এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে নিরব জোয়ার হতে পারে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুনের। বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের বিপরীতে নির্বাচনী নানা সমীকরণে এবিএম সিরাজুল মামুন হয়তো শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারেন। ভোটের মাঠে অনেক সমীকরণেই তিনি বেশ এগিয়ে রয়েছেন। আর এসকল সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কাজ করলে সিরাজুল মামুনের পক্ষে নিরব জোয়ার হয়ে যেতে পারে।
জানা যায়, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা নাটকীয়তা শেষে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। নির্বাচনের মাঠে তিনি বেশ দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন লোক। ভোটের মাঠে তার বেশ দখল রয়েছে।
সেই সাথে তার বিপরীতে চূড়ান্তভাবে ভোটের মাঠে নেমেছেন ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন। যদিও এই আসনটি অনেকটাই ঘুচিয়ে এনেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। কিন্তু নির্বাচনী সমঝোতার স্বার্থে এই আসনটি খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে এবিএম সিরাজুল মামুনের জন্য ছেড়ে দেন। যার সারা নারায়ণগঞ্জজুড়েই নিরব গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের জনপ্রিয়তা থাকা সত্বেও বন্দর এলাকায় তার ভোট কাটতে পারেন মাকসুদ হোসেন। যিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ওসমান পরিবারের বাইরে স্বতন্ত্রভাবে উপজেলা নির্বাচন করে জয়ী হয়েছিলেন। সেই মাকসুদ হোসেন এবার সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন যা আবুল কালামের জন্য ক্ষতির কারণ হিসেবে আবির্ভাব হতে পারে।
তার বিপরীতে ক্লিন ইমেজের লোক ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় হিসেবে হিসেবে এবিএম সিরাজুল মামুনের এগিয়ে যাওয়ার অনেক সম্ভাবনাময় পথ খোলা রয়েছে। বিএনপির বিপরীতে থাকা সকল রাজনৈতিক দলগুলো একজোট হয়ে কাজ করবেন সিরাজুল মামুনের পক্ষে। বিশেষ করে তার পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বেশ জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি খেলাফত মজলিসেরও নিজস্ব অবস্থান রয়েছে বন্দর এলাকায়। একই সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরাও মামুনের পক্ষ নিয়ে ভোটের মাঠে থাকবেন।
এদিকে সিরাজুল মামুন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার পেশার সাথে জড়িত রয়েছেন। বর্তমানে তার ছাত্ররা দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সেই সাথে অনেকেই বিশাল অবস্থান তৈরি করেছেন। আর এসকল ছাত্ররা এবিএম মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য সবকিছু নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন। তারা হয়তো সময়মতো নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারেন।
পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ শহর এলাকার বাসিন্দা হিসেবে এবিএম সিরাজুল মামুনের ভোট কাটার মতো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ফলে শহর এলাকার বাসিন্দা হিসেবে তার একচেটিয়া ভোট পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির বিভক্ত একটি অংশেরও ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সিরাজুল মামুনের।
সবমিলিয়ে এবিএম সিরাজুল মামুন যদি শক্তভাবে নির্বাচনী মাঠে থেকে নিজের অবস্থান এবং খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা নিজেদের জানান দিতে পারেন তাহলে তার পক্ষে নিরব জোয়ার হওয়া অকল্পনীয় নয়।
এবিএম সিরাজুল মামুন ছাত্রজীবনেই ইসলামী রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং আদর্শিক ছাত্র রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৫ সালে অবৈধ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে গিয়ে তিনি প্রথমবার কারাবন্দী হন। ১৯৮৯ সালে খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠার সময় দলকে সুসংগঠিত করতে তিনি সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৩ সালে আল্লামা আহমদ শফীর আহবানে নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের আন্দোলনকে সংগঠিত করতে এবং শাপলা চত্বরের ঐতিহাসিক সমাবেশ বাস্তবায়নে সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে। আওয়ামী ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা ময়দানে সোচ্চার ছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জের আন্দোলনে তিনি প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের সাথে অংশগ্রহণ করেন এবং ৫ আগস্ট সকালেই নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে অবস্থান নেন। ইসলাম ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক প্রতিরোধ, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি এবং সংবাদপত্র ও মিডিয়ার কন্ঠরোধসহ সকল প্রকার জুলুম, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তিনি সদা তৎপর ছিলেন এবং এখনো আছেন।
এবিএম সিরাজুল মামুন বিগত ৪০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের আয় অসহায় ও গরীব-দুঃখী মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন। শতশত ছাত্রকে তিনি বিনামূল্যে পড়িয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সহজ, সরল ও সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্থ এবিএম সিরাজুল মামুন ইতিমধ্যেই নারায়ণগঞ্জবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। একজন উচ্চশিক্ষিত, আদর্শবান, আপসহীন, নির্লোভ, সৎসাহসী, যোগ্য ও দ্বীনদার ব্যক্তি হিসেবে এবং সজ্জন রাজনীতিবীদ হিসেবে তিনি সর্বমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।































-20260102160818.jpg)


আপনার মতামত লিখুন :