News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

মদনপুরের মা হাসপাতালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বন্দর প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম মদনপুরের মা হাসপাতালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনপুরে অবস্থিত 'মা হাসপাতালে' সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে ফেলার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অসাবধানতাবশত চিকিৎসায় মারাত্মক ভুলের কারণে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে সিনথিয়া রহমান সন্ধ্যা (২৩) নামের এক প্রসূতির। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রসূতির পরিবার বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমস্ত দায় অস্বীকার করেছে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রসূতির মা মানসুরা (৪০) বাদী হয়ে বন্দর থানায় অভিযোগটি করেন। এতে 'মা হাসপাতাল'-এর মালিক রুহুল আমিন (৪৯), সিজারিয়ান পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. সাইমা আক্তার (৩৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট সকাল ৭টায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিনথিয়াকে মা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল ১০টায় ডা. সাইমা আক্তার তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন এবং ১১টা ১০ মিনিটে সিজারের মাধ্যমে একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের পর প্রসূতিকে কোনো পোস্ট-অপারেটিভ বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ কক্ষে না রেখে সরাসরি সাধারণ বেডে পাঠোনো হয়।

এর পর থেকেই সিনথিয়ার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে পেট ফুলতে থাকে। স্বজনরা বারবার চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও তারা এটিকে স্বাভাবিক 'গ্যাসের সমস্যা' বলে অবহেলা করেন এবং সাধারণ ব্যথার ওষুধ ও স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যান। টানা চার দিন পর, ১৩ আগস্ট সকালে 'বাথরুম হলে ফোলা কমে যাবে' আশ্বাস দিয়ে রোগীকে তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

ওই দিনই রাত ১১টার দিকে পেটের ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠলে রাত ১টার দিকে সিনথিয়াকে পুনরায় ওই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আবারও একই দাবি করে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে তার স্বামী মো. মাসুম (৩১) তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে জরুরি ভিত্তিতে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। স্বজনদের দাবি, ঢামেক চিকিৎসকরা পরবর্তীতে জানান যে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে ফেলা হয়েছিল। এর ফলে খাবারের অংশ পেটে জমে বিষক্রিয়া (ইনফেকশন) তৈরি হয় এবং পেট ফুলে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢামেকে ইতোমধ্যে প্রসূতির আরও দুটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি এখনও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

স্বজনদের আরও অভিযোগ, এই ভুল চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলতে গেলে মা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দেয়।

তবে ভুল চিকিৎসার এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন মা হাসপাতালের পরিচালক রুহুল আমিন। তিনি বলেন, "আমাদের হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। রোগী চার দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ অবস্থায় হেঁটে বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি যাওয়ার পর পথে বা বাড়িতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। রাতে যখন পুনরায় আনা হয়, তখন দুর্ঘটনাজনিত রক্তক্ষরণের কারণে হয়তো পেট ফুলে গিয়েছিল। আমরাই তাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠাই। এখন সেখানে কোনো ইনফেকশন হয়ে থাকলে সেটির দায় তাদের। তবে আমরা রোগীর স্বজনদের বলেছি রোগীকে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসতে যাবতীয় খরচ বহন করে তাকে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব আমরা নিতে প্রস্তুত।

এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।