আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠনগুলো ক্রমশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে গুপ্তভাবে মিছিল করে সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তবে এবার দুটি ঘটনায় দেখিয়েছে দুঃসাহস। সদর থানার পাশে একটি প্রিন্টিং কারখানায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের গেঞ্জি প্রিন্ট করানোর সময়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ফতুল্লায় আজমেরী ও অয়ন ওসমানের পক্ষে মিছিলের সময়ে ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আবার পরে ফতুল্লা থানার ভেতরে হাজতখানায় বসে ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। বিষয়টিকে দুঃসাহস বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
৩০ আগস্ট দুপুরে রিভারভিউ কমপ্লেক্সের আন্ডার গ্রাউন্ডে অবস্থিত একটি ছাপাখানায় অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময়ে আরও ৬/৭ জন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। আসামীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সহিত দলের কর্মকান্ড সংক্রান্তে আলোচনা করে নিষিদ্ধ দলের সদস্য হওয়ার জন্য আহবান, প্রচার/প্রচারণা ও পরিচালনা, সহায়তা করে আসছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো শিহাব আহম্মেদ আরাফাত (২৮), জিহাদ হোসেন ওরফে আলিফ (১৯), সামির হোসেন খান (২৬), রাকিবুল হাসান (৩২)। অভিযানকালে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের হেফাজত ও ঘটনাস্থল থেকে পলাতক ব্যক্তিদের ফেলে যাওয়া অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লেখা সম্বলিত ৭০টি কালো রঙের গোলগলা টি-শার্ট, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সম্বলিত ৪০টি লেমিনেটেড স্টিকার এবং স্টিকারবিহীন ১০টি কালো রঙের গোলগলা টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়।
আগের দিন ২৯ আগস্ট রাতে চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড প্রধান সড়কের পূর্ব পাশে শান্তিধারা ২ নং রোডস্থ মসজিদের পাশে কতিপয় ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সরকার বিরোধী কর্মকা- ও ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে জানতে পেরে পুলিশ অভিযান চালায়। ওই সময়ে ৯জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা তাদের সঙ্গে থাকা অন্যান্য নাম-পরিচয় প্রকাশ করে এবং তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য বলে জানায়। ধৃত আসামিরা আরো জানায় যে, নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও তার ছেলে এ কে এম অয়ন ওসমানের প্ররোচনায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ছাত্রলীগ/যুবলীগ/আওয়ামীলীগ নামীয় সংগঠনের সদস্য হিসাবে সংগঠনের কার্যক্রমের প্রচার/প্রচারণা, পরিচালনা করে আসছে। তারা পরে থানা হাজতে বসে ভিডিও বার্তায় বলা হয়, "আসসালামু আলাইকুম ভাইজান। আজ আপনার প্রোগ্রামে আমরা এটেন্ড করতে পারিনি। আমরা যেতে চেয়েছিলাম। আমরা মুক্তির জন্য লড়াই করতে গিয়ে আজকে এই কারাবরণ করতে হচ্ছে। আমরা আপাতত জেলের ভেতরে। এটা কিসের বাক স্বাধীনতার দেশ? কিসের মুক্তির দেশ? আমরা স্বাধীনতা চাই।"


































আপনার মতামত লিখুন :