News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় গুরু মারা দুই শিষ্যের উত্থান


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় গুরু মারা দুই শিষ্যের উত্থান

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একটি আলোচিত বিষয় হলো গুরু মারা শিষ্য। অর্থ্যাৎ যার মাধ্যমে রাজনীতিতে বেড়ে উঠা; রাজনীতিতে পদ পদবী পাওয়া; পরবর্তীতে তাকেই ল্যাং মেরে এগিয়ে যাওয়া। ঠিক তেমনি নারায়ণগঞ্জ আদালতে গরু মারা দুই শিষ্যর উত্থান ঘটেছে। যারা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের মাধ্যমে রাজনীতিতে বেড়ে উঠেছেন এবার সেই সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথেই পল্টি মেরেছেন। সাখাওয়াত হোসেন খানকেই হেনস্তা করার চেষ্টা করেছেন।

জানা যায়, ৬ অক্টোবর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী ভবনের দ্বিতীয় তলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহŸায়ক ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে।

আর এই ঘটনার মূল নায়ক হিসেবে ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান ও নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির। অথচ এই দুইজনেই একসময় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের খুবই ঘনিষ্ট ছিলেন। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া বিএনপির রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন খানের মাধ্যমে। সবশেষ তারা সাখাওয়াত হোসেন খানকেই নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া থেকে মাইনাস করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন থেকে শুরু করে মহানগর বিএনপির রাজনীতির প্রতিটি পদক্ষেপে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করে আসছেন। বিনিময়ে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বিএনপির রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হন।

বিশেষ করে এইচ এম আনোয়ার প্রধান নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পরপর দুইবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়ানের হোসেন খানের সমর্থনে। এইচ এম আনোয়ার প্রধানের প্রতি সাখাওয়াত হোসেন খানের সমর্থন না থাকলে হয়তো এই সুযোগ আসতো না। একই সাথে আনোয়ার প্রধান মহানগর বিএনপির রাজনীতিতেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন খানের মাধ্যমে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিএনপির রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন বর্তমান পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির। একসময় আবুল কালাম আজাদের বিএনপির রাজনীতিতে কোনো পরিচিত ছিলো না। আইনজীবীদের মাঝেও তার তেমন গ্রহণযোগ্যতা ছিলো না। কিন্তু সাখাওয়াত হোসেন খানের মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে এগিয়ে যান। সেই সাথে সবশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবেও নিয়োগ পান।

এর আগে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আর এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুইটি প্যানেল ঘোষণা দিয়েছিলেন। একটি প্যানেলের প্রতিদ্ব›দ্বীতায় ছিলেন সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন, সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট সীমা সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আলী হোসাইন।

অন্য প্যানেলের সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আজিজুল হক হান্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট একেএম ওমর ফারুক নয়ন। সম্মেলন শেষে তাদের জয় হয়েছিলো।

আর এই সম্মেলনে তাদের প্রতি পুরোপুরি সমর্থন ছিলো অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের। সে সময়ে তাদের প্যানেলের পক্ষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করেছিলেন সাখাওয়াত হোসেন খান।

কিন্তু এবার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান ও নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকিরই যেন আদালতপাড়ায় সাখাওয়াত হোসেন খানের প্রধান শত্রæ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন। তারা দুইজনই আদালতপাড়ায় সাখাওয়াত হোসেন খানের রাজনীতি শেষ করার প্রচেষ্টায় রয়েছেন।