News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

গিয়াসউদ্দিন বহিস্কার মামুনের উপহার


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম গিয়াসউদ্দিন বহিস্কার মামুনের উপহার

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি আলোচিত দুইজন নেতা ছিলেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তারা দুইজনই ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনের বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী। এতে তারা দুইজনই মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও নির্বাচনের মাঠে দুইটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিস্কার হন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। অন্যদিকে দলের হাইকমান্ডের উপর ভরসা রেখে নির্বাচন মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়ে দলের প্রার্থী বিজয় করার লক্ষ্যে কাজ করে ছিলেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর অনৈতিক কর্মকান্ডের জের ধরে গিয়াসউদ্দিনের নেতৃত্বে জেলা বিএনপি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এর এক মাস পর জেলা বিএনপি আহবায়ক হয়ে আলোচনা কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেন মামুন মাহমুদ। ১৩মাস তার নেতৃত্বে জেলা বিএনপি পরিচালনা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার কারণে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা অমান্য করায় জেলা বিএনপি একাধিক বার নেতৃত্বে থাকা গিয়াসউদ্দিন আজ বিলুপ্ত পথে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি একাধিক নেতারা জানিয়েছেন, আজকে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ পেতেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। কিন্তু তার জিদ ও ক্ষমতালোভি কারণে রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছেন। এক সময়ে গিয়াসউদ্দিন ছিলেন জেলা বিএনপি ব্র্যান্ড, আজ তিনি জিরো। দুইটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাত্র ২৪ হাজার ভোট পেয়েছেন। তার মধ্যে তার নির্বাচনী এলাকায় ভোট পেয়েছেন ৪ হাজার। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজকে দলের নিদের্শনা মানায় জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে বসিয়েছেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে। আর দলের নির্দেশনা অমান্য করা গত বছর ৩১ ডিসেম্বর দল থেকে চিরতরে বহিস্কার হয়েছেন গিয়াসউদ্দিন।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে প্রশাসক পদে কে আসছেন? জেলায় জোর আলোচনা চলছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন ব্যস্ততা, তেমনি নারায়ণগঞ্জ রাজনীতিতেও বইছে নতুন হিসাব-নিকাশের হাওয়া। জেলার সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে কে দায়িত্বে আসছেন। প্রশাসক পদে সম্ভাব্য নামের তালিকায় প্রথম সারিতে উঠে আসছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবের নাম, মহানগর বিএনপি সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছিলেন সাত খুন হত্যার বিচারের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন খান। ক্লিন ইমেজে এই নেতাকে হারিয়ে আবারো নির্বাচিত হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। যার কারণে সাখাওয়াত হোসেন খান ওই সময়ে মেয়র হতে পারলেও ৯ বছর ২ মাস ব্যবধানে এবার প্রশাসক দায়িত্ব পালন করছেন। গত মাসের ২৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কাছ থেকে প্রশাসকের দায়িত্ব নেন। পরদিন নাসিকের কার্যালয়ে গিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি এসব নেতারা বিগত বছরে আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে অত্যাচারিত ও নির্যাতিত হয়ে চরম দুঃসময়েও হাল ছাড়েননি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সকল কর্মীদের আগলে রেখে, জেল-জুলুম মাথায় নিয়ে আগলে রেখেছেন। তিনি একজন কর্মীবান্ধব, সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।