News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

নতুন সীমানায় ক্ষুব্ধ ফতুল্লাবাসী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম নতুন সীমানায় ক্ষুব্ধ ফতুল্লাবাসী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রস্তাবিত নতুন সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সদর উপজেলার ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রশাসনের প্রস্তাবে কুতুবপুর ইউনিয়নকে সম্পূর্ণভাবে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার কথা বলা হলেও ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগরের কেবল আংশিক এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বাদ পড়া এলাকার বাসিন্দারা চারটি ইউনিয়নের পুরো অংশই সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নতুন সীমানা নির্ধারণের প্রস্তাব প্রকাশ করা হয় এবং এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের আপত্তি, অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জমা দেওয়ার আহŸান জানানো হয়। পরে এসব আপত্তি ও পরামর্শের ওপর শুনানি শেষে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরো অংশ সিটি করপোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ফতুল্লা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ এবং ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ এবং এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশ নাসিকের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ঘোষণার পর থেকেই ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগরের বিভিন্ন এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একই ইউনিয়নের একাংশ সিটি করপোরেশনের আওতায় এবং অন্য অংশ ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে থাকলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হবে। নাগরিক সেবা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং কর ব্যবস্থাপনায় বৈষম্য সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পাশাপাশি সীমানা সংক্রান্ত মামলা করে দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধিদের পদ আঁকড়ে ধরে রাখার শংকাও থেকে যায়।

বাসিন্দারা বলছেন, চারটি ইউনিয়নের সামাজিক, ভৌগোলিক বাস্তবতা একই। এখানকার সকলেই সমান সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষত জলাবদ্ধতা, নাগরিক সুবিধার অভাব, সড়ক, ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা রয়েছে। তাই একটি ইউনিয়নের কিছু অংশকে বাদ রেখে সীমানা নির্ধারণ যৌক্তিক নয়। তারা চারটি ইউনিয়নের সম্পূর্ণ এলাকা নাসিকের আওতায় আনার দাবি জানান। এ দাবি উপেক্ষা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা সতর্ক করেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসিন্দাদের মতামত, আপত্তি ও পরামর্শ গ্রহণের জন্যই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত আবেদনগুলো শুনানির মাধ্যমে পর্যালোচনা করে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতের পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সমন্বিত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হলে চারটি ইউনিয়নের পুরো এলাকাকেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। অন্যথায় প্রশাসনিক জটিলতা ও বৈষম্য তৈরী হবে এই অঞ্চলগুলোতে।