে গ্রাহকদের। কোন কোন সময় এই ভোগান্তি গলায় কাঁটা বিঁধার মত অবস্থা সৃষ্টি করে। না পারে গিলতে আর না পাড়ে ওগরাতে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক গ্রাহকদের হাঁসফাঁস অবস্থা।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অনলাইন লেনদেন যত বাড়বে, আর্থিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনও ততই বাড়বে। পাশাপাশি নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমবে। বাঁচবে প্রতিবছর টাকা ছাপানোর পেছনে খরচ হওয়া সরকারের অর্থ। তবে ডিজিটাল লেনদেন মোবাইল ব্যাংকিং বাড়লেও নিরাপত্তার ঘাটতি এখনো রয়েই গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ডিজিটাল প্রতারক চক্রও সক্রিয় রয়েছে। তাই নারায়ণগঞ্জে ব্যাংকের এটিএম বুথ আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন গ্রাহকরা।









































আপনার মতামত লিখুন :