নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু ফের সক্রিয় হওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গণে। নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে জয় পাওয়া এই চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিরূপ প্রভাব ছিলো নির্বাচনের আগ থেকেই। কাসেমীর সুপারিশে দলে ফেরত এলেও নির্বাচনের আগে থেকেই লাপাত্তা ছিলেন। যেকোন সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন এমন শঙ্কায় ছিলেন পলাতক। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ ছাত্র জনতার উপর আক্রমনের নির্দেশদাতা এবং মামলার আসামী হওয়ার কারনে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকলেই ক্ষুব্ধ তার উপর।
সম্প্রতি রাজনীতিতে সরব হয়েছে মনিরুল আলম সেন্টু। সেই সাথে সক্রিয় হয়েছে তার অনুসারীরা। যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। ফেরার চেষ্টা করছে সেন্টুর হাত ধরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেন্টুর পক্ষে গুনকীর্তন করে তার পক্ষে বৈধতা উৎপাদনের চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ সেন্টুর সরব অবস্থানে। তারা বলছেন, যাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখার কথা, সে এখন প্রশাসনের সাথে বৈঠক করে এই অঞ্চলের সিদ্ধান্ত দেয়!
সম্প্রতি সদর উপজেলা পরিষদের একটি বৈঠকে ইউএনও এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে একই টেবিলে অংশ নেয় মনিরুল আলম সেন্টু। সেই ছবি প্রকাশ হতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীরা। অথচ কাসেমীর দ্বারা দলে ফেরার আগ পর্যন্ত পলাতক ছিলো সেন্টু। একাধিক মামলায় আসামি হয়ে ছিলো আত্মগোপনে। সেই ক্ষোভের রেশ না কাটতেই এবার তাকে দেখা গেছে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বৈঠকে অংশ নিতে। যা দেখে ক্ষোভ বেড়েছে কয়েকগুন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনসিপি নেতাকর্মীদের বেশি সরব হতে দেখা গেছে। জেলা যুবশক্তির সাবেক মুখ্য সংগঠক রাইসুল ইসলাম বলেন, মনিরুল ইসলাম সেন্টু বিএনপির নামধারী নেতা হলেও, বিগত সময়ে আওয়ামী গডফাদারদের তোষামোদির মাধ্যমেই কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে টিকে ছিলেন। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্রদের বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় অন্যতম আসামি হিসেবে অভিযুক্ত হন।
অভিযোগ রয়েছে, একাধিক মামলায় জামিন না নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগার সামনে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। শুধু তাই নয়, কুতুবপুর ইউনিয়নসহ পুরো ফতুল্লা এলাকাকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ১০ তারিখে ডিসি ও ইউএনও’র সঙ্গে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সভাতেও এই অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
একাধিক মামলার অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি কিভাবে নির্বিঘেœ সরকারি কার্যক্রমে অংশ নেন? প্রশাসনের এই নীরবতা আমাদের মনে প্রশ্ন তৈরি করছে। দ্রুত তার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ আমরা প্রত্যাশা করছি। অন্যথায়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, মনিরুল আলম সেন্টু ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাবেক এমপি শামীম ওসমানের নির্বাচনী প্রচার কাজে অংশ নেয়ার অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। এরপর সেন্টু আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সবশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে বিনা প্রতিদন্ধিতায় পাশ করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালেও বিএনপি জামায়াতকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ৫ আগস্টের পর একাধিক মামলার আসামী হন সেন্টু।
২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি দলে ফিরতে আবেদন করেন আগস্টের পর দলে ফিরতে আবেদন করে সেন্টু। তার সেই আবেদন গ্রহণ করার পর ফের বহিস্কার করা হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী মনির কাসেমী নিজে সুপারিশ করে তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়ে আসে। ফিরিয়ে দেয়া হয় তার প্রাথমিক সদস্যপদ।





































আপনার মতামত লিখুন :