News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

বিএনপির কোন নেতার দিকে ইঙ্গিত দিলেন শামীম ওসমান


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম বিএনপির কোন নেতার দিকে ইঙ্গিত দিলেন শামীম ওসমান

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যারা ঘোষণা দিয়ে বাইতুল আমান ভেঙেছে তারাই বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি শামীম ওসমানের কাছ থেকে উপকার নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আমেরিকায় বসে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তাকে এমন কথা বলতে শোনা গেছে।

শামীম ওসমানের এমন বক্তব্যের পর নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে এখন অনেকের দিকেই শামীম ওসমানের সাথে সখ্যতা রেখে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

শামীম ওসমান বলেন, চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। যারা এখন বিএনপি নেতা আছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন, গত ১৬ বছরে আমরা বিএনপি কোনো নেতাকে বিন্দুমাত্র হার্ম করিনি। বরং এখন একজন এমপি হয়েছেন তিন এর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো একদিনের মধ্যে আমি তাকে মুক্ত করে নিয়ে আসছিলাম। আরেকজনকে গোয়েন্দা সংস্থা ডেকে নিয়ে গিয়েছিলো আমি সেখান থেকে তাকে ফেরত নিয়ে আসছিলাম। আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো একবার আমি দেশে ছিলাম না যে গ্রেপ্তার করেছিলেন সেই ওসিকে আমি পরবর্তীতে ট্রান্সফার করেছিলাম। কারণ আমার নেত্রী আমাকে একটা কথা বলেছিলেন ২০০১ এর ২০০৬ পর্যন্ত আমাদের উপর একই ভাবে নির্যাতন হয়েছিলো। বলে ছিলেন সবাইকে মাফ করে দাও। কোনো পাল্টা হামলা করবেন, কারো বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে যাবেনা। তারা খুব ভাল ছিলো। কিন্তু রেজাল্ট কি পেলাম। আমার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। আমার মেঝ ভাইয়ের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার বড় ভাই ও ভাতিজার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোন আপসোস নাই। আপসোস হচ্ছে বাইতুল আমান পাকিস্তানি বাহিনী সাহস পায়নি, যেমন ধানমন্ডি ৩২ সাহস পায়নি। যেদিন ৩২ নাম্বার পুড়িয়ে দিলো তার পরদিনই ওপেন ডিক্লেয়ার দিয়ে, তার আগের দিন যে বিএনপির নেতারা এই ডিক্লেয়ার দিলো তারা কিন্তু বিভিন্ন ভাবে আমার কাছ থেকে উপকার নিয়েছে তখন। আমি সেটা বলতে চাইনা, আমার কাছে সেগুলো প্রমাণ আছে রেকর্ডও আছে।

শামীম ওসমানের এমন বক্তব্যের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

ওই সময় বাইতুল আমান ভাঙার ঘোষণা দিয়েছিলেন মহানগর বিএনপি নেতারা। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান যিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োজিত আছে। অপরজন ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। বর্তমানে ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে তার সাইবার ওয়ার চলছে। এর মধ্যে শামীম ওসমানের এমন বক্তব্য যেন আগুন ঘি ঢেলে দেওয়ার মত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শামীম ওসমান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তার মাথা থেকে পা অবদি পুরোটাই রাজনীতিতে ঠাসা। এমন একটি সময় এসে তিনি এসব কথা বলেছেন যাতে করে ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে টিপুর চলমান তর্ক বিতর্ক যেন আরো প্রখর ভাবে জমে উঠে।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপুর বিরুদ্ধে যখন নিজ দলের লোকেরা একে একে ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেছে ঠিক এই সময় শামীম ওসমানের এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য পুরোপুরি ভাবে আবু আল ইউসুফ খান টিপুর দিকেই যায়। কারণ ওই সময় বাইতুল আমান ভাঙার পেছনে থেকে বেশি সরব থাকতে দেখা গেছে আবু আল ইউসুফ খান টিপুকেই।

শামীম ওসমানের বক্তব্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি হয়েছেন আজহারুল ইসলাম মান্নান। শুধুমাত্র মান্নান বাদে আর কোনো বিএনপি নেতার নাম তিনি স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেননি। যদিও তিনি মান্নানের নামও উচ্চারণ করেননি তবে তিন থেকে এমপি হয়েছেন এমন কথায় এমপি মান্নানকেই বুঝানো হয়েছে।