News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

সেন্টুকে ফেরত আনতে চায় কাসেমী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম সেন্টুকে ফেরত আনতে চায় কাসেমী

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি মো. মনিরুল আলম সেন্টুকে বিএনপিতে ফেরত আনতে চাচ্ছেন মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। যিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন।

কিন্তু তাকে মেনে নিতে পারছেন না নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসন এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা। আর তাই মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী তার নিজের সুবিধার্তে মো. মনিরুল আলম সেন্টুকে বিএনপিতে ফেরত এনে নিজের দলকে ভারী করতে চাচ্ছেন। সেন্টুকে সামনে রেখে ভোটের নিজের অবস্থান পোক্ত করতে চাচ্ছেন তিনি। অন্যথায় তাকে

জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পৃথক বিবৃতিতে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি'র প্রাথমিক সদস্য পদ সহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে আপনাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আপনার আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আপনার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেয়া হলো। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। এখন থেকে দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা মেনে দলকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে আপনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে দল আশা রাখে।

আর এই প্রত্যাহার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে অনেক আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এই বিষয়টিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না।

পরবর্তীতে নেতাকর্মীদের সমালোচনার প্রেক্ষিতে মো. মনিরুল আলম সেন্টুর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার স্থগিত করা হয়েছে। গত ২ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়- ভুলবশত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হচ্ছে মো. মনিরুল আলম সেন্টুর বহিস্কারাদেশ বহাল থাকবে।

কিন্তু এই সেন্টুকে আবারও বিএনপিতে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। যে কোনোভাবেই হোক এই সেন্টুকে তিনি বিএনপিতে ফিরিয়ে আনতে চান।

এর আগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। গত ২৬ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তার নাম ঘোষণার পর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে। তার বিপরীতে অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য মাঠে রয়েছেন। সেই সাথে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও তার দিক মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কয়েকজন নেতা ছাড়া তেমন কেউ তার সাথে আসতে চাইছেন না।

এই অবস্থায় নিজের অবস্থানকে পোক্ত করার জন্য মো. মনিরুল আলম সেন্টু ছাড়া বিকল্প দেখছেন না। আর তাই সেন্টুকে বিএনপিতে ফিরিয়ে নিজের বলয়কে ভারী করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করার জন্য তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

অথচ ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর আওয়ামীলীগের তৎকালিন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পক্ষে নৌকায় ভোট চেয়ে প্রচারণার অভিযোগ এনে সে সময়ের ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুকে বহিস্কার করেছিলো বিএনপি। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের সাথে যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয় সেন্টুর। সেই সাথে শামীম ওসমানের লোকজন তাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মতোই মনে করতে থাকেন।

তার আগে বিএনপি ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই মনিরুল আলম সেন্টু ধীরে ধীরে আওয়ামীলীগে ঘেঁষতে থাকেন। আওয়ামী লীগের গডফাডার খ্যাত তৎকালিন এমপি শামীম ওসমানকে ‘পীর’ হিসেবেই আখ্যায়িত করে বক্তব্য রাখেন। সে সময়ে শামীম ওসমান সংসদ সদস্য হবার পর থেকে সেন্টু তার অনুগত হয়ে যান। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও শামীম ওসমানের সকল নির্দেশনা পালন করতেন এই সেন্টু। আর এই সেন্টুর নিয়ন্ত্রণে ছিলো কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো। এ ছাড়াও আওয়ামীলীগের একটি বড় অংশ ছিলো সেন্টুর সাথে।

তারই ধারাবাহিকতায় কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০২১ সালের ৯ অক্টোবর রাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড মনিরুল আলম সেন্টুর নাম ঘোষণা করেছিলেন। সে সময়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে বিকল্প হিসেবে একজনকে রাখা হলেও এখানে আওয়ামী লীগের বিকল্প কারো নাম দেওয়া হয়নি। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদলের তালিকাতে একজনই ছিলেন সেন্টু।

এর আগের তথা ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও এ সেন্টুকে জয়ী করানো হয়েছিলো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। মনিরুল আলম সেন্টু আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে এতটাই বিশ্বস্ত ছিলেন সে সময়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে সেন্টুকে বিজয় অর্জন করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছিলো। যে সময়ে বিএনপির কঠিন সময় চলছিলো। আর সে সময়ে আওয়ামী লীগার বনে যাওয়া মনিরুল আলম সেন্টু এবার বিএনপির সুসময়ে বিএনপিতে এসে জায়গা করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।  

Ad Placement 1
Ad Placement 2
Islam's Group