দীর্ঘদিন পর নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিগত সময়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাদের মধ্যে আর ঐক্যবদ্ধতা থাকছে না। তারা একে অপরের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে রক্ত জড়িয়েছেন। একই সাথে দেশীয় অস্ত্রের মহড়াও দিয়েছেন। যেন তারা একে অপরের চির শত্রুতে পরিণত হয়েছেন।
এরই মধ্যে বুধবার (আগস্ট) দুপুরে শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ২০ জন কর্মী আহত হয়েছে। আর সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটেছে ছাত্রদলের নেতাদের মাধ্যমে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে সরকারি তোলারাম কলেজ প্রোগ্রামের আয়োজন। আর এই প্রোগ্রামে বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়ার সাথে শিবিরের নেতার তর্ক বিতর্ক হয়। এই তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে তোলারাম কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমদাদুল হক শুভ, সেক্রেটারী তামিম ও অর্থ সম্পাদক জুহাসকে মারধর করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এদের মধ্যে ইমদাদুল হক শুভ কলেজ থেকে বের হয়ে চাষাঢ়া গোল চত্বর এলাকায় চলে আসে। তার তাকে ধরে নেয়ার জন্য ছাত্রদলের দুই নেতা পিছু ধাওয়া করতে করতে চাষাঢ়া গোল চত্বর এলাকায় গিয়ে ইমদাদুল হক শুভকে ধরে ফেলে।
এদিকে অদম্য জুলাই ব্যানারে মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবির মিছিল নিয়ে আসছিলো। তাদের মিছিলটি চাষাঢ়া গোল চত্বর এলাকায় আসার সাথে সাথে ইমদাদুল হক শুভকে তুলে নিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি সামনে পড়ে যায়। আর এটা দেখেই শিবিরের নেতাকর্মীরা ক্ষেপে যায়। সেই সাথে দৌড়ে গিয়ে ইমদাদুল হক শুভকে তুলে নিয়ে যেতে আসা ছাত্রদলের দুই নেতাকে ব্যাপক মারধর করে। একই সাথে তাদের দুইজনকে মারধর করে ছেড়ে দেয়।
পরে ইমদাদুল হক শুভ তাদেরকে সেক্রেটারী তামিম ও অর্থ সম্পাদক জুহাসকে তোলারাম কলেজে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আটকে রাখার বিষয়টি জানায়। এই খবর পেয়ে শিবির মিছিল নিয়ে তোলারাম কলেজের দিকে অগ্রসর হয়। সেই সাথে মিছিলটি ডাক বাংলোর সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর তাদের কাছে খবর আসে তামিম ও জুহাসকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এরপর শিবিরের মিছিলটি তাদের কার্যালয়ের দিকে চলে যাওয়ার জন্য মতস্থির করে। আর এসময়েই ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী লাঠি-সোটা ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে শিবিরের নেতাকর্মীদের উপড় হামলা করে। আর এতে করে শিবিরের মিছিলে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী হামলা করতে এসে উল্টা মারধরের শিকার হয়। সেই সাথে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কয়েকবার হামলা করতে এসে শিবিরের নেতাকর্মীদের সামনে ঠিকতে না পেরে পিছু হঠে।
এরই মধ্যে সরকারি তোলারাম কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। সেই সাথে খবর পেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তারা এক পর্যায়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদেরকে ঘটনাস্থল থেকে সড়িয়ে দেয়। তবে ছাত্রদল ঘটনাস্থলে থেকে যায়। পুলিশের সামনে কয়েকবার হামলা করার চেষ্টা করেও পুলিশ তাদের বুঝিয়ে শান্ত করে। এরপর তারা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে।
অন্যদিকে বিকেলে এই সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি তোলারাম কলেজের ইসদাইর এলাকার শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ভাঙচুর লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভাঙচুরের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও ট্যাব চুরি নিয়ে গেছে। সেই সাথে হামলার শিকার হয়েছেন শিবির কর্মী থেকে শুরু করে ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাছিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা; পরে হাতাহাতি এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এই ঘটনায় ৪ থেকে ৫ আহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।

































আপনার মতামত লিখুন :