News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩

বিদায়ে হাহাকার, হৃদয় কাঁপেনি ছাত্রদের


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম বিদায়ে হাহাকার, হৃদয় কাঁপেনি ছাত্রদের

এক বুক কষ্ট নিয়েই প্রিয় প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিয়েছেন জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম দেওভোগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু তাহের জিহাদী। তার বিদায়ে চারপাশে হাহাকার থাকলেও হৃদয় যেন কাঁপেনি তার প্রিয় ছাত্রদের। যাদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে জ্ঞান বিতরণ করেছেন তারা যেন সেই জ্ঞান ধারণ করতে পারেনি।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাকে ফুলের মালা পড়িয়ে বিদায় জানালেও তার ছাত্রদের কেউই উপস্থিত ছিলো না বিদায়বেলা। সেই সাথে বিদায়ী বক্তব্যে চিৎকার করে ছাত্রদের উদ্দেশ্য তার মিথ্যাচারের কথা বললেও ছাত্রদের যেন মন গলেনি। তাদের মনে নূন্যতম বিবেকবোধ কাজ করেনি। শুধুমাত্র মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটিই বিদায় জানিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম দেওভোগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দীর্ঘ ৯ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন মাওলানা আবু তাহের জিহাদী। এর আগে কেউই এত বছর দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। কিন্তু মাওলানা আবু তাহের জিহাদী প্রতিষ্ঠান আপন করে নিয়েছিলো। তার দায়িত্ব পালনে এলাকাবাসী সন্তুষ্ট ছিলো।

কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে থাকে। প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু তাহের জিহাদী বুঝতে পারেন অন্যজন এই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব নিতে চাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী পরাজয় বরণ করার মধ্য দিয়ে এই বিষয়টি আরও ত্বরান্বিত হয়ে উঠে।

আর তাই এসকল বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু তাহের জিহাদী আগেই বিদায় নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসী তাকে থাকার জন্য অনুরোধ করেন। তাকে ছাড়তে চাননি। ফলে তিনি বিদায় না নিয়েই থেকে যান।

কিন্তু তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করার জন্য ষড়যন্ত্র করতে থাকেন মাদরাসার শিক্ষক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি হারুন অর রশিদ। তিনি সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। সেই সাথে ছাত্রদেরকে উস্কানি দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে ছড়ানো হয় প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ জন শিক্ষককে বহিস্কার করা হয়েছে। আর এই বহিস্কারের সূত্র ধরেই শুরু হয় আন্দোলন। কিন্তু এটা পুরোটাই ছিলো গুজব মিথ্যা বানোয়াট।

এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষকে সমর্থন ও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মুফতি হারুন অর রশিদকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলে।

যার ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুলাই দুপুরে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা মাদ্রাসায় প্রবেশ করলে মুফতি হারুন অর রশিদের সমর্থক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন তাদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর পেয়ে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা এবং হেফাজত ও বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সেই সাথে এদিন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ঘটনায় ঘটনাস্থলে ছুটে যান হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতী মনির হোসেন কাসেমী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান, হেফাজতের নেতা মাওলানা ফেরদৌস, বিএনপি নেতা দিদার খন্দকার সহ আরো অনেকে। পরে মাদরাসার বিবদমান দুইপক্ষকে নিয়ে প্রশাসন ও বিএনপি হেফাজত নেতারা বৈঠকে বসেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আগামী ৩ দিনের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে সমস্যার সমাধান করা হবে এমন আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কিন্তু এই তিনদিনের মধ্যেই ছাত্ররা ফের আন্দোলন শুরু করে। তাদের তাদের সকল দাবী দাওয়া বাদ দিয়ে একদফা আন্দোলন সেটা হলো প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু তাহের জিহাদীর পদত্যাগ করতে হবে। ফলে তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আবু তাহের জিহাদীকে সরিয়ে দেয়া।

গত ১১ জুলাই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভিজে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তারা দাবি তুলেন দফা এক দাবি এক জিহাদীর পদত্যাগ। বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন সহ মাদ্রাসার অভ্যন্তরে দেয়ালে জিহাদী হুজুর এর পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। আর তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই শেষ পর্যন্ত কমিটি মাওলানা আবু তাহের জিহাদীকে বিদায় দিতে বাধ্য হয়।

বিদায়বেলায় আবু তাহের জিহাদী ছাত্রদের উদ্দেশ্য বলেন, তোমরা জেনে রাখো আল্লাহকে স্বাক্ষী রেখে বলছি একজন শিক্ষককেও বের করার কোনো পরিকল্পনা আমি করি নাই। আমি স্বপ্নও দেখি নাই। যদি আমি এরকম করে থাকি তাহলে আসমানী গজব আমাকে ধ্বংস করে দেউক। এটা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। আমি জানি আমার এ মিথ্যাটার উদঘাটন হবে না। কমিটিও পারবে না। কিন্তু এটা মিথ্যা। আমি কোনো উস্তাদকে বহিস্কার করার স্বপ্নও দেখি নাই। আমি আমার কমিটিকে বলবো এলাকাবাসীকে বলবো আমার মতো কোনো প্রিন্সিপালের যেন এরকম বিদায় হতে না হয়। এর রহস্য বের করবেন।