গত দুই বছর ধরে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও হত্যার মতো অপরাধের ঘটনা যেমন বেড়েছে, তেমনি সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। নগরবাসীর অনেকেই বলছেন যেখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশই নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত তা নিয়েই নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি শহরে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও এক কনস্টেবল মারধরের শিকার হন। এর আগে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে সরকারি পিস্তল ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। একের পর এক এসব ঘটনায় শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে নগরজুড়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও পথরোধ করে ছিনতাই, হামলা কিংবা অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব লুটের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করতে আগ্রহী হন না। ফলে প্রশাসনের নথিতে এসব অপরাধের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হয় না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ গত ৯ মার্চ ভোরে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে সরকারি পিস্তল ছিনতাইয়ের ঘটনা পুরো জেলাজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। জানা যায়, সেদিন ভোর পৌনে ছয়টার দিকে বঙ্গবন্ধু সড়কের নগর ভবনের সামনে দায়িত্বে ছিলেন সদর মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কিছুক্ষণের জন্য টিমের অন্য সদস্যদের থেকে দূরে গেলে মোটরসাইকেলে আসা তিন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। পরে তাকে কুপিয়ে আহত করে তার কোমরে থাকা সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই প্রশাসনের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক টিম মাঠে নামে। পরে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং ছিনতাই হওয়া অস্ত্রও উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর মাত্র কয়েকদিন পর, গত ১৫ মার্চ শহরের রেললাইন সংলগ্ন থানকাপড় মার্কেট এলাকায় রেলওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা, এক কনস্টেবল ও তাদের সঙ্গে থাকা সোর্সকে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল পাঁচটার দিকে রেলওয়ে পুলিশের এসআই মিজান ও এক কনস্টেবল এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে সিএনজিতে তুলছিলেন। এসময় অপর মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
পুলিশের দাবি, হামলাকারীরা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনতার কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেয় যে পুলিশ নিরীহ শ্রমিকদের ধরে ঘুষ আদায় করছে। এতে করে উপস্থিত কিছু মানুষও পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে খবর পেয়ে সদর মডেল থানার একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে অনিক ও মিস্টার নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ এতে শুধু পুলিশ নয়, পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, এসব ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন। তবেই আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে।


































আপনার মতামত লিখুন :