নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দফায় দফায় হামলার শিকার হবার পরেও কর্মসূচী সফল করে মাঠ ছেড়েছে উপজেলা এনসিপির নেতাকর্মীরা।
শনিবার বিকেলে নেতাকর্মীদের উপর হামলার পরেও মাঠ ছেড়ে যায়নি। বরং দৃঢ়তার সাথে অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান করেন এবং কর্মসূচী সমাপ্ত করেন। সেই সাথে প্রধান অতিথি নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী কর্মসূচীস্থলে হাজির হয়ে সভা সমাপ্ত করে নিরাপদে ফিরে যেতে সক্ষম হন।
বিকেলে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদি প্রাথমিক স্কুলের মাঠে ফল উৎসবের আয়োজন করে এনসিপি। কেন্দ্রীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাতের নেতৃত্বে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কর্মসূচী বাস্তবায়নে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। তবে শুক্রবার রাতেই দুইদফা অনুষ্ঠান স্থলে হামলা চালানোর অভিযোগ তোলে এনসিপির নেতাকর্মীরা। তাদের দাবী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে অনুষ্ঠানস্থলে।
দুই দফা হামলার পর সকাল থেকে আবারও প্রস্তুতি নিতে শুরু করে এনসিপির নেতাকর্মীরা। বিকেল ৪টার কিছুক্ষণ পুর্বে ফের মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে এসে আবারও হামলা চালানো হয় এনসিপির সভাস্থলে। ভাঙচুর করা হয় প্যান্ডেল, মঞ্চ ও চেয়ার। পিটিয়ে আহত করা হয় অন্তত ৫ জন এনসিপির নেতাকর্মীকে। পরে পুলিশ আসলে সরে যায় হামলাকারীরা।
হামলার পর ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘সুলতান মাহমুদ দফায় দফায় আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের উপর হামলা করেছে তারা।’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী, রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য।
বিকেল ৫ টায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী। পুলিশের প্রটোকলে হাজির হন তিনি। ভাঙ্গা মঞ্চে উঠেই রাখেন বক্তব্য। তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপির এবং বর্তমান সরকারের নানান সিদ্ধান্তের। সেই সাথে রূপগঞ্জ এনসিপির নেতাকর্মীদের উপর হামলার বিচার দাবী করেন। অন্যথায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ঘেরাও দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। সেই সাথে বলে গেলেন, একদিন রূপগঞ্জ এনসিপির ঘাটি হবে।
দফায় দফায় বাধা ও হামলার পরেও এনসিপির কর্মসূচী বাস্তবায়ন এবং নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর আগমনকে এনসিপির বিজয় হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। তারা বলছেন, অতীতে রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগ বাধা দিলে বিএনপি সেখানে কর্মসূচী পালন করতেই পারতো না। কিন্তু এনসিপি বিরোধী দলের ভুমিকায় থেকেও দাঁতে দাঁত চেপে কর্মসুচী বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে। বার বার হামলার শিকার হয়েও নিজেদের কর্মসূচী বাতিল করেনি। রক্তাক্ত হয়েও কর্মসূচী ছেড়ে যায়নি। অন্যদিকে বার বার নিরাপত্তার ঘাটতির কথা শুনেও সভাস্থলে হাজির হয়েছেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। হামলার ভয়ে পিছিয়ে যাননি কর্মসূচী থেকে।
বিশ্লেষকদের মতে, দফায় দফায় হামলা করে এনসিপির ফল উৎসবের মত সাধারণ বিষয়কে দেশব্যাপী আলোচিত করে তুলতে সহযোগীতা করেছে হামলাকারীরা। এটি যদি বিএনপি ও ছাত্রদল করে থাকে তাহলে তারা নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক ভাবে ভুল করেছে এবং এনসিপিকে উপরে তুলতে সহযোগীতা করেছে। যদি এনসিপি কর্মসূচী থেকে সরে যেত সেক্ষেত্রে হামলাকারীরা সফল হতে পারতো। কিন্তু সেটি হতে দেয়নি এনসিপির কর্মীরা। শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটুট ছিলো।





























-20260603135648.jpg)


আপনার মতামত লিখুন :