নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ন মিটিং। যেখানে নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীরদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা। উপস্থিত ছিলেন জেলার চারজন সংসদ সদস্য, দুই জন প্রশাসক, নাউক চেয়ারম্যান সহ জেলার সবকয়টি সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
গুরুত্বপুর্ন এই বৈঠককে ঘিরে পুরো জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জুড়ে ছিলো বাড়তি নিরাপত্তা। জেলার নানান সমস্যা ও আইন শৃঙ্খলা বিষয় নিয়ে যখন চলছে জরুরী বৈঠক। ঠিক তখনই সম্মেলন কক্ষের পাশে করিডোরে দেখা গেছে নিতাইগঞ্জ ও কাশিপুর অঞ্চলের ত্রাস খ্যাত ডাকাত শহীদ ও তার অনুসারীদের। গুরুত্বপুর্ন এই বৈঠকস্থলে ডাকাত শহীদের উপস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন অনেকেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিটিং চলাকালে দুপুরে সম্মেলন কক্ষের বাইরে দেখা যায় শহীদ ও বাপ্পী চিশতিকে। সম্প্রতি শহীদের আস্তানায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) এর নেতৃত্বে অভিযানও পরিচালনা করা হয়। সেই শহীদকে ডিসি অফিসের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে যেমন অবাক হয়েছেন উপস্থিত সংবাদকর্মী ও রাজনৈতিক নেতারা। সেই সাথে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শহীদের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলো শহীদ ও বাপ্পি। মূলত শহীদ বাহিনী সরকারের বিভিন্ন এমপি মন্ত্রীদের সামনে পেলে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে ছবি তোলে। এরপর সেই ছবি প্রচার করে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত করে। এভাবেই আওয়ামী লীগ আমল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত নেতাদের শেল্টার আর ছবি ব্যবহার করে চলছে তাদের আধিপত্য।
উল্লেখ্য, শহীদ গ্রুপের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। এই ঘটনার পর ডাকাত শহীদ বাহিনী তাদের ভাড়াটে লোকজন নামিয়ে এমপি আল আমিনের হাত ভেঙ্গে দেয়ার ঘোষণা দেয়। প্রকাশ্যে একজন এমপিকে হুমকি দেয়ার পরেও প্রশাসনের রহস্যজনক আচরণ লক্ষ্য করা যায়। চাপের মুখে শহীদ বাহিনীর আস্তানায় দুই দফা অভিযান চালালেও আগেই টের পেয়ে যাওয়ায় সটকে যায় অপরাধীরা। যেই কারনে খালি হাতেই ফিরতে হয় পুলিশ প্রশাসনকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শহীদ বাহিনীর এমন বেপরোয়া আচরণ প্রমাণ করে ক্ষমতাসীন দলের শেল্টার খুঁজতে মরিয়া তারা। নানান ভাবে বিতর্কিত ও চাপের মুখে পড়ায় নতুন শেল্টার খুঁজছেন প্রতিনিয়ত। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলে এই শহীদ বাহিনীর উপদ্রব কমে আসবে। অন্যথায় তারা নানান কৌশলে এমপি মন্ত্রীদের সাথে ছবি তুলে নিজেদের জাহির করার চেষ্টা অব্যহত রাখবে।


































আপনার মতামত লিখুন :