বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নের পূর্বে অর্থাৎ জাগো দল দিয়ে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ হালিম জুয়েল। দীর্ঘ লম্বা সময়ের ত্যাগ আর পরিশ্রমে নিজের নামের পাশে রাজনৈতিক পরিচয় যুক্ত হলেও পারিবারিক কারণে সর্বদা বিতর্কে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন। বিশেষ করে নিজের সন্তান কিংবা আত্মীয়-স্বজনের অপকর্মে সমালোচিত তিনি।
নাসিক ১নং ওয়ার্ডস্থ বাতানপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বিএনপি নেতা হালিম জুয়েল দলের সুসময় কিংবা দুঃসময়ে বিভিন্ন নেতৃত্বের বলয়ে রাজনীতি করেছেন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বিএনপিতে যোগদানে নির্বাচনের মাধ্যমে সাংসদ হিসেবে জয়লাভের পর হালিম জুয়েল গিয়াসের আস্থাভাজনে পরিনত হন। এরপর হতে নিস্ক্রিয় বা সক্রিয় থাকার টানা ২৫ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগ মূহূর্ত পর্যন্ত তিনি গিয়াসের পাঁচ খলিফার একজনে ছিলেন। তবে ২৬’র নির্বাচনে দলীয় চাপে মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের হয়ে কাজ করতে বাধ্য হন। ভোটের লড়াইয়ে মান্নান জয়ী আর গিয়াস পরাজিত হবার পরবর্তীতে হালিমও মান্নান বলয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছেন।
হালিম জুয়েল রাজনৈতিকভাবে যতোটা না অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন তার স্বজনদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার চেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন। বলাচলে তার পরিবারে সর্ব অপরাধীর আনাগোনা। আর সকল অপরাধীদের সেল্টারের মাধ্যমে আগলে রাখছেন তিনি।
পরিবারে যেসব অপরাধীদের দৌরাত্ম্য :
হালিম জুয়েলের আপন ভাই বাতেনের দুই ছেলের নাম জাকির ওরফে কাইল্যা জাকির এবং জুবায়ের ওরফে ছিনতাইকারী জুবায়ের। এরা দুইজন বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ১নং ওয়ার্ডে ক্রাস হিসেবে পরিচিত। এতটাই ভয়ংকর যে হত্যার মতো অপরাধ করেও ক্ষ্যান্ত থাকেনি। জাকিরের ঝুলিতে মাদকের কারবার, চাঁদাবাজি ও ফিটিংবাজির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকবার তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। অপরদিকে জুবায়ের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীদের শীর্ষ কয়েকজনের একজন এই যুবক। ২০২৩ সালে ছিনতাই সংঘটিত করতে গিয়ে পাইনাদী এলাকায় আক্কাস সিকদার নামের এক সবজী বিক্রেতাকে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধ করেছেন ছিনতাইকারী জুবায়ের। ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় দেড় বছরের মতো জেল খেটে আইনের ফাঁকফোকরে জামিনে মুক্তি পেয়ে পূনরায় অপরাধ অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে সাধারণ নিরীহ মানুষের কাছে মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম জুবায়ের।
হালিম জুয়েলের আরেক ভাতিজার নাম মো.নাহিদ ওরফে সোর্স নাহিদ। নাহিদ সিদ্ধিরগঞ্জ তথা নারায়ণগঞ্জজুড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সোর্স হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারির অভিযোগ রয়েছে। সে বেশ কয়েকবার মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে জেল হাজত খেটেছেন।
বিএনপির এই নেতার আপন বোনের ছেলের নাম মো.টুটুল। টুটুল প্রশাসনের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত ফেনসিডিল ব্যবসায়ী। মাদক বিক্রির অপরাধে বেশ কয়েকবার প্রশাসনের হাতে আটক কিংবা গ্রেফতারও হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের পতনের পর বর্তমানে অটোরিকশা গ্যারেজ ব্যবসার আড়ালে সে মাদকের কারবার করে যাচ্ছেন টুটুল।
এদিকে বিএনপির এই নেতার ভাতিজা আর ভাগিনাদের ছাড়াও নিজের সন্তান গ্রেফতারের মাধ্যমেও সমালোচিত হয়েছেন। সবশেষ ৫ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তার ছেলে ফাহাদ বিন হালিম গ্রেফতার হন। এরপর থানা পুলিশ আদালতে সোপর্দ করলে আদালত হতে জামিনে মুক্ত করা হয়েছে। সবমিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মানুষের মুখে মুখে দলীয় পরিচয়ে অপরাধকে তোয়াক্কা না করার অভিযোগ তুলে ধরতে দেখা গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নাম না প্রকাশ করার সর্তে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসন আমলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে পরিবারের অপরাধীদের যথেষ্টভাবে রক্ষা করেছিলেন হালিম জুয়েল। তবে ২০২৪ সালে আওয়ামী ক্ষমতার অধ্যায় শেষ হলে বিএনপি করার সুবাদে আপন শক্তিতে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হচ্ছেন। যা সরকারি দল হিসেবে বিএনপির সুনাম ক্ষুন্নের শামিল।































আপনার মতামত লিখুন :