News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রমিক আন্দোলন হাতেমকে দুষলেন এনসিপির এমপি আলামিন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম শ্রমিক আন্দোলন হাতেমকে দুষলেন এনসিপির এমপি আলামিন

নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে দোষারোপ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন।

৪ নভেম্বর তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই পোস্ট করেন।

তিনি লিখেন, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি আন্দোলনে আমাদের সমর্থন আছে। বেতন কতটা বাড়বে সেটা প্রকৃত শ্রমিক এবং শিল্প মালিকদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত নির্ধারণ করা সরকারের-ই দায়িত্ব। আমরা চাই শ্রমিক যাতে বঞ্চিত না হয়, একইসাথে শিল্প মালিকরাও যাতে ব্যবসা চালিয়ে নিতে পারেন এমন সমন্বিত সিদ্ধান্ত। এই ইস্যু ঝুলিয়ে রাখলে দেশের গার্মেন্টস শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আন্দোলনে শ্রমিক মারা গেছেন। গায়েবানা জানাজাতে সাউন্ড গ্রেনেড মারছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এসব ঘটনা সমস্যাকে বাড়াবে। সরকারের থেকে এখন পর্যন্ত দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং অ্যাকশন দেখা গেলো না। শুধু মজুরী বোর্ড করে, আর দমনের পথে গেলে অসন্তোষ কমবে না। স্পষ্ট রোডম্যাপ বা ঘোষণা দিতে হবে।

এই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন ও অংশগ্রহণ আছে। কিন্তু এর দায় কার? আওয়ামী ট্যাগ দিয়ে প্রকৃত শ্রমিকের দাবীকে অস্বীকার করা যাবে না। সারা বছর লীগের লোকজনকে শেল্টার দিয়ে আন্দোলনের সময় লীগের জুজুর দেখালে হবে না।

নারায়ণগঞ্জের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সুযোগ পাওয়ার কারণ, বিকেএমইএ সভাপতি মো.হাতেম। একজন লীগের দোসর ওসমানদের দালালকে পদে বসিয়ে রেখে লীগকে ঠেকাবেন কিভাবে? সে নিজেই – আওয়ামী লীগ। প্রশাসন যদি জুলাইয়ে খুনী হাসিনার পক্ষ নেয়া হাতেমের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয় তাহলেই লীগের ইন্ধন কমে যাবে। সর্ষের মধ্যে ভূত বসায়া রেখে রাজপথে লীগ খোঁজার কোনো মানে হয় না।

আমি বিএনপির নেতৃবৃন্দকেও বারবার বলেছি, শিল্প মালিকদের সংগঠনে হাতেমের মতো লীগের দোসর বসায়া রাখলে সরকারই বিপদে পড়বে। কারণ ভিতর থেকে সাবোট্যাজ হবে। অথচ দুঃখের বিষয়, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ গার্মেন্টসের ঝুটের ভাগ আর চাঁদার জন্য হাতেমের মতো ওসমানদের দোসরের সাথে আঁতাত করেছেন, শেল্টার দিচ্ছেন। আপনারাই কোনমুখে আবার আন্দোলনে লীগের জুজু দেখান? লজ্জাও করে না? গোড়া কেটে আগায় পানি দিয়ে লাভ হবে না। ঝুট আর চাঁদার জন্য লীগের সাথে আতাত করে আন্দোলনে লীগের ঠেকানোর লোক দেখানো রাজনীতি বন্ধ করলেই নারায়ণগঞ্জ স্থিতিশীল হবে।

এনসিপি শ্রমিকের ন্যায্য মজুরী বৃদ্ধির পক্ষে। কতো বাড়বে তা সরকারকেই আলোচনা করে নির্ধারণ করতে হবে দ্রুত। দেশের স্বার্থে শিল্পও বাঁচাতে হবে আবার শ্রমিককেও বাঁচাতে হবে। শিল্প ও শ্রমিক একে অপরের পরিপুরক, শত্রু নয়। মালিকও শ্রমিকদের উপর জুলুম করবে না, শ্রমিকও ধংসাত্মক কিছু করে দেশ ও শিল্পের ক্ষতি করবে না; এমন সমাধানে আসতে হবে।

আন্দোলনে সুযোগ নিতে বা সাবোট্যাজ করতে আসলে নিষিদ্ধ লীগকে অবশ্যই কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

কিন্তু সমস্যা সমাধান না করে ঝুলিয়ে রাখলে দেশ এবং শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দায় সরকারকেই নিতে হবে।