আমাদের মেয়ে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে। আমরা এতেই খুশি। তিনি অনেকদিন আমাদের মাঝে ছিলো না। আমরা অনেক কষ্টে ছিলাম। তাকে আবার আমাদের মাঝে ফিরে পেয়েছি। এটাই আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বৃদ্ধ বয়সী নারী সালেহা বেগম। তার ইচ্ছা আইভী যেন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন করেন। সেই সাথে তিনি যেন আবারও মেয়র হন।
বৃহস্পতিবার ৪ জুন সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাড়ির পাশেই বসেছিলেন সালেহা বেগম। সেই সাথে তিনি বসে থেকে আইভীর বাড়িতে আসা লোকজনে আনাগোনা দেখছিলেন। তিনি নিজে গিয়েও আইভীর সাথে কয়েকবার কথা বলে আসছেন।
এর আগে গত বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কারামুক্তি লাভ করে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসায় ফিরেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
এসময় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি চাই সকলকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক। আমার মতো আরও অনেক নিরপরাধ মায়েরা আছে; আশা করি সরকার তাদের প্রতি সদয় হবে।
এদিকে আইভী বাসায় ফেরার পর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজনের আনাগোনা বেড়েছে। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত একের পর এক লোকজন আসছেন তার বাড়িতে।
আইভীর বাড়ির পাশে বসে থাকা আরেকজন নারী রুমা বেগম বলেন, অনেকদিন পর আমাদের মা আমাদের কাছে ফিরে এসেছেন। এটা আমাদের কাছে আনন্দের বিষয়। এখনও তাকে দেখার সুযোগ পাইনি। আপাতত তিনি বিশ্রাম নিচ্ছেন। পরবর্তীতে গিয়ে একসময় দেখা করবো। আমরা সবসময় তার সাথে দেখা করতে পারবো।
আইভীর কারামুক্তির খবর পেয়ে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুরা এলাকা থেকে দেখতে এসেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী হান্নান মিয়া। তিনি এসেই আইভীকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। হান্নান মিয়া বলেন, আইভী মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তাঁকে দেশের মানুষ ভালোবাসে। সেই ভালোবাসা থেকেই তাঁকে দেখতে এসেছি।
রহিমা বেগম নামে আরেকজন বলেন, আইভী নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করেছে। আমরা তাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই।
অন্যদিকে আইভীর বাসভবনের সামনে ও আশপাশের কয়েকটি স্থানে পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা শুধু এখানে নয় বিভিন্ন জায়গাতেই লাগানো হয়েছে। এটা আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম। এটা আলাদা কোনো বিষয় নয়। সেই সাথে তিনি অনেকদিন পর বাসায় ফিরেছেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আবারও আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর আরও দুইটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আর এসকল মামলা তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কারাভোগ করছেন।
স¤প্রতি হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে মোট ১২ মামলায় আইভীর জামিন বহাল রয়েছে এবং তাঁর কারামুক্তিতে এখন আইনি কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবীরা।
প্রসঙ্গত, ২০০৩-২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তিনটি নির্বাচনে টানা জয়ী হন তিনি।



























-20260603135648.jpg)




আপনার মতামত লিখুন :