নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় সরকারি তোলারাম কলেজের শেরেবাংলা ছাত্রবাস আনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলেও সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও তাদের অনুসারীদের দেখা মিলছে। হলের ভিতরে তালা দেয়া থাকলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও তাদের অনুসারীরা হলে দিব্যি ঘুরাফেরা করছেন। তারা সেখানে রাত্রিযাপনও করছেন।
শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরেবাংলা ছাত্রবাসের ভিতরে ছাত্ররা অবস্থান করছেন। তাদের সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে। তাদের মধ্যে ছাত্রদলের কর্মী অলক কান্তি দাস ও তন্ময়ও রয়েছে। আর তারা দুইজনেই স্মাতকের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি ছাত্রদলের অনুসারী আরও অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে।
এসময় হলে অবস্থান করা একজনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা ৫ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রাবাসের ভিতরে অবস্থান করছি। আমাদের ভিতরে থাকার অনুমতি রয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেই এখানে অবস্থান করছি।
তবে এ বিষয়ে সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদুল ইসলাম বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, কলেজের শেরেবাংলা ছাত্রবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে অবস্থান করার কোনো সুযোগ নাই। যদি কোনো ছাত্র অবস্থান করে থাকে সেটা হল সুপার বলতে পারবেন।
এদিকে ৫ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থী অবস্থানের কথা বলা হলেও সরেজমিনের গিয়ে এর চেয়ে আরও বেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে অবস্থান করছেন। আর তাদেরকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের অনুসারীরা নিয়মিতই ছাত্রাবাসের ভিতরে যাতায়াত করছেন। তাদের দেখে বুঝার কোনো উপায় নেই ছাত্রবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের পদ প্রত্যাশী নেতা ও তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের নেতৃত্বদানকারী আজিজুল ইসলাম রাজীব বলেন, আমার জানামতে ছাত্রদলের কেউ ছাত্রাবাসে নেই। দুই একজন এইসএসসি পরীক্ষার্থী থাকতে পারে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একটি সূত্রে জানা গেছে, তাইফুর নামে এক ছাত্রদল নেতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ফোন করে মেসে উঠার জন্য বলছে। তাদেরকে বলা হচ্ছে ছাত্রাবাসের সিট বাতিল করা হয়েছে। এখন শুধু ছাত্রদলই ছাত্রাবাসেই থাকবে।
এর আগে গত ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ২০ জন কর্মী আহত হয়েছে।
এদিকে এই সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ভাঙচুর লুটপাটের অভিযোগ উঠে। এদিন বিকেলে শহরের ইসদাইর এলাকার শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসে এই ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভাঙচুরের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও ট্যাব চুরি নিয়ে গেছে। সেই সাথে হামলার শিকার হয়েছেন শিবির কর্মী থেকে শুরু করে ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।
এ বিষয়ে সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদুল ইসলাম বলেছিলেন, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমার ছাত্রদের হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছি। সেই সাথে আমরা তিন সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিবে। তদন্ত কমিটি প্রধান হলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আজিজুল্লাহ। বাকী দুইজন সদস্য হলেন- প্রফেসর মনোয়ার হোসাইন এবং প্রফেসর হুমায়ুন কবির। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
































আপনার মতামত লিখুন :