নারায়ণগঞ্জে দুইদফা বাধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েও থামানো যায়নি এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে। ঠোঁটকাটা স্বভাবের এই এনসিপি নেতার ধারালো সমালোচনার কারনে ইতোমধ্যে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে অত্যান্ত অপছন্দের হয়ে উঠেছে। বিশেষত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহ দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কড়া সমালোচনা করায় একাধিকবার তার উপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে কিছুতেই যেন থামানো যায়নি এই নেতাকে।
শনিবার ঢাকা চট্টগ্রাম লংমার্চে অংশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে আসেন এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্চিত ঘোষণার সংবাদটি জানতেন আগে থেকেই। যেই কারণে আগে থেকেই ঘোষণা দেন নারায়ণগঞ্জে তিনি নামবেন। তবে স্টেজে না উঠলেও গাড়ি থেকেই নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং স্লোগান দেন। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় নাসির স্লোগান দিচ্ছেন, ‘হই হই রই রই, ছাত্রদল গেলি কই, হই হই রই রই, যুবদল গেলি কই’। জেলা এনসিপির শীর্ষ এক নেতা নিশ্চিত করেন স্লোগান দেয়ার স্থানটি ছিলো নারায়ণগঞ্জে।
এর আগে, গত ১ জুলাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কর্মসূচী থেকে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। এদিন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কেউ কিছু বললে তার প্রতিবাদ করা দলের নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব। তারেক রহমানকে নিয়ে যদি সামান্য কিছু তেলাপোকা কিছু বলে, তাহলে আমাদের উচিত তাদের পা দিয়ে জুতা পিষে মেরে ফেলা। তারা প্রথমে আওয়ামী লীগের লুঙ্গির নিচে ছিল, ছাত্রলীগের লুঙ্গির নিচে থেকে তারা হঠাৎ করে বের হয়েছে। বের হয়ে এখন বড় নেতা।’
বিএনপির নেতা-কর্মীদের ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘১৭ বছর আমাদের নেতাকর্মীদের উপর জুলুমের ইতিহাস, সেগুলোর কথা চিন্তা করলে তোদের হাওয়ায় উড়ে যাওয়ার কথা। তোরা আবার বড় বড় কথা বলিস কী করে রে শয়তান? আমরা মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে পাটোয়ারীকে নারায়ণগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। সে যদি ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জে পা রাখার সাহস দেখা যায়, তাদের আমরা প্রতিহত করব।’
তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিহত করতে দেখা যায়নি বিএনপিকে। এর আগে গত ৫ জুন রূপগঞ্জে নাসিরের আগমনকে ঘিরে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছিলো। পরিস্থিতি উত্তপ্ত বিধায় নাসিরের আগমন কতটা নিরাপদ হবে তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও তিনি সব শঙ্কা উপেক্ষা করে রূপগঞ্জ এসে কর্মসুচী বাস্তবায়ন করে যান।
ঘটনার দিন বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদি প্রাথমিক স্কুলের মাঠে ফল উৎসবের আয়োজন করে এনসিপি। কেন্দ্রীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাতের নেতৃত্বে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মসূচী বাস্তবায়নে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। তবে আগের রাতেই দুইদফা অনুষ্ঠান স্থলে হামলা চালানোর অভিযোগ তোলে এনসিপির নেতাকর্মীরা। তাদের দাবী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে অনুষ্ঠানস্থলে।
দুই দফা হামলার পর সকাল থেকে আবারও প্রস্তুতি নিতে শুরু করে এনসিপির নেতাকর্মীরা। বিকেল ৪ টার কিছুক্ষণ পুর্বে ফের মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে এসে আবারও হামলা চালানো হয় এনসিপির সভাস্থলে। ভাঙচুর করা হয় প্যান্ডেল, মঞ্চ ও চেয়ার। পিটিয়ে আহত করা হয় অন্তত ৫ জন এনসিপির নেতাকর্মীকে। পরে পুলিশ আসলে সরে যায় হামলাকারীরা।
হামলার পর এনসিপি নেতা ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘সুলতান মাহমুদ দফায় দফায় আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের উপর হামলা করেছে তারা।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী, রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। বিকেলে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে ভাঙ্গা মঞ্চে উঠেই বক্তব্য রাখেন। সেখানে বিএনপি সরকারের নানান সমালোচনা করেন এবং রূপগঞ্জ এনসিপি নেতাকর্মীদের উপর হামলার বিচার দাবী করেন
বার বার বাধা ও প্রতিরোধের ঘোষণার মুখেও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর আগমনকে এনসিপির বিজয় হিসেবেই দেখছেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ বাঁধা দিলে বিএনপি সেখানে কর্মসূচী পালন করতেই পারতো না। কিন্তু এনসিপি বিরোধী দলের ভুমিকায় থেকেও দাঁতে দাঁত চেপে কর্মসুচী বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে। অন্যদিকে বার বার নিরাপত্তার ঘাটতির কথা শুনেও নারায়ণগঞ্জ এসে নিজের অবস্থান জানান দিয়ে গেছেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। কারও হুমকিতে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি।































আপনার মতামত লিখুন :