‘আমার ছেলের মতো অন্য কারও জীবন যেন না যায়। আমি ন্যায্য বিচার চাই। আমার ছেলের কোনো দোষ ছিলো না। আমার ছেলের জন্য গ্রামবাসী কাঁদছে। আমি চাই আমার ছেলের হত্যাকারীরা ধরা পড়ুক। আমার ছেলেকে মেরে মদনপুরে ফেলে রেখেছে। আমার ছেলে সেখানে কিভাবে গেলো এটা আমার প্রশ্ন? আমার একমাত্র ছেলে ছিলো। আমি কি নিয়ে বাঁচবো।’
এভাবেই আহাজারি করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিহত মো. হাবিবুল্লাহ শেখ ওরফে নাসিমের (২২) মা নাজমা বেগম।
৩০ সেপ্টেম্বর সকাল সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ইউনিয়নের লালআটি এলাকার অলিম্পিক কারখানার পাশেই মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। হাবিবুল্লাহ শেখ ওরফে নাসিম নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে।
নিহতের মা নাজমা বেগম বলেন, আমার স্বামী প্রায় চার বছর আগে মারা গেছে। আমার চার মেয়ে এক ছেলে ছিলো। মেয়েদের বিবাহ হয়ে গেছে। বর্তমানে আমি অসুস্থ মানুষ। এই অবস্থায় আমার ছেলে আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতো। আমার ছেলে আমার হাতের লাঠি ছিলো। আমি যখন রাস্তা-ঘাটে যখন বের হতাম তখন আমার ছেলের কাঁধে হাত রেখে বের হইহাম। আমাকে কাজ করতে দিতো না। আমাকে রান্না করে খাওয়াতো। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে; আমি এই হত্যার বিচার চাই।
নিহত মো. হাবিবুল্লাহ শেখ ওরফে নাসিমের বড় বোন সাথী বেগম বলেন, আমাদের চার বোনের একজন ভাই ছিলো। আমার ভাই আমাদের অনেক আদরের ছিলো। আর সেই ভাইকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে মেরে মদনপুরে ফেলে রেখেছে। আমরা জানিনা কারা আমার ভাইকে মেরেছে। তবে আমরা ভাইকে মারা হয়েছে এটা জানি। আমরা আমাদের ভাই হত্যার বিচার চাই।
নিহতে ভাগিনা সিফাত বলেন, আমার মামা অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।
সোনারগাঁ তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, মরদেহের পাশেই তার পরিচয়পত্র পড়ে ছিল এবং সেই পরিচয়পত্র দ্বারা নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতের বুকে ছুরির আঘাত রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সোনারগাঁ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, এই ঘটনায় এখনও অভিযোগ করা হয়নি। স্বজনরা হয়তো লাশের কাফন দাফন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। তবে এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে; প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।





































আপনার মতামত লিখুন :