News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রচারণার চেয়ে ভোট জোটের, বিএনপিকে জনপ্রিয়তা দেখাল জামায়াত


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১০:৪২ পিএম প্রচারণার চেয়ে ভোট জোটের, বিএনপিকে জনপ্রিয়তা দেখাল জামায়াত

নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির জয় ঘটেছে, একটিতে জামায়াতের ইসলামী জোটের শরীক দল এনসিপি চমক দেখিয়েছে। গত দেড় দশকে এবার নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত, ঘটেনি কোন সহিংশতা। শান্তিপূর্ণ এ ভোটের পরিবেশে বিএনপির জয় হলেও একটি বিষয় সামনে এসেছে সেটা হলো বিএনপির বিরুদ্ধে ভোটারদের অবস্থান ও জামায়াত সহ অন্য দলের প্রতি সমর্থন। সেটাও একেবারে গোপন। জেলার চারটি আসনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বিকারী জামায়াতের ভোটের অবস্থান রীতিমত ঘাম ঝরিয়েছে। অথচ তারা যে সংখ্যক ভোট পেয়েছে সেরকম প্রচারণা তো ছিল নাই বরং কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এ পরিস্থিতি। বিশ্লেষকদের মতে, আগামীতে বিএনপি এখন হতেই নিজেদের শুধরে না নিলে ভোটযুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিদায়ের পর নারায়ণগঞ্জে অঘোষিত নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয় সবশেষ ২০০১ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা বিএনপি। এ দেড় বছরে নারায়ণগঞ্জে নানা ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়ে দলের অনেক নেতা। নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হয় দলটি। এ অবস্থায় ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে দল বিএনপিকে।

নারায়ণগঞ্জ-১

রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপিটর প্রার্থী ছিলেন ঐতিহ্যবাহী ভূইয়া পরিবারের উত্তরসরী মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া। এখানে শক্তিশালী কোন প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন না। শুরু থেকেই দিপু বিভিন্ন এলাকাতে গণসংযোগ করে মাতিয়ে রাখেন। তফসিলের পর সবগুলো ইউনিয়নে যখন যান তখন সেখানে প্রচারণার চেয়ে উচ্ছ্বাস বেশী ছিল। সকলের ধারণা ছিল নিশ্চিত বিজয় হবে দিপুর। তিনিও আশাবাদী ছিলেন। তবে কত ভোটের ব্যবধান হয় সেটার দিকে ছিল সকলের নজর। কারণ রূপগঞ্জে জামায়াতের প্রার্থীর প্রচারণা তেমন দেখা যায়নি। সে হিসেবে অনেকের ধারণা ছিল ভোটের ব্যবধান অনেক বেশী হবে। তবে ভোটের ফলাফলে অবাক হওয়ার মত ঘটনা ঘটেছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪ হাজার ৪১৫জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৭১। বাতিল হয়েছে ৪৯৬৭ ভোট। দিপু ভূইয়া ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ ভোট। আনোয়ার হোসেন মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯০ হাজার ২৮৯ হাজার। ব্যবধান বেশী হলেও নীরব প্রচারণায় মানুষের ব্যালট যে দাঁড়িপাল্লাতে পরেছে সেটাও ভাবনার বিষয়।

নারায়ণগঞ্জ-২

নারায়ণগঞ্জ-২ আসন নিয়ে অনেকের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছিল। এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন নজরুল ইসলাম আজাদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। তার দিকে ছিল সকলের নজর। এখানেও জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী ছিল। ধারণা ছিল আঙ্গুর ভালো ভোট টানবেন। জামায়াতেরও নীরব সমর্থন আছে ধারণা ছিল সকলের। আড়াইহাজারেও বিএনপির চেয়ে প্রচারণা কম ছিল জামায়াতের।

এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৬। নজরুল ইসলাম আজাদ ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াছ মোল্লা ৮১ হাজার ৫৪ পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান ও জামায়াতে ইসলামীর ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়ার লড়াই ছিলো হাড্ডাহাড্ডি। শুরুতে এখানে এমপি প্রার্থী ছিলেন খেলাফত মজলিসের শিবলী। পরে তাকে সরিয়ে জামায়াতের ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়াকে চূড়ান্ত করা হয়। ভোটের মাত্র ১০ দিনে আগে তিনি মাঠে নেমেও অনেক এগিয়ে ছিলেন। ভোটের হিসেবে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এগিয়ে গেলেও সোনারগাঁয়ে তিনি আর পারেননি।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৬ জন। ভোট পড়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬১৬ ভোটার। মান্নান সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ইকবাল পান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট। এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের ৬৭ টি কেন্দ্রে ৫১ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়েছেন ইকবাল। তার বিপরীতে আজহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৮৪৫ ভোট। কিন্তু সোনারগাঁয়ের ১৪৩ টি কেন্দ্রে ইকবাল পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৭৮ ভোট এবং আজহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২৫৮ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ-৪

নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে চমক দেখিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আব্দুল্লাহ আল আমিন। নাগরিক পার্টি এবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামী জোটের শরীক দল ছিলেন। নির্বাচনের শুরুতে তেমন আলোচনায় ছিলেন না আল আমিন। কিন্তু সেখানে এবার নীরব বিপ্লব ঘটেছে। বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যতটা দৃশ্যমান প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন ততটাই নীরব সমর্থন পেয়েছেন শাপলা কলির আল আমিন। আলোচনার বাইরে থাকা এ প্রার্থী সকলকে চমকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেই বিজয়ী হয়েছেন। তরুণ বয়সেই সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ী হয়ে আলোচনায় চলে এসেছেন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। ভোট পড়েছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮ ভোটার। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ১৭৭ টি ভোটকেন্দ্রে আল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি জোটের মুফতি মনির কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৩৮ ভোট। তবে আব্দুল্লাহ আল আমিনের ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করাটা তার জন্য সহজ ছিলো না। নানা রকমের প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই ভোটের মাঠে লড়তে হয়েছে তাকে। তরুণ বয়সেই তার এই জয় নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস হয়ে থাকবে।

নারায়ণগঞ্জ-৫

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলো নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে। শহর বন্দর নিয়ে গঠিত এই আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তিনি এর আগে এখানে আরো তিনবার জয়ী হয়েছেন। এবার নিয়ে চতুর্থ বারের মতো শহর বন্দরের ভোটারদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন কালাম। তবে কালাম এর আগে যতটা সহজে জয়ী হয়ে সংসদে গিয়েছিলেন এবার তা হয়নি। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুনের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে তার। এখানে রীতিমত ঘাম ঝরিয়ে দিয়েছে জামায়াত। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৮৪ জন। ভোট পড়েছিল ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০।  এখানে আবুল কালাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট। ইসলামী জোটের দেয়াল ঘড়ি নিয়ে এবিএম সিরাজুল মামুন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৪ হাজার ১৫০ ভোট।