News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

অপহৃত কলেজ ছাত্র ভুট্টা ক্ষেত থেকে উদ্ধার, ৫জন গ্রেপ্তার


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বন্দর প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম অপহৃত কলেজ ছাত্র ভুট্টা ক্ষেত থেকে উদ্ধার, ৫জন গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে ডেটিং অ্যাপের হানি ট্র্যাপে দিয়ে অপহরণ চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসময় মুক্তিপণের দাবিতে আটকে রাখা ভিকটিমকেও উদ্ধার করেছে র‍্যাব। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় অপহরণ চক্রের নারী সদস্য ইনায়া শেখ। আটকদের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে চক্রের পাচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া কলেজ শিক্ষার্থী জুন্নুন রহমান খান ঢাকা মেট্রো পলিটন  লালবাগ থানার আজিমপুর হোমটেক টাওয়ার এলাকার মাসুদুর রহমান খানের ছেলে। সে হাজারীবাগ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ালেখা করে আসছে।

গ্রেপ্তারকৃত অপহরণকারীরা হলো বন্দর থানার ২১ নং ওয়ার্ডের সালেহনগর এলাকার মৃত আলী হোসেন মিয়ার ছেলে আকাশ (২৪) একই থানার বন্দর আমিন আবাসিক এলাকার মৃত আসাদুজ্জামান মিয়ার ছেলে সিয়াম (২২)  নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সৈয়দপুর এলাকার মৃত আব্দুল গফুর মিয়া ছেলে ফয়সাল (২৮) বন্দর থানার বাবুপাড়া এলাকার রাষ্ট্র চন্দ্র শীলের ছেলে সঞ্জয় শীল (২০) ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলি এলাকার জামাল হোসেন মিয়ার ছেলে বায়েজিদ (২৩)। পলাতক অপহরণকারী ইনায়া শেখ নাম পাওয়া গেলেও পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় অপহৃত কলেজ ছাত্রের মা লিউজা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে গত বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ধৃত ৫ অপহরণকারীসহ ১১ জনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, জুন্নুন খানের সাথে ডেটিং অ্যাপ ঞধহ ঞধহ মাধ্যমে ইনায়া শেখের পরিচয় হয়। সে সুবাধে তাদের মধ্যে নিয়মিত কথাবার্তা হতো। সেই পরিচয় সূত্রে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে বন্দর খেয়া ঘাটে আসে হানিট‍্যাপের শিকার জুন্নুন। সেখান থেকে চক্রের একজন তাকে রিক্সাযোগে মদনগঞ্জ শান্তিনগর ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে যায় এবং আগে থেকে অবস্থান করা আরও ৫/৬ জন মিলে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষার্থী জুন্নুনকে মারধর করে এবং তার কাছে থাকা ৬ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা।

পরে জুন্নুনের বড় ভাই ইফফাতুর রহমানের কাছে ফোন করে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করে।

পরবর্তীতে জুন্নুনের পরিবার ঘটনাটি র‍্যাব অফিসে জানান এবং প্রতিকার চাইলে আধুনিক প্র্রযুক্তি ব্যবহার করে র‍্যাব-১১ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতেই প্রতারণার শিকার জুন্নুন রহমান কে উদ্ধার করার পাশাপাশি চক্রের মূল হোতা মো.আকাশ, মো.সিয়াম, ফয়সাল,সঞ্জয় শীল এবং বায়োজিদ কে গ্রেফতার করে। পরে তাদের থানায় সোপর্দ করে র‍্যাব।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা ‘ফাঁদ পেতে মুক্তিপণ’ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছে নিশ্চিত করে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, এ চক্রের কাজই ছেলেদের কৌশলে ডেকে এনে ব্লাকমেল করা। তারা জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করেন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আটকদের সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জড়িত অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।