সোমবার রাতে বক্তাবলীতে জেলা এনসিপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আক্রান্ত হন বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্বারা। খবর ছড়িয়ে যেতেই সর্বোচ্চ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এনসিপি। নিজেদের কর্মীর উপর হামলার ঘটনায় আইনগত ভাবে যা যা করনীয় সবকিছু করেছে দলটি। সেই সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য যেভাবে ছুটে এসেছেন তাতে দলের কর্মীরা যেমন উজ্জীবিত হয়েছেন, তেমনি প্রতিপক্ষ দলের ভুমিকায় থাকা বিএনপির নেতাকর্মীরাও এর প্রশংসা করেছেন।
এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন বরাবরই কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত। যেকোন পর্যায়ের পদে থাকা নেতাকর্মীদের সুবিধা অসুবিধায় ছুটে যেতে দেখা যায় তাকে। কোন নেতাকর্মী অসুস্থ হলে কিংবা বিপদে পড়লেই ছুটে যান তিনি। প্রতি সপ্তাহে জুমার নামাজ একেক মসজিদে আদায় করে সেই এলাকার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। এভাবেই তিনি অন্য যেকোন এমপির চাইতে নিজেকে আলাদা ভাবে মেলে ধরেছেন।
তবে এবার কর্মীর জন্য যেভাবে ছুটে গেছেন এবং ক্ষমতাসীন দলের সাথে সাথে রীতিমত চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। সেই দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়েছেন খোদ বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রশংসা করেছেন এমপির এমন কর্মীবান্ধব ভুমিকার। পাশাপাশি নিজেদের দলের নেতা ও এমপিদের সমালোচনাও করেছেন তারা।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সাইদ রেজা খান লিখেন, ‘আমি তর্কে বিতর্কে যাব না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ চার আসনের এনসিপির এমপি আল আমিন তার দলের একজন কর্মীর জন্য থানায় এবং বক্তাবলীতে যে ভুমিকা রাখলো সেটা আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন? আমার কাছে তার এই ভুমিকা সত্যিকারের একজন নেতার মত মনে হয়েছে।’
সাইদ রেজার এই পোস্টে অন্তত ৬৬ জন কমেন্ট করেছেন। তার মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। প্রায় প্রত্যেকেই তার লেখার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং নিজ দলের (বিএনপির) এমপি ও নেতাদের সমালোচনা করেছেন।
বক্তাবলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খান লিখেন, ‘একজন রানিং এমপি হয়ে যেভাবে কর্মীর জন্য রাস্তায় নেমেছে। সেখানে অনেক আহবায়ক/সদস্য সচিবকে কর্মীর খোঁজ নিতেও দেখা যায় না।’
নুরুজ্জামানের এই পোস্টেও অন্তত ২২ জন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী তার লেখার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং বিএনপির নেতাদের বর্তমান আচরণের সমালোচনা করেন। আবার কেউ কেউ সতর্ক করেন এই ধরণের মন্তব্য লিখলে দল থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আসতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরেই এমপি আল আমিন ঢাকা থেকে রাতেই ছুটে আসেন। থানায় অবস্থান করে এজাহার দায়ের করে বের হন রাত সাড়ে ১২ টায়। এরপর ১ টা নাগাদ উপস্থিত হন খানপুর হাসপাতালে। সেখানে আহত তৌহিদের সাথে কথা বলে রাত ২ টার দিকে ঢাকায় ফেরত যান।
পরদিন সকালে যথারীতি উপজেলা কার্যালয়ে অফিস করেন। অফিস শেষে বিকেলে ছুটে যান বক্তাবলীতে। সেখানে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। নেতৃত্ব দেন নিজেই। হাজারো নেতাকর্মী নিয়ে শোডাউন দেন হামলাকারীর এলাকায়। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের একশনের দাবী জানান। অন্যথায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠবে এমন সতর্কবার্তা প্রদান করেন। পাশাপাশি বক্তাবলীতে মাটি কাঁটা চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় নৌ ফাঁড়ির পরিদর্শককে মুঠোফোনে কড়া ভাষায় ধমক দেন।
এই চিত্র দেখে এনসিপির নেতাকর্মীরা যেমন উজ্জীবিত হয়েছে। তেমনি বক্তাবলীর মানুষও খুশি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারাও চাচ্ছেন এই অঞ্চলে অবৈধ মাটি কাঁটা বন্ধ হোক। পাশাপাশি, বিএনপির নেতাকর্মীরা চোখের সামনে একজন নতুন এমপি তার কর্মীর প্রতি যেই দায়িত্বশীল আচরণ দেখিয়েছেন তাতেও তারা মুগ্ধ হয়েছেন। কেউ কেউ আক্ষেপও করেছেন তাদের দলে এমন নেতা না পাওয়ায়।

































আপনার মতামত লিখুন :