অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটিজ অব অস্ট্রেলিয়া (এফবিএমএসএ)-এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে।
কমিটিতে নিউ সাউথ ওয়েলসের চিকিৎসক ডা. রশিদ আহমেদকে সভাপতি এবং কুইন্সল্যান্ডের ডা. গোলাম সারোয়ারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ডা. গোলাম সারোয়ার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনের ছোট ভাই।
২৭ সেপ্টেম্বর সিডনিতে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির বার্ষিক সাধারণ সভা, বার্ষিক সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক সিম্পোজিয়াম-২০২৬-এ নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন পরিচালনা করেন এফবিএমএসএর নির্বাচন কমিশনার ডা. মো. ওয়াজিদ।
নতুন কমিটিতে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি হয়েছেন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ডা. মোহাম্মদ শহীদ রাজু। সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন ভিক্টোরিয়ার ডা. মাহফুজ চৌধুরী। যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন তাসমানিয়ার ডা. মো. লুৎফর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ডা. ফারহানা রওশন খান।
এছাড়া শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটোরির ডা. সাতিলা জাফরিন, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ চৌধুরী এবং প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে ভিক্টোরিয়ার ডা. আশরাফ উল ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন।
নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটোরির ডা. ময়েজুর রহমান ও ডা. সাইদুল ইসলাম, নিউ সাউথ ওয়েলসের ডা. নাজমুন নাহার, এ/প্রফেসর রেজা আলী ও ডা. মিহির রায়, নর্দার্ন টেরিটোরির ডা. মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন আহমেদ ও ডা. তাশফীন আহমেদ ভূঁইয়া, কুইন্সল্যান্ডের ডা. মোহাম্মদ ইসলাম ও ডা. মাজহার হক, সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ডা. মোহাম্মদ আহমেদুল্লাহ ও ডা. ফাতিমা মুসরাত, তাসমানিয়ার ডা. আহমেদ তানভীর তাহের, ভিক্টোরিয়ার ডা. মোহাম্মদ মাইনুল হাসান এবং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ডা. জান্নাতুল তাজরিন। সদ্য সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ডা. মোশাররফ হোসেন খান।
এফবিএমএসএ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য ও টেরিটোরিতে থাকা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সংগঠনগুলোকে একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্য ও দুটি টেরিটোরিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক বসবাস ও কর্মরত আছেন। তাঁদের অনেকে হাসপাতাল, জেনারেল প্র্যাকটিস, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন কমিটির মেয়াদে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া চিকিৎসকদের পেশাগত যাত্রা সহজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কাজের সুযোগ, পেশাগত নেটওয়ার্কিং, মেন্টরশিপ এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার মাধ্যমে নতুন অভিবাসী চিকিৎসকদের সহায়তা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষা, নেতৃত্ব ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে তাঁদের সহযোগিতা করার বিষয়টিও নতুন কমিটির পরিকল্পনায় রয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গেও সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় এফবিএমএসএ। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, জেনারেল প্র্যাকটিস, চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং স্বাস্থ্যসেবার কারিগরি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
এফবিএমএসএর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি দুই দেশের চিকিৎসক, পেশাজীবী সংগঠন ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। বৈজ্ঞানিক সম্মেলন, সিম্পোজিয়াম, শিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের মধ্যে যোগাযোগ ও জ্ঞান বিনিময় বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত থাকবে। নতুন কমিটি এসব কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি চিকিৎসক সমাজ ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সেতুবন্ধন আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় জানিয়েছে।









































আপনার মতামত লিখুন :