ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায় শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে। এখানকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নানা শঙ্কার কথা তুলে ধরছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। যদিও তারা সামনাসামনি একে অপরের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করে আসছেন। কিন্তু আবার তারাই নাম না প্রকাশ করে একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন। যা নিয়ে নানা শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
সবশেষ ২৭ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন। একই সাথে নির্বাচনী কমিশনের প্রতি তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির হাতি প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বলেছেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন করার ক্ষেত্রে যেটা প্রয়োজন, সেটা আপনাদের (প্রশাসন) করতে হবে। জোর করে বাড়ি থেকে ডেকে এনে যদি কাউকে কিছু বলা হয়, তাহলে কি সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে? আমার মনে হয় না। আপনারা যদি সুষ্ঠু নির্বাচন রক্ষা করতে না পারেন, তাহলে আমরা একযোগে পদত্যাগ করে চলে যাবো।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আপনারা যেমন চেষ্টা করছেন, আমরাও করছি। কিন্তু কিছু লোক বাড়ি থেকে ডেকে এনে মানুষকে ধমকাচ্ছে। ভোট দিতে গিয়ে যদি কেউ বাধার মুখে পড়ে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে আপনারা কী করবেন, সেটা আপনারাই ভালো বোঝেন। প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।”
একই সাথে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, লোকজনদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এভাবে ভয়ভীতি দেখালে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব না।
একইভাবে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বলেন, আমাদের কর্মীদেরকে যারা কাজ করছে প্রধান এজেন্ট তাদেরকে ফোনে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। সামনাসামনি হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে। ১২ তারিখের পর দেখা যাবে। এভাবে বিভিন্নভাবে সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রশাসনকে এগুলো দেখা দরকার।
তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. রায়হান কবিরের বক্তব্য হচ্ছে- আমরা গ্রহণযোগ্য শান্তিপূর্ণ একটা নির্বাচন করতে চাই। প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন। আমরা তথ্য নিচ্ছি। ভয়ভীতির সাথে জড়িত থাকলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আমাদের কাছে সকল প্রার্থী সমান। সকলের জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। প্রশাসনের জন্যও এই নির্বাচনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও কোনো অসঙ্গতি দেখলে সেটা শক্ত হাতে দমন করবো। আমরা সবাই মিলে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন করবো।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য (বহিস্কৃত) শাহা আলম হরিণ, স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য (বহিস্কৃত) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ফুটবল, বাংলাদেশ রিপাবলিকেশন পার্টি নেতা মোহাম্মদ আলী দলীয় প্রতীক হাতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় উলামা মাশায়েক আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন কাউছার দলীয় প্রতীক হাতপাখা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন দলীয় প্রতীক শাপলা কলি, বিএনপির জোট মনোনীত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসাইন কাসেমী দলীয় খেজুর গাছ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মহানগর সহ সভাপতি আনোয়ার হোসেন দলীয় প্রতীক রিকশা, বাংলাদেশ জাসদ জেলা সভাপতি সুলাইমান দেওয়ান দলীয় প্রতীক মোটরগাড়ি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল জেলা কমিটির সদস্য সেলিম মাহমুদ দলীয় প্রতীক মই, জাতীয় পার্টির ছালাউদ্দিন খোকা মোল্লা লাঙ্গল, গণঅধিকার পরিষদ মহানগর সভাপতি আরিফ ভূঁইয়া দলীয় প্রতীক ট্রাক, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির জেলা কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন দলীয় প্রতীক কাস্তে ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি নেতা সেলিম আহমেদ দলীয় প্রতীক একতারা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।


































আপনার মতামত লিখুন :