নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ আলোচনায় রয়েছেন জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা। সভাপতি প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা আলোচনায় রয়েছেন।
সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার প্রভাবশালী আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সমর্থনও তাদের প্রতি রয়েছে বলে বলা হচ্ছে। সে হিসেবে বর্তমানে আদালতপাড়ায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা। তারা দুইজনই অনেকটা নিশ্চিত যে আইনজীবী সমিতির আগামী নির্বাচনে তাদের নেতৃত্বে বিএনপি দলীয় প্যানেল ঘোষণা করা হচ্ছে।
তাদের মধ্যে আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যিনি আগের নির্বাচনেও সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেবার তিনি সুযোগ পাননি। তাই এবারের নির্বাচনে চাচ্ছেন তিনি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য। সেই সাথে আরও অনেক আইনজীবী সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে।
আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত সময়ে প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে থাকা আইনজীবীরা আদালত থেকে চলে যান। আর এই সময়ে আনইজীবী সমিতি নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে যাওয়ায় নতুন একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কিছুদিনের মধ্যেই নির্বাচন দেয়া হয়।
যারা ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসেবে এখন থেকে প্রতিবছরের আগস্ট মাসে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এই বিশেষ সাধারণ সভার মধ্য দিয়ে আবারও সেই নির্বাচন পিছিয়ে আবারও আগের মতো জানুয়ারিতে নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আগামী নির্বাচনও জানুয়ারীতেই অনুষ্ঠিত হবে।
তবে নির্বাচন জানুয়ারীতে হওয়ার কথা বললেও নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় এখন থেকেই নির্বাচনী আলাপ আলোচনা সরব হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদেরকে বিভিন্নভাবে জানান দেয়ার চেষ্টা করে আসছেন।
তবে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার একজন প্রভাবশালী আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। যিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে রয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হওয়ায় তাকে সিটি কর্পোরেশনেই বেশি সময় ব্যয় করতে হয়। তবে আদালতপাড়ায় তার নিয়মিত পদচারণা থাকলেও তার প্রভাব এখনও কমেনি। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার যে কোনো নির্বাচনে তার সমর্থন বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।
নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সমর্থন অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লার প্রতি রয়েছে বলে বেশ জোড়েশোরেই প্রচার করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে আইনজীবী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান টানা দুইবার সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তিনি এবারের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারবেন না। তবে তিনি এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচন করতে পারবেন। সেই সাথে তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী বিভিন্ন সমীকরণে নিজেকে এগিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
এর আগে আইনজীবী সমিতির গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনটি প্যানেল অংশ নিয়েছিলো। যার মধ্যে বিএনপি পন্থী আইনজীভীদের দুইটি প্যানেল এবং জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের একটি প্যানেল। আর এই তিন প্যানেলের লড়াইকে কেন্দ্র করে জমজমাট ছিলো নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া। প্রচার-প্রচারণায় সরব ছিলো নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া। আইনজীবীদের মধ্যে ছিলো উৎসবমুখর আমেজ।
তার আগে বিগত ১৬ বছরে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিএনপির আইনজীবীরাও স্বস্তিতে থাকতে পারেননি। তাদেরকেও নানাভাবে নির্যাতন নিপীড়ন অপমান অপদস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি জামায়াত সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আইনজীবীরাও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। আইনজীবীরা নিরাপদে ভোট দিতে পারেননি। নির্বাচনের সময় বহিরাগতরা আদালতপাড়ায় এসে শোডাউন দিয়েছেন। আইনজীবীদেরকে হেনেস্তা করেছেন।
এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরাও আত্মগোপনে চলে যান। তাদের এই আত্মগোপনে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর আইনজীবী সমিতির কর্তৃত্বে আসেন বিএনপির আইনজীবীরা।








































আপনার মতামত লিখুন :