News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

মেট্রোরেলে বদলে যেতে পারে নারায়ণগঞ্জ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম মেট্রোরেলে বদলে যেতে পারে নারায়ণগঞ্জ

শিল্প, বন্দর আর বাণিজ্যের শহর নারায়ণগঞ্জ। রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে কাছের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোর একটি হলেও দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্ভোগ যেন এই শহরের নিত্যসঙ্গী। প্রতিদিন কর্মস্থল, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে লাখো মানুষকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে যাতায়াত করতে হয়। আর সেই যাত্রায় যানজট, ধীরগতি ও গণপরিবহনের ভোগান্তি এখন অনেকটাই নিয়মিত চিত্র। এমন বাস্তবতায় নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার মেট্রোরেল সংযোগের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মেট্রোরেল যদি শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়, তাহলে শুধু রাজধানীর সঙ্গে যাতায়াত সহজ হবে না, বদলে যেতে পারে পুরো নারায়ণগঞ্জের নগর অর্থনীতি, আবাসন, শিল্প, বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার চিত্র।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মেট্রোরেল পরিকল্পনায় ঢাকা ছাড়িয়ে নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলোকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএমটিসিএলের পরিকল্পনা নথিতেও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  

নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় নগর সমস্যাগুলোর একটি যানজট। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়ক, চাষাঢ়া, সাইনবোর্ড, শিমরাইল, পঞ্চবটি, ডেমরা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দিনের বিভিন্ন সময়ে যানবাহনের চাপ থাকে। শিল্পকারখানার শ্রমিক, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ প্রতিদিন রাজধানীমুখী হওয়ায় এই চাপ আরও বাড়ে।

মেট্রোরেল চালু হলে নির্দিষ্ট সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহনে ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। এতে সড়কনির্ভর যাতায়াতের ওপর চাপ কমতে পারে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও ছোট যানবাহনের ব্যবহারও কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অর্থাৎ মেট্রোরেল শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প হবে না; এটি নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার কাঠামোগত সমাধানের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। নারায়ণগঞ্জের অর্থনীতির বড় ভিত্তি শিল্প ও বাণিজ্য। তৈরি পোশাক, নিট শিল্প, হোসিয়ারি, ডাইং-ফিনিশিং, খাদ্যপণ্য, শিপিং, নদীবন্দরসহ নানা খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত লাখো মানুষ। দ্রুত গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে শ্রমিক ও কর্মজীবীদের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে ঢাকার মানুষও নারায়ণগঞ্জে চাকরি, ব্যবসা কিংবা শিল্পকারখানায় আসা-যাওয়া করতে পারবেন কম সময়ে। এর ফলে নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোর শ্রমবাজার আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের কাছেও যোগাযোগ সুবিধাসম্পন্ন শিল্পাঞ্চল হিসেবে নারায়ণগঞ্জের আকর্ষণ বাড়তে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন শহরে মেট্রোরেল স্টেশনকে কেন্দ্র করে নতুন বাণিজ্যিক ও আবাসিক অঞ্চল গড়ে ওঠার নজির রয়েছে। নারায়ণগঞ্জেও এমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশনের আশপাশে অফিস, মার্কেট, আবাসিক ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও অন্যান্য সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে। পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে স্টেশনকেন্দ্রিক উন্নয়ন নারায়ণগঞ্জের নগর ব্যবস্থাপনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। তবে পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ হলে উল্টো নতুন সংকটও তৈরি হতে পারে। তাই মেট্রোরেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে স্টেশন এলাকার রাস্তা, ফুটপাত, পার্কিং, বাস রুট, রিকশা ও অন্যান্য পরিবহনের সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি। নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল এলেই সব সমস্যা শেষ হয়ে যাবে এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। মেট্রোরেলকে সফল করতে হলে এর সঙ্গে বাস, কমিউটার ট্রেন, নৌপথ এবং স্থানীয় গণপরিবহনের কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে।

বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত নারায়ণগঞ্জের অনেক মানুষকে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় রাস্তায় কাটাতে হয়। যানজটের কারণে কর্মঘণ্টার একটি বড় অংশ নষ্ট হয়। একইভাবে ঢাকার মানুষও নারায়ণগঞ্জের শিল্প ও ব্যবসাকেন্দ্রে আসতে গিয়ে সময় হারান। মেট্রোরেল চালু হলে এই সময়ের বড় একটি অংশ সাশ্রয় হতে পারে। সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় অপেক্ষা করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশনে পৌঁছে দ্রুত গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে শুধু যোগাযোগ নয়, মানুষের কর্মঘণ্টা, পারিবারিক সময় ও জীবনযাত্রার মানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনো কোন রুটে, কতদূর এবং কবে এটি বাস্তবায়িত হবে। কারণ গত কয়েক বছরে প্রস্তাবিত রুটে পরিবর্তন এসেছে। তাই সম্ভাবনার খবরকে বাস্তব প্রকল্প হিসেবে দেখার আগে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। তারপরও সম্ভাবনাটি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঢাকার সঙ্গে দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক গণপরিবহন সংযোগ তৈরি হলে নারায়ণগঞ্জ আর শুধু ঢাকার পাশের শিল্পনগরী থাকবে না; বরং রাজধানীর বিকল্প একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও আবাসিক কেন্দ্র হিসেবেও আরও দ্রুত বিকশিত হতে পারে