News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

আনোয়ারের পথে বাধা হতে পারেন নবী হোসেন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম আনোয়ারের পথে বাধা হতে পারেন নবী হোসেন

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির আইনজীবীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ঘিরেই তাদের বেশি আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ডজনখানেক আইনজীবী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরে নাম শোনা যাচ্ছে। তারা বিভিন্নভাবে নিজেদের জানান দিয়ে আসছেন।

তবে এবারের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের পথে বাধা হিসেবে আবির্ভাব হতে পারেন অ্যাডভোকেট নবী হোসেন। আগামী নির্বাচনে সভাপতি পদে তিনি আলোচনায় রয়েছেন। আর অ্যাডভোকেট নবী হোসেন সভাপতি পদে আলোচনায় চলে আসলে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানের জন্য সভাপতি পদটি ধরে রাখা বেশ কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, অ্যাডভোকেট নবী হোসেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বিপরীতে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বলয়ের লোক হিসেবে পরিচিত। সে হিসেবে আবুল কালাম ও সাখাওয়াত হোসেন খান সমাঝোতার টেবিলে বসলে সাখাওয়াত হোসেন খানকেই ছাড় দেয়া হতে পারে।

সূত্র বলছে, প্রতিবছরই ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্ত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসেবে এখন থেকে প্রতিবছরের আগস্ট মাসে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী জানুয়ারিতেই নির্বাচনের ব্যাপারে আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে। আর এজন্য আইনজীবী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সাধারণ সভা আহ্বান করতে হবে। আর সেই সভায় যদি আইনজীবীরা মতামত দেন তাহলেই বর্তমান কমিটির মেয়াদ বৈধ হবে। সেই সাথে ডিসেম্বরে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বিএনপির আইনজীবীরা নিজেদের জানান দিয়ে আসছেন। নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থীতা নিয়ে আইনজীবীদের সাথে আলাপ আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।

জানা যায়, আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির সভাপতি পদে টানা দুইবার দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তার এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার কোনো সুযোগ নেই। তবে পরেরবার তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করতে পারবেন।

এদিকে আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান টানা দুইবার সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তিনিও এবারের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারবেন না। তবে তিনি এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচন করতে পারবেন। সেই সাথে তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী বিভিন্ন সমীকরণে নিজেকে এগিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

একই সাথে আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যিনি আগের নির্বাচনেও সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেবার তিনি সুযোগ পাননি। তাই এবারের নির্বাচনে চাচ্ছেন তিনি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য। সেই সাথে আরও অনেক আইনজীবী সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে।

এর আগে আইনজীবী সমিতির গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনটি প্যানেল অংশ নিয়েছিলো। যার মধ্যে বিএনপি পন্থী আইনজীভীদের দুইটি প্যানেল এবং জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের একটি প্যানেল। আর এই তিন প্যানেলের লড়াইকে কেন্দ্র করে জমজমাট ছিলো নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া। প্রচার-প্রচারণায় সরব ছিলো নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া। আইনজীবীদের মধ্যে ছিলো উৎসবমুখর আমেজ।

তার আগে বিগত ১৬ বছরে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিএনপির আইনজীবীরাও স্বস্তিতে থাকতে পারেননি। তাদেরকেও নানাভাবে নির্যাতন নিপীড়ন অপমান অপদস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি জামায়াত সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আইনজীবীরাও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। আইনজীবীরা নিরাপদে ভোট দিতে পারেননি। নির্বাচনের সময় বহিরাগতরা আদালতপাড়ায় এসে শোডাউন দিয়েছেন। আইনজীবীদেরকে হেনেস্তা করেছেন।

এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরাও আত্মগোপনে চলে যান। তাদের এই আত্মগোপনে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর আইনজীবী সমিতির কর্তৃত্বে আসেন বিএনপির আইনজীবীরা।

সেই সাথে বিএনপির অন্যান্য আইনজীবীরাও প্রভাব আধিপত্য ফিরে পান। সেই সাথে তারা তাদের আধিপত্য এককভাবেই ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামায়াতের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ভোটের মাধ্যমে কর্তৃত্ব নিতে হয়েছে। সেই সাথে তাদের হাতেই আইনজীবী সমিতির কর্তৃত্ব ধরে রেখেছেন।

তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপির কোনো কর্তৃত্বই ছিলো না। সমিতির নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটেও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্যানেলের লজ্জাজনক পরাজয় ঘটেছিলো। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের আইনজীবী প্যানেলের কাছে তারা প্রায় পূর্ণ প্যানেলেই পরাজিত হতেন।