News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

এমপি মান্নানের নাম ভাঙ্গিয়ে বিদ্যুৎ মামুনের মাতব্বরি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ১১:১১ পিএম এমপি মান্নানের নাম ভাঙ্গিয়ে বিদ্যুৎ মামুনের মাতব্বরি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান এমপি হওয়ার পর থেকেই নিজ এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে বিদ্যুৎ মামুন। অথচ এমপি হওয়ার পর থেকেই এমপি মান্নান যেকোনো অন্যায় কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে বারবার আহ্বান করেছেন। কিন্তু মান্নানের কথা অমান্য করেই তাকে সাইনবোর্ড বানিয়ে একের পর এক অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন মামুন।

সবশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এমনই এক ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন তিনি। এদিন সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল সমাজকল্যাণ সমিতি এবং হীরাঝিল বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমিটির যৌথ উদ্যোগে এলাকাবাসী নিয়ে এক বড় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কিন্তু ইফতারে বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে এবং এতে নাকি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মারামারি ঘটবে এমন আশঙ্কা তুলে তা বানচাল করার চেষ্টা করেন। এরই অংশ হিসেবে তার ভাতিজা মিজানুর রহমানকে দিয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ মসজিদে গিয়ে হাজির হোন। পরে এই অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে ইফতার মাহফিল চালিয়ে যেতে বলা হয়। পরবর্তীতে তাদের এই ইফতার মাহফিলে এলাকার বাড়িওয়ালা, গণ্যমান্য ব্যক্তি, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ হাজারো মানুষের উপস্থিতি ঘটে।

হীরাঝিল আবাসিক এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি হীরাঝিল এলাকার সভাপতি হওয়ার পাঁয়তারা করে আসছিলেন। এরই অংশ হিসেবে গত ৫ই আগস্টের পর তখনকার জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের মাধ্যমে সভাপতি হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর থেকে মান্নানের নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থাৎ রাজনৈতিক অপব্যবহার করে এলাকাবাসীর বিপক্ষে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। বিশেষ করে ইফতার বন্ধ করতে মসজিদে পুলিশ পাঠানোর মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর রোষানলে পড়েছেন তিনি।

এলাকাবাসী জানান, নিজের বসবাসরত হীরাঝিল এলাকায় তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং তার বিরুদ্ধে নানা বিতর্ক রয়েছে। তাই তাকে কেউ সভাপতি হিসেবে না চাইলেও সে সভাপতি হওয়ার জন্য একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছেন। এমপি মান্নান সহজ সরল মানুষ। মামুনের এমন অবৈধ কর্মকান্ড থামাতে এমপি মান্নানের হস্তক্ষেপ ছাড়া আর কোনো বিকল্প দেখছে না এলাকাবাসী।

এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, মামুনের কর্মকান্ডের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আমার নাম কে বিক্রি করলো তা তো আমি বলতে পারি না। তারপরও আমি খোঁজ নিচ্ছি। প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে বিদ্যুৎ মামুন বলেন, ইফতার আয়োজন বন্ধের আলোচনা সম্পর্কে আমার কোনো সম্পর্ক নাই। তবে শুনেছি বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় পুলিশ গিয়েছিল। কিন্তু ইফতার আয়োজন ঠিকঠাক শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মূলত আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য একটা পক্ষ এই নিউজ করিয়েছে।

এমপি মান্নানের ঘনিষ্ঠ হয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কারো সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ কিংবা প্রভাব খাটাইনি। আপনারা এসে দেখতে পারেন।