News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

খানের শেল্টারে বেড়ে উঠে সিফাত বাহিনী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম খানের শেল্টারে বেড়ে উঠে সিফাত বাহিনী

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বন্দরের দুর্ধর্ষ হিসেবে পরিচিত পাওয়া খান মাসুদের শেল্টারে বেড়ে উঠেন সিফাত ও তার বাহিনী। তখন খান মাসুদের হয়ে সে বন্দরে নানা ধরনের অপকর্ম করে। মাসুদের মিছিলেও দেখা গেছে তাকে। মূলত বন্দরের দখলবাজী, হামলা, ভয় দেখানোর কাজে মাসুদ এ সিফাত বাহিনীকে ব্যবহার করতো।

ইতোমধ্যে বন্দরের বুলবুল হত্যা মামলায় সিফাত সহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুম্মানের বিরুদ্ধে ১৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আওয়ামী লীগ আমলে যত ঘটনা

২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর রাত ৮টায় বন্দর শাহী মসজিদ এলাকায় সিফাত বাহিনীর হামলার শিকার হয় তৎসময়ের জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি স্বপন (৩৫)। তাকে এলোপাথারী পিটিয়ে স্বর্নের আংটি, মোবাইল ও সঙ্গে থাকা নগদ ৭৫ হাজার ২৭০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় সিফাতের নাম উল্লেখ করে আরো ২০/২২ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর বিকালে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুম্মানকে ডিস লাইনের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে পার্শ্ববর্তী মসজিদ সংলগ্ন পশ্চিম কল্যান্দী বালুর মাঠে নেয়। জুম্মান সেখানে যাওয়ার পর পরই কাটা সিফাত, রিং শাহিন, চিকনা যুবায়েরগংরা দেশীয় অস্ত্র কুড়াল, রামদা, চাপাতি, সামুরাই, হকিষ্টিক ও কাঠের স্ট্যাম্প দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে এবং কুপিয়ে তাকে জখম করে। এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর রাতে আহত যুবলীগ নেতার মেয়ে সানজিদা বেগম বাদী হয়ে ৮ জনের নাম  উল্লেখ করে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন।

২০২৩ সালের ১৬ মে রাতে বন্দর থানার এসআই আহাদুজ্জামানসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থানকালে লোক মারফতে জানতে পারে ডাকাত দল ডাকাতির করার উদ্দেশ্যে বন্দর থানার নবীগঞ্জ কদমতলীস্থ স্বাধীনতা রাজ গার্মেন্ট ফ্যাক্টরীর সামনে জনৈক শাহনেওয়াজ মিয়ার ভাড়াকৃত বাড়ির সামনে বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ অবস্থান করছে। প্রাপ্ত সংবাদটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে দ্রুত ঘটনাস্থলে রওনা হয়। ওই সময় ডাকাত দল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ৮ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও কৌশলে পালিয়ে যায় আলোচিত সন্ত্রাসী কাটা সিফাত। পরে পলাতক কাটা সিফাতসহ ৯ ডাকাতের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করেন।

২০২৩ সালের ১৩ মার্চ বন্দরে এক নারী মুরগী ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করে মুরগী বিক্রির নগদ ৮৭ হাজার ৬০০ টাকা ও ২টি এনড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

২৪ জানুয়ারী সকাল ১০টায় নাসির আলমের ছেলে থান কাপড় ব্যবসায়ী রতন (৩০) তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে শাহী মসজিদ এলাকায় অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় সিফাত বাহিনী। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী রতন বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

২১ জানুয়ারী শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় কাটা সিফাত বাহিনী অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বন্দর শাহী মসজিদ ও সালেহনগর এলাকায় মহড়া দেয় এবং ককটেল ফাটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে।

১৪ জানুয়ারি সালেহনগর রোড এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম মিয়ার ছেলে রাসেলকে পল্লী বিদ্যুত অফিসের প্রধান ফটকের সামনে থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রাণ রক্ষার্থে রাসেল তাদেরকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে মুক্তি পায়।

২০২২ সালের ১৬ আগষ্ট শেখ সিফাত বাহিনী শাহী মসজিদ এলাকার রিফাত, সাজ্জাদ ও বাধনসহ বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করে। ওই ঘটনায় বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল হলেও সিফাত বাহিনীর পেছনে একজন গডফাদারের শেল্টার থাকায় মামলা নেয়নি পুলিশ।

১২ সেপ্টেম্বর রাতে কাটা সিফাত বাহিনী বাড়ইপাড়া এলাকার নিরীহ ইউনুছ মিয়ার ছেলে হোসিয়ারি শ্রমিক রুহিত (২১) সহ ৪জনকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে কোপায়। কিশোর গ্যাং এর লিডার কাটা সিফাতের নেতৃত্বে মাদকব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন পিংকী, আল আমিন, মাদক ব্যবসায়ী কালা জুম্মান, ফয়সাল, রাব্বি, ইয়াছিন শাহ, আলম, বাবু শিকদার, পাভেল খান ও আশরাফুল ওরফে কালুসহ অজ্ঞাত নামা ৫/৬ জন রুহিতকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেদম ভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ওই সময় আহতের চিৎকার শুনে তার পিতা ইউনুস, ছোটভাই রোহান, কাশেম ও জাহিদুল তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হামলাকারিরা তাদেরকেও কুপিয়ে জখম করে। আহতদের মধ্যে রুহিতের মুখের মাড়ি কেটে ৪টি দাঁত বেড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে ২৬৪টি সেলাই দেয়া হয়। রুহিতের পিতা ইউনূছ মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

২০২৬ এর ঘটনা

১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে নাজমা বেগম নামে এক নারীর বসতবাড়িতে হামলা চালিয়েছে সিফাত ও তাঁর সহযোগিরা। বন্দরে দিনে দুপুরে ফিল্মি স্টাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারের ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে তার কাছে থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা । সেখানেও উঠে এসেছিলো এই সন্ত্রাসী সিফাতের নাম।

এ ঘটনায় সিফাতের নাম বলায় সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবুও যেন বন্দর থানা পুলিশের টনক নড়ছে না।

বন্দর থানা পুলিশের ব্যর্থতায় একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসী সিফাত। এমনকি পুলিশকে কুপিয়ে তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েও গেলে এখন পর্যন্ত সিফাত কে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হচ্ছে বন্দর থানা পুলিশ।

জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাত চৌধুরীবাড়ি এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় খবর পেয়ে তদন্তের ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে তাদের শর্টগান ছিনিয়ে নেয় সিফাত ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। পরে ৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ভোর সোয়া ৬টায় একই এলাকার একটি গাছের নিচ থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।