নারায়ণগঞ্জে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুত্বর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ছাত্রশিবির তোলারাম কলেজ সেক্রেটারি তামিম ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ। তারা দুজনেই রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা তুহিন নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
সংঘর্ষের পর আহত ছাত্রশিবির নেতাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান জামায়াতের আমীর ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সেই সাথে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামও আহত দুজনকে দেখতে হাসপাতালে আসেন।
অন্যদিকে ছাত্রদলের আহত নেতাদের দেখতে আসেন নাউক চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ। তবে নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনের দায়িত্বে থাকা চারজন বিএনপির এমপির কেউই হাসপাতালে আসেননি আহত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দেখতে।
ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করে হাসপাতালে ছুটে গেছেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। শুক্রবার সকালে আবদুল্লাহ আল আমিন ইবনে সিনা হাসপাতালে গিয়ে শিবিরের আহত নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এরপর নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে এসে আহত ছাত্রদল নেতার সাথে সাক্ষাৎ করেন। বিকেলে তোলারাম কলেজ ছাত্রাবাসে হামলার শিকার ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সকলের প্রতি এনসিপির এমপি বার্তা দেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজন আনা যাবে না।’
একদিকে ছাত্রশিবিরের আহত নেতাকর্মীদের দেখতে ছুটে এসেছেন খোদ বিরোধী দলীয় নেতা এবং শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি। অন্যদিকে ছাত্রদল নেতাদের দেখতে নিজ জেলার কোন এমপিই হাসপাতালে পা রাখেননি। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও নেই মাথাব্যাথা।
অন্যদিকে ছাত্রশক্তির দুই কর্মী আহত হবার পর ছুটে গেছেন এনসিপির এমপি। পাশাপাশি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের আহতদের দেখতেও ছুটে গেছেন এই এমপি। অথচ বিএনপির কোন এমপি আসেননি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দেখতে। সেই সাথে বিএনপির শীর্ষ নেতারা চাইলেই পারতেন সকল দলের আহতদের সাথে সাক্ষাৎ করে একই ভাবে ঐক্যের বার্তা দিতে। এখানেও তারা পিছিয়ে গেছেন রাজনৈতিক অভিভাবক সুলভ আচরণ থেকে।
রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, লড়াই সংগ্রামে সবার আগে সামনের সাড়িতে থাকে ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এই নেতাকর্মীদের যখন কেউ আহত হয় তখন তাদের দেখতে নেতারা ছুটে আসবে এমনটাই স্বাভাবিক। ছাত্রশিবিরের ক্ষেত্রে সেই বিষয়টি দেখা গেলেও কাপর্ন্যতা দেখা গেছে ছাত্রদলের ক্ষেত্রে। যা হতাশ করেছে খোদ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরকে।
































আপনার মতামত লিখুন :