নারায়ণগঞ্জের গডফাদার খ্যাত শামীম ওসমান পালিয়ে গেলেও তার ছায়া রয়েছে এখনো। ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা সক্রিয় পুরো ফতুল্লা জুড়ে। বিএনপির উপর ভর করে ফের এলাকাতে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আসছে নির্বাচন ঘিরেও সক্রিয় তারা। তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপর হামলার মামলা। সেই মামলায় জামিন না নিয়ে প্রকাশ্য ঘুরছে। এছাড়া ছাত্র আন্দোলনের আরেক আসামী বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রশিদ আহমেদও সক্রিয়।
জানা গেছে, নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার কারণে ফতুল্লার বিএনপি নেতা মনিরুল আলম সেন্টুর বহিস্কার করা হয়। এরই মধ্যে শামীম ওসমানকে পীর সম্মোধন করা নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান হওয়া মনিরুল ইসলাম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে।
গতবছরের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এরপর ৩১ জুলাই কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, কোটা ইস্যুতে আন্দোলনে যেভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদে ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে এ ধরনের নৈরাজ্য একাত্তরকে হার মানিয়েছে। আমাদের এমপি শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পরিচালনায় কর্মসূচি দিবেন। আমি আমার পক্ষ থেকে সর্বশক্তি দিয়ে থাকবো। প্রথম যুদ্ধটা আমাদের সাথেই হোক। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু যুক্ত করে বক্তব্য সমাপ্তি করেন তিনি।
ফেরদাউসুর রহমান; তিনি শামীম ওসমান ও ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠজন। এখনো শামীম ওসমান ও তার ক্যাডার শাহ নিজামের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। নারায়ণগঞ্জে বিগত দিনে ওসমান পরিবারের পক্ষে কাজ করা ও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা প্রার্থীদের পক্ষে থেকে রীতিমত ‘ওসমানীয় হেফাজত’ রূপান্তর হয় ইসলামী সংগঠনটি। এ সংগঠনের একজন ফেরদাউসুর রহমান। সরকারী জায়গা দখল করে নির্মিত নম পার্কের রাহবার নিজামের ডেরায় বসে দিনরাত কূটকৌশল করে শামীম ওসমানের ‘ছোট ভাই’ উপাধি পাওয়া ফেরদাউস এখন মিশে যাচ্ছে বিএনপির সমর্থকদের সঙ্গে। সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের গত নির্বাচনে ফেরদাউসুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে নৌকা প্রতীকে মনোনযন জমা দেন জাকির হোসেন। নির্বাচনে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নিয়ে জাকির হোসেনের নৌকার পক্ষে শোডাউন করেন এবং নির্বাচনী কাজ করেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলম প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এখনি বিভিন্ন প্রার্থীর লোকজন হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করেছে এবং টেলিফোনের মাধ্যমে মানুষকে ধমকাচ্ছে। আমি মনে করি, প্রশাসন এই বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব পালন করবে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, আমার নিজের দলে যারা অসৎ ও বিতর্কিত ছিল, তাদের আমি অনেক আগেই দূরে সরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বর্তমানে যারা নির্বাচন করছেন তাদের চারপাশে মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু এবং চাঁদাবাজরা ঘুরঘুর করছে। এরা যদি নির্বাচিত হয়, তবে এই শান্ত এলাকা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ, মার্কা দেখে নয়, বরং ব্যক্তি বিবেচনা করে এবং অতীতের কর্মকাণ্ড দেখে আপনাদের মূল্যবান ভোট দিন। যারা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এই থানা-এলাকাবাসী তাদের চিনে। ওই মানুষগুলোর সঙ্গে নির্বাচনে প্রচার করতে গেলে আমাদের প্রচার করা লাগবে না। এদের চেহারা দেখলেই মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবে।
বক্তাবলীর ৭ ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড সদস্য হাসনা ভানু অভিযোগ করেন, রশিদ আহামেদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার উপর হামলার খুনের মামলার আসামি। গত বছর তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই সময়কার তার দায়িত্বকালীন স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন কয়েকজন ইউপি সদস্য। তাদের মধ্যে হাসনা ভানু ছিলেন। এর মধ্যে রশিদ সে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়ে বিভিন্নজনকে হুমকি দেওয়া শুরু করেছেন। গত ১৫ জানুয়ারি দুপুর ২টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কার্যালয়ে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বরত প্রশাসকের দপ্তরে হাসনা ভানুকে হুমকি দেওয়া হয়। রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি সহ ক্ষতি সাধনের হুমকি দেয়।
প্রসঙ্গত রশিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চারটি মামলা রয়েছে। এছাড়াও চাঁদাবাজি, হত্যাসহ ১৬ মামলার আসামী। একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন।
২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে বক্তাবলী কার্যালয় (ইউনিয়ন পরিষদ) থেকে গ্রেফতার করে।
হাসিনা সরকারের আমলে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর লোক পরিচয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়িয়েছে। ওই সময় সরকারি দলের নেতাদের সাথে আতাত করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। হাসিনা সরকারের পতনের পর শওকত আলী চেয়ারম্যান এর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, সাইফউল্লাহ বাদলের মার্কেট দখল, সাইদুরের মাছের খামার, বক্তাবলী ফেরি ঘাট সহ পূর্ব গোপালনগর এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে লুটপাট সহ গরু সহ নিয়ে যায়। অনেকের দোকান পাট বন্ধ করে দেয়। এছাড়াও বক্তাবলী ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি সহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।


































আপনার মতামত লিখুন :