News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

দুঃসময়ে বন্ধুত্ব, সুসময়ে প্রতিপক্ষ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম দুঃসময়ে বন্ধুত্ব, সুসময়ে প্রতিপক্ষ

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগ মূহূর্তে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের সুসম্পর্ক প্রত্যেকের জানা রয়েছে। তবে, নির্বাচন যেতে এই দুই নেতা একে-অপরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষে পরিণত হয়েছে। যা দলীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে তৃনমূল অভিযোগ করছেন।

আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ও আজহারুল ইসলাম মান্নানরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণতন্ত্রের লড়াই করেছেন। বলাচলে অতন্ত্য দুঃসময়ে একত্রিত থেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির হাল ধরে রেখেছিল। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে একেবারে ভিন্ন চরিত্রের দেখে মিলছে। এককথায় দুঃসময়ের বন্ধুত্ব এখন সুসময়ে শত্রুর রুপে। আর তাদের এহেন কর্মকান্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা ও বিভেদ তৈরি হচ্ছেন বলে তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন।

তথ্যমতে, নির্বাচনের আগ মূহূর্তে সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান শুধুমাত্র নিজ উপজেলা সোনারগাঁয়ে অধিপত্যের জোর দেখালেও নির্বাচিত হয়ে তার সংসদীয় আসনের আওতাধীন সিদ্ধিরগঞ্জকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রচেষ্টায় রয়েছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সেক্টর নিয়ন্ত্রণে মামুন মাহমুদের বলয়ের সঙ্গে এমপি অনুসারীদের মুখোমুখি অবস্থান নজরে পড়েছে। যা সংঘাতের পর্যায়েও চলে গিয়েছে।

তবে এই দূরত্ব কিংবা বৈরীতা দলীয় রাজনীতিতে একধরনের ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।

১৮ মার্চ দুপুরে শীতলক্ষ্যা নদী ঘেঁষা বালুর ঘাটের লোড-আনলোডের ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে এই দুই নেতার অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। সেই সংঘর্ষে মামুন মাহমুদের আপন ছোট ভাই রাসেলও আহত হন। এছাড়াও ১৮ জুন এমপি মান্নান ঘনিষ্ঠরা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যলয় দখল নিয়ে সমালোচনার জায়গায় তৈরি করেছেন। কার্যলয়টি দখলের বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে মান্নান এবং মামুন মাহমুদের বক্তব্য দেওয়া স্পট প্রতিপক্ষের ইঙ্গিত দেয়। যা দলীয়ভাবে নেতাকর্মীদের বিভেদ ও ঐক্য ভাঙ্গার মূল কারণও।

নাম প্রকাশ না করার সর্তে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন,এমপি মান্নানের সঙ্গে নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে মামুন মাহমুদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যার সমাধান না হয়ে একে-অপরের প্রতিপক্ষের ভূমিকায় কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সম্পর্কের অবনতিতে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও বিভক্ত হতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এদিকে এমপি মান্নানের বিজয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে মামুন মাহমুদের শক্তি কমতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে তার অসংখ্য কর্মীরা এমপি বলয়ে যুক্ত হয়ে বিরোধিতায় জড়াচ্ছেন। যার অন্যতম উদাহরণ হিসেবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন,৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন ও সাবেক নেতা রুহুল আমীনসহ বেশ কয়েকজন। এরা প্রত্যেকে বিগত দুঃসময়ে মামুন মাহমুদের সঙ্গে রাজনীতি করেছিলেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা মামুন মাহমুদের বলয় ছেড়ে এমপি বলয়ে যুক্তের সম্পর্কে ব্যবসায়ী স্বার্থ বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছেন বলে নাম না প্রকাশ করার সর্তে আদমজী ইপিজেডের এক ঠিকাদার জানিয়েছেন। তিনি বলেন,দীর্ঘ লম্বা সময়ে মামুন মাহমুদের পেছনে রাজনীতি করেও তার ঘনিষ্ঠরা গনঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। যার জন্য তারা তাদের শীর্ষ নেতার দুর্বলতাকে দায়ী করে সুযোগ-সুবিধার প্রত্যাশা নিয়ে এমপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।