নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইর ও চাষাঢ়া রেললাইন এলাকার রাজ্জাক এবং মাসদাইরের জাহিদ। এ দুইজন এখন নারায়ণগঞ্জ শহরের দুর্ধর্ষ অস্ত্রবাজ ও মাদক কারবারীতে পরিণত হয়েছেন। তাদের দাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পরাভূত হচ্ছে। সবশেষ ১৫ আগস্ট দুপুরে শহরের চাষাঢ়া রেল স্টেশন সংলগ্ন ইসদাইর সড়কে দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাক বাহিনীর সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে তিন পুলিশ ও রাজ্জাক বাহিনীর দুইজন। পুলিশ রাজ্জাকের ছেলে সহ ২জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে ৫ মে মাসদাইর বোয়ালিয়া খাল এলাকাতে র্যাবের উপর হামলা করে জাহিদ বাহিনীর সদস্যরা।
রাজ্জাক ২ এপ্রিল অস্ত্র সহ গ্রেপ্তারের পর ইসদাইরে মাদক বিকিকিনি কিছুটা কমে যায়। কিন্তু গত সপ্তাহে ফের জামিন পেলে উত্তাপ ছড়ায় ইসদাইরে। শুরু করে অস্ত্রের মহড়া। বিপরীতে জাহিদ র্যাব ও পুলিশের উপর হামলা করেও অধরা।
রাজ্জাক
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে রাজ্জাক ও তার ছেলে জসিম কারাগার থেকে জামিনে বের হন। জামিনে বের হওয়ার পর তারা ইসদাইর এলাকায় পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়াতে পারে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ চাষাঢ়া রেলস্টেশন ও ইসদাইর নতুন রাস্তা এলাকায় নজরদারি জোরদার করে। ১৫ আগস্ট বিকেল সোয়া ৩টায় নিয়মিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। ওই সময়ে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাক, তার শ্যালক ইয়াদ আলী ও ছেলে ওয়াসিমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চাষাঢ়া রেলস্টেশন থেকে ইসদাইর নতুন রাস্তার দিকে এগিয়ে আসছিল। তারা পুলিশের আভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে একটি পিস্তল থেকে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে পুলিশের গুলির মুখে রাজ্জাক বাহিনীর সদস্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ধাওয়া করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জসিম ও মোহনকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ আটক করে। একটি গুলি জসিমের উরুতে লাগে। গোলাগুলির সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে বিদেশি একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই অস্ত্রধারীকে আটক করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফতুল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সময় অস্ত্রধারীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। তবে গুলি পুলিশের গায়ে লাগেনি। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে এক মাদক কারবারি গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগজিন উদ্ধার এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা দেলু বলেন, আমাদের চোখের সামনে গুলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মনে হচ্ছিলো যেন সিনেমা দেখছি। হঠাৎ করেই একদিক একদল পুলিশ আসলো বিপরীত দিক দিয়ে আরেকদল আসলো। যাদের কারও কারও হাতে অস্ত্র ছিলো। তারা সামনাসামনি গুলাগুলি লেগে গেলো। আমরা কোনো অশান্তি চাই না; আমরা এলাকায় শান্তি চাই।
একইভাবে স্থানীয় এক নারী বাসিন্দা বলেন, আমরা এভাবে গুলাগুলি চাই না। আমরা নিরাপদে থাকতে চাই। কয়েকদিন পরপরই এই গুলাগুলি অস্ত্রের মহড়া কখনও চাই না।
গত ২ এপ্রিলে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫৩ রাউন্ড গুলিসহ রাজ্জাক ও তার ছোট ছেলে মো. ওয়াসিমকে (২২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর কয়েকদিন আগে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ জসিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
রাজ্জাকের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, গুম, অপহরণ, অস্ত্র, চাঁদাবাজী সহ মোট ১২ টি মামলা এবং পুত্র ওয়াসিমের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজী মাদক,অস্ত্র সহ সাতটি মামলা রয়েছে ফতুল্লা মডেল থানায়।
জাহিদ
ফতুল্লার মাসদাইর, ঘোষেরবাগ, গলাচিপা এলাকাতে একচ্ছত্রভাবে মাদক ব্যবসার নিয়স্ত্রক হলেন জাহিদ। দুর্ধর্ষ এ জাহিদের নেতৃত্বে রয়েছে বেশ কয়েকজন ছিনতাইকারী ও ডাকাত। তাদেরকে দিয়ে বিভিন্নস্থানে এসব অপরাধগুলো করানো হয়।
তাদের একজন মনির হোসেন। কিন্তু দুর্ধর্ষ প্রকৃতির হওয়াতে নাম জুড়ে যায় ফাইটার মনির। ৬ জানুয়ারী বিকেলে ফতুল্লার গলাচিপা চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় ফাতেমা ইয়াসমিন শিল্পীর মালিকানাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশী চালিয়ে মাদক ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, সিসি ক্যামেরা, কম্পিউটার জব্দ করা হয়।
মাসদাইর বাজারের অপর মাদক বিক্রেতা শাওনকেও কুপিয়ে আহত করেছে এ জাহিদ। এ অপকর্মের পর পুলিশ কিংবা র্যাব কেউ এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি এ মাদক ব্যবসায়ী জাহিদকে।
গত বছরের ১৬ নভেম্বর মাসদাইর এলাকায় প্রকাশ্যে হামলা ও গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী জাহিদকে ধরতে র্যাবের তৎপরতা টের পেয়ে ছোরা গুলিতে জবা নামে একজন নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বিকেলে সন্ত্রাসী জাহিদকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয় র্যাব-১১ এর একটি গোয়েন্দা দল। দলটি ফতুল্লার মাসদাইরের গাইবান্ধা বাজার এলাকায় পৌঁছালে জাহিদ ও তার সহযোগীরা র্যাবের গোয়েন্দাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে। এসময় জাহিদের ছোড়া গুলি স্থানীয় এক বাড়ির রান্নাঘরে থাকা জবা আক্তার (২২) এর বুকে এসে লাগে। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

































আপনার মতামত লিখুন :