News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

ফিরতে চায় আওয়ামী লীগের নেতারা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম ফিরতে চায় আওয়ামী লীগের নেতারা

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ফিরতে মরিয়া হয়ে আছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দলের একটি অংশ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও দেশে আত্মগোপনে থাকা ও ক্লিন ইমেজের নেতারা দলকে সংগঠিত করতে গোপনে কাজ করছেন। এছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকায় নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অনেক সাবেক জনপ্রতিনিধি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন। যেকোন উপায়ে রাজনীতিতে আবারও ফিরতে মরিয়া দলটির নেতাকর্মীরা।

ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। ৫ আগষ্টের পর আওয়ামী লীগের বড় নেতারা পালিয়ে গেলেও পালাতে হয়নি আইভীকে। তার প্রতি সাধারণ জনগণের কোন ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়নি। পাঁচ আগষ্টের পর দীর্ঘদিন নগর ভবনে গিয়ে অফিসও করেছেন আইভীর। ফলে আইভীকে ঘিরে আশার আলো দেখছেন দলটির পলাতক নেতাকর্মীরা।

নারায়ণগঞ্জে হত্যাসহ এখন পর্যন্ত ১১মামলায় আইভীকে আসামি করা হয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফার পাঁচটি মামলায় আইভীর জামিন মঞ্জুর হয়। এরপর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি মামলায় আইভীকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এদিকে কারাগারে থাকলেও আইভীর নির্বাচন করার বিষয়ে কোন বাধা দেখছেন না আইনজীবীরা। তারা বলছেন কোন ব‍্যক্তি যদি কোন ফৌজদারী বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হয়ে থাকে তবে তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। ড. সেলিনা হায়াত আইভি জেলে আছেন। তার নামে বিভিন্ন মামলা চলমান, কিন্তু তিনি এখনো পর্যন্ত কোন মামলায় দোষী সাব‍্যস্ত হয়ে দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত এখনো হননি। তার মানে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে তার কোন বাধা নেই।

এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলায় কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজনীতিতো ফেরার চেষ্টায় আছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এদিকে মাঠের রাজনীতিতেও দলটির নেতাকর্মীরা সক্রিয় গওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রকাশ্যে না থাকলেও গোপনে দলীয় কার্যক্রম সমন্বয় ও নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার কাজ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে একটি ব্যানার টানিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে।

স্থানীয়রা বলছেন, ওই ঘটনায় জড়িতদের বেশিরভাগই মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাদের অধিকাংশের বাড়ি দেওভোগ ও আশপাশের এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেদিন দুপুরের দিকে হঠাৎ পাঁচ থেকে সাতজনের একটি দল ব্যানার নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আসে। তারা সেখানে ব্যানার টানিয়ে কিছুক্ষণ ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনা আসবে’ এমন স্লোগান দেয়। পরে দ্রুত সেখান থেকে সরে যায় তারা।

ঘটনার পর রাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় অবস্থিত জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় আন্দোলনকারীরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনতার রোষানলে পড়ে কার্যালয়টি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

এরই মধ্যে গত ৮ মার্চ আবারও একই স্থানে ব্যানার টানিয়ে ইফতার মাহফিল করতে দেখা গেছে যুবলীগের কিছু নেতাকর্মীকে। পরে যুবলীগের একটি ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ওই ইফতার মাহফিলের ছবি শেয়ার করা হয়।

এসব ঘটনার পর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা যায়নি। তিনি শহর ছেড়েছেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, আনোয়ার হোসেনসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীদের বড় অংশ শহরের নিজের এলাকায় বা আশপাশের এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। সেখান থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তাদের ধারণা।