News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

নাসিকে একক প্রার্থীতায় বিএনপির চ্যালেঞ্জ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ১০:১১ পিএম নাসিকে একক প্রার্থীতায় বিএনপির চ্যালেঞ্জ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে। সেই সাথে দিন যাওয়ার সাথে সাথে আলাপ আলোচনা আরও বেশি জমজমাট হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোতে তাদের প্রার্থীও ঘোষণা করেছে। তবে এই নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি একক প্রার্থীতা নিয়ে চ্যালেঞ্জে রয়েছেন। তাদের জন্য দলীয় একক প্রার্থী নির্ধারণ করাটা বেশ কষ্টকর হয়ে যাবে।

ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির অনেকেই নিজেদের জানান দিতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে নিজেদের নজরে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে তারা সকলেই নির্বাচন করার ব্যাপারে অটল থাকবেন বলে জানান দিচ্ছেন। ফলে এসকল প্রার্থীদের মধ্যে একজনকে চূড়ান্ত করাটা বেশ জটিল বিষয় হিসেবে পরিণত হয়েছে।

আর যদি শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজনকে নির্ধারণ করা হয় তাহলে তার বিজয় অর্জন করাটাও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে আবির্ভাব হবে। বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজনকে নির্ধারণ করার পর নেতাকর্মীদের মধ্যে অন্তকোন্দল দেখা দিতে পারে। দলীয় ঘোষিত প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বলয় তৈরি হতে পারে। যে বলয়টি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য প্রধান বাধা হিসেবে আবির্ভাব হতে পারে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা আবদুল জব্বারকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৯ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এই ঘোষণা দেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণের দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখানে ক্যান্ডিডেট দেবে। আজ আপনাদের কাছে আমরা এমন একজন মানুষ উপহার দিয়ে যাচ্ছি; যিনি কিশোর জীবন থেকে তিলে তিলে সৎ চরিত্র ধারণ করেছেন, যার চোখে স্বপ্নে মানুষের কল্যাণ। আমরা সেই আপনাদের প্রিয় মানুষ, প্রিয় জননেতা মাওলানা আবদুল জব্বারকে আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র হিসেবে প্রার্থী ঘোষণা করছি।

এর আগে খেলাফত মজলিস থেকে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে প্রর্থী দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে খেলাফত মজলিস। গত ১৭ জুন সন্ধ্যায় খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগর নির্বাহী কমিটির এক যৌথ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সেদিনের বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটির সামগ্রিক উন্নয়ন, নগরবাসীর অধিকার রক্ষা এবং একটি ইনসাফভিত্তিক নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে খেলাফত মজলিস গতবারের মতো এবারও দলীয়ভাবে আসন্ন নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে। জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ বৈঠকে স্থানীয়ভাবে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুনের নাম কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে। শিগগিরই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।

সেই সাথে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা ও গণসংযোগ বৃদ্ধির ব্যাপারে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির এমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। মেয়র পদে আলোচনায় থাকা বিএনপির নেতারা ব্যক্তিগতভাবে নিজেদেরকে জাহির করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হচ্ছেন। সেই সাথে নিজেদের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ানোর জন্য নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তাদের অনেককেই হাজির হতে দেখা যাচ্ছে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকে কেন্দ্র করে। সেই সাথে শেষ পর্যন্ত তাদের একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জে বেশ উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে দিয়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের মধ্যে অনেক রাজনৈতিক নতুন করে অনেক ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়েছেন। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলাম এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনসাধারণে বেশ নজর কেড়েছে। তারা এই নির্বাচনে অভূতপূর্ব সফলতা দেখিয়েছেন। একই সাথে তাদের খেলাফত মজলিস সহ অন্যান্য ইসলামী দলগুলোও বেশ সফলতা দেখিয়েছেন। বিএনপির প্রার্থীদের ঘাম জড়িয়েছেন।

এই সংসদ নির্বাচনের পর এবার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সহ স্থানীয় নির্বাচনগুলোতেও তারা আগে থেকেই আলোচনায় রয়েছেন। নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন তাদের নিয়ে চলে নানা আলাপ আলোচনা। সেই সাথে তারা অধিকাংশ প্রার্থীও ঘোষণা করে দিয়েছেন। বিশেষ করে তারা নাসিক নির্বাচনকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এদিকে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির জয় ঘটেছে, একটিতে জামায়াতের ইসলামী জোটের শরীক দল এনসিপি চমক দেখিয়েছে। গত দেড় দশকে এবার নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত, ঘটেনি কোন সহিংসতা। শান্তিপূর্ণ এ ভোটের পরিবেশে বিএনপির জয় হলেও একটি বিষয় সামনে এসেছে সেটা হলো বিএনপির বিরুদ্ধে ভোটারদের অবস্থান ও জামায়াত সহ অন্য দলের প্রতি সমর্থন। সেটাও একেবারে গোপন।

জেলার চারটি আসনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী জামায়াতের ভোটের অবস্থান রীতিমত ঘাম ঝরিয়েছে। অথচ তারা যে সংখ্যক ভোট পেয়েছে সেরকম প্রচারণা তো ছিল নাই বরং কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এ পরিস্থিতি। সেই ধারাবাহিকতা সামনের নির্বাচনগুলোতেও জামায়াতে ইসলাম ধরে রাখবেন বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের। বিপরীতে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একের অধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনায় বেগ পোহানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিদায়ের পর নারায়ণগঞ্জে অঘোষিত নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয় সবশেষ ২০০১ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা বিএনপি। এ দেড় বছরে নারায়ণগঞ্জে নানা ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়ে দলের অনেক নেতা। নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হয় দলটি। তবে জামায়াতে ইসলানের নেতাদের নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক হয়নি। যার ফলস্বরূপ নির্বাচনগুলোতে জামায়াতে ইসলামী ভালো সফলতা দেখিয়েছেন।