নারায়ণগঞ্জ শহরের জিমখানা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদের পরও তাদের পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে নতুন জিমখানা এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে জানানো হয়, নতুন জিমখানা এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের উচ্ছেদের পরও তারা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। পাশাপাশি মিথ্যাচারের মাধ্যমে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানানো হয়।
তারা বলেন, মাদক ব্যবসায়ী তানভীর জিমখানা থেকে বনসই দিয়ে গেছে। তারা বলেছে যে তারা এই এলাকায় মাদক ব্যবসা করবে না। সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাবে না। কিন্তু জেল থেকে বের হয়েই এখন আবার বলছে অস্ত্র কিনবে আমাদের মেরে ফেলবে। এখন আমাদের মনে হচ্ছে মাদক উচ্ছেদ করে আমরা বড় ভুল করে ফেলছি। জিমখানায় কিছু লোক ছিলো যারা মাদক সন্ত্রাস এর সাথে জড়িত ছিলো। ওরা এই এলাকার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলো। ওদেরকে কিছু বলা যেত না, বললেই ওরা হামলা করতো, গালাগালি করতো। মাদক দিয়ে এই এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংস করেছে। সারা নারায়ণগঞ্জবাসী জানে জিমখানা মাদকের প্রধান স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম।
তারা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন নির্দেশ দিলো মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স তখন থেকে আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেই এবং মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসীদের, ছিনতাইকারীদের উৎখাত করতে সক্ষম হই। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে আমরা ভুল করেছি, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করে আমরা পাপ করে ফেলছি। কারণ ওরা আমাদের অনলাইন এবং অফলাইনে নানাভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগালি, মেরে ফেলার হুমকি-ধামকি প্রদান করে। আমাদের ঘুম হারাম করে ফেলেছে। আমরা আমাদের কর্মস্থানে যেতে পারছি না। আমরা স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছি না।
দপ্তর সম্পাদক সানি বলেন, এই মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও দাঁড়াতে পারে নাই। তারা মাদক উচ্ছেদ এর অভিযানে এসে কোপ খেয়েছে, দৌড়ানি খেয়েছে। কিন্তু আমরা এলাকাবাসী একত্রিত হওয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে দাড়াতে এবং এর সাথে যুক্তদের উচ্ছেদ করতে সক্ষম হই। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ওই মাদক কারবারীরা আমাদের গুলি করে মেরে ফেলার, কোপানোর হুমকি দেয়। আমরা যারা ছিলাম তাদের মাথা প্রতি পাঁচলাখ করে বাজেট করছে। আমাদের মাথা নিয়ে যাবে। কাজকর্মে যেতে পারছি না। বিভিন্ন ভাবে আমাদের থ্রেট দিচ্ছে। ভালো কাজ করে আমরা থ্রেট খাচ্ছি। এই থ্রেট খাওয়ার পর আমরা উপরমহলের কাছে সাহায্য চেয়ে কোনো প্রকার সহযোগিতা পাই না। থানায় ওসি সাহেবকে ফোন দিয়ে তাদের সহযোগিতা চাইলে তারা রাগান্বিত হয়, বিরক্ত বোধ করে, ধমক দেয়। আরেহ আপনারা আমাদের কেন ধমক দিবেন? আমরা তো আপনাদের আরও সহযোগিতা করছি। গত কয়েক দিন আগে আমরা একটা ঝামেলার শিকার হয়ে সদর থানার ওসিকে ফোন দিয়েছি। তিনি ধমকের সুরে বলেছেন, আমাদের পঞ্চায়েত নাকি উড়াইয়া দিবো। যে কাজটা আপনাদের করার দরকার, সেই কাজটা আমরা এলাকাবাসীরা করে দিচ্ছি। এখন আপনাদের দায়িত্ব আমাদের নিরাপত্তা দেয়ার। কিন্তু তা দিচ্ছেন না। আমরা ওসি সাহেবের কাছে, ডিসি সাহেবের কাছে এমনকি সিংহাম খ্যাত এসপি সাহেবের কাছে বিনীত অনুরোধ করবো যে আপনারা আমাদের জান মালের নিরাপত্তা দিবেন। এটা আপনাদের দায়িত্ব।
সংবাদ সম্মেলনটিতে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মো. ফররুখ আহমেদ ফারুক, সাধারণ সম্পাদক সিহান, সেক্রেটারী খোরশেদ আলম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শাকিল, দপ্তর সম্পাদক সানি সহ অনেকেই।






































আপনার মতামত লিখুন :