News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

বেপরোয়া আজমেরী ওসমানের অনুসারীরা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম বেপরোয়া আজমেরী ওসমানের অনুসারীরা

নারায়ণগঞ্জে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে আজমেরী ওসমানের অনুসারীরা। এসব অনুসারীরা কোন কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না। প্রতিটি কর্মসূচি শেষেই মিলছে টাকা। যেই কারণে পুলিশ বা আইনের প্রতি ভয়ভীতি একেবাইরে নেই। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে আজমেরী ওসমানের পক্ষে দফায় দফায় মিছিল নামানোর নেপথ্যে রয়েছে যুবলীগের নেতৃত্ব বাগিয়ে নেয়ার প্রতিযোগিতা। সেই প্রতিযোগিতায় সফল হবার লক্ষ্যে শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত নেতাকর্মীদের নামিয়েছিলো তারা। তবে কয়েকদফা গ্রেপ্তার অভিযানের কারণে পিছু হটেছে সেই গ্রুপটি। এমন অবস্থায় নতুন করে পরিকল্পনা সাজিয়েছে আজমেরী ওসমান বাহিনী।

সূত্র বলছে, বিভিন্ন পাড়া মহল্লার যাদের অধিকাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছর। সম্প্রতি জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়া হয়। যার পুরো পরিকল্পনাতেই ছিলো আজমেরী ওসমান বাহিনী। অন্তত ৫ লাখ টাকা বাজেট করা হয়েছিলো স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের জন্য। সেই টাকা দিয়ে ধাপে ধাপে সোর্স মোতায়েন, মোটরসাইকেল ব্যবহার, সন্ত্রাসী নিযুক্ত করা এবং পরবর্তীতে কিছু ইউটিউবারের কাছে ভিডিও পৌছে দিয়ে তা প্রচারের ব্যবস্থা করা। পুরো প্রক্রিয়াতেই যুক্ত ছিলো একাধিক সদস্য। মাদকসেবী ও কিশোরগ্যাং দিয়ে মূল অগ্নিসংযোগের কাজ করালেও পুরো বাহিনির সক্রিয় সদস্যরা সেই ভিডিও ধারন থেকে শুরু করে তা ফেইসবুকে প্রচার প্রচারণার কাজটি করে।

স্মৃতিস্তম্ভে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন থাকলেও মাদকসেবী দিয়ে অপরাধ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে আজমেরী বাহিনী। হিতাহিত জ্ঞান না থাকার সুবাদে তাদের দিয়ে এই কাজ করানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া হাইয়েস গাড়ি ভাড়া করে দূর দূরান্তে পিকনিকের নাম করে গিয়ে ঝটিকা মিছিল করার ক্ষেত্রেও পারদর্শী এই আজমেরী ওসমান বাহিনী।

সবশেষ ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় বড় একটি বাহিনী জড়ো করে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো আজমেরী বাহিনী। পুলিশের গোয়েন্দা তৎপরতায় ভেস্তে যায় সেই পরিকল্পনা। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ১০ জনকে। বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে এই দুঃসাহস এখানেই থামেনি। থানায় গারদে নেয়ার পর এরাই ফোনে ভিডিও করে তা পৌছে দেয় আজমেরী ওসমানের কাছে। যেখানে আজমেরী ওসমানের প্রতি নিজেদের আনুগত্য ও আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান দিয়ে ভিডিও করেন।

এদিকে থানার গারদের মত স্পর্শকাতর স্থানে বসে আসামীদের ভিডিও বার্তা ও স্লোগান দেয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তীব্র সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে। ফতুল্লা থানার একজন এসআই ও একজন কনস্টেবলকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, আজমেরী ওসমানের অনুসারীরা নানান ভাবে পুলিশকে চাপের উপর রাখছে। পুলিশের সামনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ, থানায় বসে ভিডিও বার্তা। উভয়েই পুলিশের প্রতি তাদের বেপরোয়া মনোভাব প্রকাশ করেছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে পুলিশ আরও সতর্ক থাকবে। সেই সাথে এই মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাং দমনে তৎপর হবে পুলিশ।