গত শনিবার বন্দরের তিনাগঁও উত্তরপাড়া এলাকায় লোকালয়ে একটি কুমির দেখতে পায় এলাকাবাসী। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর মধ্যে ৪দিন অতিবাহিত হলেও দেখা যাওয়া সেই কুমিরটি উদ্ধার করতে পারেনি বনবিভাগের কর্মকর্তা।
সরেজমিনে বন্দর ইউনিয়নের তিনগাঁও উত্তরপাড়া এলাকা ঘুরে কুমিরটি ব্যাপারে এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে জানা যায়, ওইদিন মসজিদের সামনে দিয়ে একটি ডুবায় নেমে যায় কুমিরটি এরপর আর কুমিরটিকে ওই এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়নি।
শনিবার রাত ১০টায় প্রথম কুমিরটি দেখতে পায় কাউসার নামের এক যুবক। সাথে সাথে যে ফেসবুকে লাইভে আসে। তার লাইভ দেখে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। অল্প কয়েকজন লোক আসার পর পরই কুমিরটি ধীরে ধীরে ওই ডোবায় নেমে যায়। এরমধ্যে এলাকায় কুমির দেখতে পাওয়ার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আশে পাশের বহু মানুষ ছুটে আসে। তবে ছুটে আসা বেশি ভাগ মানুষই কুমিরটিকে দেখতে পায়নি। একদিন পর কুমিরের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।
কুমির দেখতে পাওয়া কয়েকজন তরুণ জানান, তারা কুমির দেখতে পেয়ে সাথে সাথেই রাত ১০টায় ৯৯৯ এ কল দিয়ে জানিয়েছিলেন। রাত ১টায় থানা থেকে পুলিশ এসেছিলো। বনবিভাগের লোক এসেছিলো দুইদিন পরে। দুইদিন পরে আসলে কুমির কোথায় থেকে পাবে।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার বলেন, কুমিরটির অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। বন বিভাগের কর্মকর্তারা কুমিরটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছে। পুকুরে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজনে পুকুরের পানি সেচে হলেও সেটিকে উদ্ধার করা হবে।
গত শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের তিনগাঁও এলাকায় প্রথম কুমিরটি দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কুমিরটিকে লোকালয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। পরে লোকজন ধাওয়া দিয়ে কুমিরটিকে পুকুরের পানিতে নিয়ে যান।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, কুমিরটি পুকুরের পানিতে নেমে যায়। পরে সেটি কোথায় গেছে, তা আর দেখা যায়নি। কুমিরটি ধরতে রোববার বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা পুকুরে জাল ফেলেও সফল হননি।
কুমিরটি দেখার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। সোমবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এতে পুকুর বা পুকুরের পাড়ে না যেতে, কুমিরের কাছে গিয়ে ছবি ও ভিডিও না করতে বলা হয়েছে। শিশু ও গবাদিপশুকে পুকুরের কাছে না নেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
তবে বনবিভাগের কার্যক্রম এতোটুকুতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকার লোকজন।








































আপনার মতামত লিখুন :