নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামীদের রিমাণ্ড শুনানীকালে আদালতপ্রাঙ্গনে তাদের উপর হামলার চেষ্টা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। একই সাথে পুরো সময়জুড়েই নারায়ণগঞ্জ আদালতে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো।
ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে আদালত প্রাঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গনে এই ঘটনা ঘটে।
আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রিমাণ্ড শুনানীকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গনে ভীড় করেন। তারা বিচারের আদালত প্রাঙ্গনে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এদিকে বুলবুল আহমেদকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামীদের রিমাণ্ড শুনানীর খবর জানতে পেরে তারা আদালতের সামনে অবস্থান নেন। সেই সাথে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের ক্রমাগত স্লোগানের এক পর্যায়ে বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় চলে যান। পরে ইসলামী আন্দোলনে নেতাকর্মীরা শান্ত হয়ে আসলে বিচারক এজলাসে আসেন। তবে এই আদালতে আসামীদের অন্য মামলায় শুনানী ছিলো।
এসময় ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আইনজীবীদের সাথে মারামারিতে লিপ্ত হন। ক্ষিপ্ত ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়াকে মারধর করতে শুরু করেন। পরে আব্দুল বারী ভূইয়ার সাথে থাকা আইনজীবীরা সকলে মিলে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মারধর করেন। পরে ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নেতারা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
পরবর্তীতে আসামীদেরকে বুলবুল আহমেদকে হত্যা মামলায় রিমাণ্ড শুনানীর জন্য অন্য আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আর এই নিয়ে যাওয়ার সময় আসামীদের উপড় হামলা করার চেষ্টা করে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। কেউ কেউ পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে আসামীদের কিল ঘুষি মারেন। সেই সাথে আদালত প্রাঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে পুলিশের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী আন্দোলনে সহ সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, আসামীদের কোর্টে হাজির হওয়ার খবরে আমরা আদালতে অবস্থান করি। আসলে বুলবুল আহমেদকে হারিয়ে আমাদের লোকজন ক্ষুদ্ধ। তারা এই মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না। সেই সাথে আসামীদের অঙ্গভঙ্গি দেখে আমাদের লোকজন আরও বেশি ক্ষুদ্ধ। আমরা বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবো।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত শেখ সিফাত (৩২), জুমান ওরফে হোয়াইট জুমান (২৯) মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মোঃ সিয়াম (২৫), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) ও সিজান ওরফে জিসান (২৬) কে ১০ দিনের রিমাণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে মোসাঃ মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), তিনদিনের রিমাণ্ড দিয়েছেন আদালত।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, আসামীদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের উপড় হামলা করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। আমরা আমাদের সদস্যদের প্রচষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। আদালত আসামীদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমাণ্ড দিয়েছেন।
এর আগে গত ২০ আগস্ট রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সালেহনগর এলাকায় একটি মামলা তুলে না নেওয়ার জের ধরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সিফাত বাহিনীর প্রধান সিফাতের নেতৃত্বে জাহিদ হাসান বুলবুল (৪৫) নামে রিকশা গ্যারেজ মালিককে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত বুলবুল সালেহনগর শাহী মসজিদ এলাকা রাজা মাস্টারের ছেলে। একই সাথে তিনি সিটি কর্পোরেশনের ২২ নং ওয়ার্ড ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ সভাপতি ছিলেন।





































আপনার মতামত লিখুন :