নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিগত জাতীয় পার্টির শাসনামলে বিএনপির আন্দোলন প্রতিহত করা এবং সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ফাঁসির দাবি তোলার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে কাজী লিটুর বিরুদ্ধে। অথচ ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সেই কাজী লিটুই এখন ভোল পাল্টে বনে গেছেন পুরোদস্তুর বিএনপি নেতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজী লিটু নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবসংহতির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সোনারগাঁ উপজেলা যুবসংহতির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। বিশেষ করে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে ঠেকাতে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।সে সময় জাতীয়পার্টির পক্ষ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছিলো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তখনকার স্থানীয় সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুরো মোগরাপাড়া ইউনিয়ন, কাইকারটেক ও কাবিলগঞ্জ এলাকায় একচ্ছত্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন তিনি।
আলোচনার বিষয় অতীতে যিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য ও ফাঁসির দাবি তুলেছিলেন তিনি সম্প্রতি বিএনপির রাজনীতিতে ভিড়ে গেছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটুর সন্তান হওয়ায় সেই পারিবারিক পরিচর্যা ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি রাতারাতি ‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছেন’ বলে দাবি করছেন। তবে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতে, এটি রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার একটি সুকৌশলী চাল মাত্র।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সম্প্রতি কাইকারটেক নদীর পাড়ে 'রিভেরা পার্ক ও রিসোর্ট' নামক একটি প্রকল্পে কয়েকশ বিঘা জমি জোরপূর্বক বালু দিয়ে ভরাটের চেষ্টার অভিযোগ ওঠায় এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাজী লিটুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তিনি মূলত আগে থেকেই বিএনপির রাজনীতির সাথেই যুক্ত ছিলেন। জাতীয় পার্টির শাসনামলে তাকে জোরপূর্বক এবং মামলার ভয় দেখিয়ে ওই দলে ভিড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে তিনি নিজের ঘরে ফিরে এসেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন তিনি




































আপনার মতামত লিখুন :