বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে নারায়ণগঞ্জে মৃত্যুঞ্জয়ী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। ওয়ান এলেভেন ও আওয়ামীলীগ সরকার আমলে সরকার বিরোধী আন্দোলনে প্রথম সারি নেতা ছিলেন তিনি। পুলিশের নির্যাতনে শিকার হয়েও কখনে বিএনপি থেকে পিছু হটেনি। যার কারণে তার স্ত্রী ও সন্তানেরা বাসা বাড়িতে পুলিশের হুমকিতে আতংকে ছিলেন। এমনকি এটিএম কামালের একমাত্র ছেলেকে বাসা থেকে টেনে হিচড়ে থানা নিয়ে গিয়েছিলো পুলিশ। এরপরও বিএনপির ডাকা সরকার বিরোধী আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ায়নি। দীর্ঘ মাস ও বছরের পর বছর বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় ও কারাগারে ছিলেন এটিএম কামাল।
২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর এজেন্ট হওয়ার কারণে দল তাকে বহিস্কার করে দল। প্রায় ৪৬ মাস পর গত বছর ২৬ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এটিএম কামালের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমে এটিএম কামাল বলেছিলেন নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জয়ের মালা তুলে দিবেন সাধারণ জনগণ। তার বক্তব্যে প্রতিফলন দেখা গেছে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।
দীর্ঘ বছরের আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা এটিএম কামাল ২০১২ সালের ১৭ মে বিএনপির ডাকা হরতাল কর্মসূচীতে মন্ডলপাড়ায় পুলিশের নির্মম লাঠিপেটার শিকার হন। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ সারাদেশে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে হরতালের ডাক দেয় বিএনপি। ওইদিন সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল চলাকালে তৎকালীন সদর থানার দারোগা নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অতর্কিত হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলে থাকা এটিএম কামালকে লক্ষ্য করে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। একপর্যায়ে মিছিলের ব্যানারে পেঁচিয়ে তিনি পড়ে গেলে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দফায় দফায় মারধর করা হয়। হামলার দৃশ্য টেলিভিশন ও পরদিন বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এটিএম কামাল দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঘটনার স্মৃতিচারণ করে এটিএম কামাল বলেন, হত্যার পরিকল্পনা নিয়েই পুলিশ আমার ওপর হামলা করেছিল। মাথায় একের পর এক আঘাতের পরও আল্লাহর অশেষ রহমতে সেদিন প্রাণে বেঁচে যাই। তবে মাথা ও কানে আঘাতের কারণে চোখসহ কিছু শারীরিক ক্ষতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছি। মৃত্যুকে কখনো ভয় পাইনি। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এর নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন বাজি রেখে রাজপথে থেকেছি। শত নির্যাতন, জেল-জুলুম ও হামলা-মামলার পরও রাজপথ ছাড়িনি।
২০১৪ ও ২০১৮ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ডাকা একাধিক কর্মসূচীতে এটিএম কামালকে থামাকে সরকার দলীয় এমপি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর দেখা গেছে। অর্ধ শতাধিক মামলার আসামী হওয়ায় গ্রেপ্তার করে একাধিক মামলায় দীর্ঘ মাসের পর মাস জেলে ছিলেন তিনি। সন্তানদের সাথে সাক্ষাৎকালে হাতকড়া অবস্থায় বাবা আদর করতে দেখা গেছে আদালতপাড়ায়। দীর্ঘ বছর মামলা জর্জরিত বিএনপি নেতা এটিএম কামাল মহানগর বিএনপির দীর্ঘ সময়ে সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২২ সালের নাসিক নির্বাচনে তাকে বহিস্কার করা পিছনে দলীয় অন্তকোন্দলে শিকার হন এটিএম কামাল। কষ্টে ক্ষোভ নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে দেশ ছেড়ে এটিএম কামাল। এরপরও একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার পরোয়ানা কারণে বাড়িতে আইন-শৃঙ্খলা তৎপরতা ছিলো। প্রায় ৪৬ মাস দেশে-বিদেশে এটিএম কামালের আসা যাওয়া মধ্যে বিএনপির বহিস্কারদেশ ফেরত পান।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের চারজন বিএনপি এমপি নির্বাচিত হওয়া পর আবারো অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশে গেছেন এটিএম কামাল। এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বর্তমান গ্রুপিং অবস্থা থেকে রেহায় পেতে আবারো মৃত্যুঞ্জয়ী এটিএম কামালকে ফেরত চেয়েছে তৃনমূল। একাধিক শহর বন্দরের শীর্ষ পর্যায়ে নেতা-কর্মীর এখন সুস্থ ধারা রাজনীতি করতে চায়। দল ক্ষমতা এসেও নেতারা নিজের আখের গোছানো নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। যার কারণে বিগত সময়ে যারা দল রাজপথে সরগরম রেখেছে তাদের আবারো সু-সময়ে দলের প্রয়োজনে শীর্ষ পর্যায়ে চান। প্রয়োজনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে খোলা চিঠি দিতে চান তৃনমূল।






































আপনার মতামত লিখুন :