এক সময়ের প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জ। পাটের ব্যবসা, আদমজী জুট মিল আর শীতলক্ষ্যা নদীর বদৌলতে পরিচিত বিশ্বজুড়ে। এ জনপদে রয়েছে ইতিহাস, শ্রম আর রাজনীতির গল্প। নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা জনপদের মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংগ্রাম, সম্ভাবনা আর নেতৃত্বের আকাঙ্খা। শীতলক্ষ্যা নদীতে বিভক্ত এই জনপদের মানুষের চাওয়া খুব সাধারণ - একজন সৎ, সাহসী এবং মানুষের পাশে থাকা প্রতিনিধি।
অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ছোট কাল থেকেই রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততার বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা হাজী জালাল উদ্দিন আহাম্মেদ ছিলেন বিএনপির নারায়ণগঞ্জ শহর কমিটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে ১৯৭৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘ দিন ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার কমিশনার ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, শহরের গণবিদ্যা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়, কদমরসুলের হাজী সিরাজউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়সহ বহু শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।
এ আসন থেকেই আবুল কালাম ১৯৯১, ১৯৯৬ এর স্বল্পকালীন সংসদ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে ধানের শীষ নিয়ে জয়ী হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পরিচিত হয়েছেন একজন স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন এবং বিতর্কমুক্ত রাজনীতিবিদ হিসেবে। রাজনীতিকে তিনি দেখেছেন দায়িত্ব হিসেবে, ক্ষমতা হিসেবে নয়।
তিনি কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়াননি-এইটাই সবচেয়ে বড় কথা। শীতলক্ষ্যার দুই পাড়েই তার গ্রহণযোগ্যতা আছে। জনগণের মুখে মুখে ঘুরে একটাই কথা-এই জনপদের জন্য আবুল কালামের একজন পরিচ্ছন্ন মানুষ দরকার যিনি এমপি হয়েও বাড়ি গাড়ি অঢেল সম্পত্তির মালিক হননি। বরং সততার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত আবুল কালাম।
শুধু তিনবারের এমপি না, বরং মহানগর বিএনপির সভাপতি ও আহবায়কের মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দলকে রেখেছিলে উজ্জীবিত।
শেখ হাসিনা পলায়নের পর এবারের চ্যালেঞ্জিং নির্বাচনেও দল তাঁর প্রতি আস্থা রেখেছেন। শুরুতে ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামানকে মনোনয়ন দিলেও মাঠের জনমত তার অনুকূলে না থাকায় দলের হাই কমান্ড আবুল কালামকে ডেকে নিয়ে তুলে দেন দলের মনোনয়ন। মুহূর্তে বদলে যায় পুরো চিত্র। বিএনপির ত্যাগী ও নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে। নারায়ণগঞ্জবাসীও পেয়ে যান একজন যোগ্য ও ভরসা করার মত্য প্রার্থীকে। যদিও একটি গোষ্ঠী সকাল বিকাল ছক কষছেন ধানের শীষের বিরুদ্ধে। তারা নিজেরাও পরিচয় দেন বিএনপির।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি নামছেন নির্বাচনী লড়াইয়ে। এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের নয়-এটি মানুষের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের লড়াই।
নদী শীতলক্ষ্যা দুই পাড়কে আলাদা করলেও মানুষের চাওয়া এক। তারা চায় এমন একজন জনপ্রতিনিধি, যিনি বিভাজন নয়-সংযোগ গড়বেন। যিনি রাজনীতিকে ব্যবহার করবেন মানুষের কল্যাণে।
নতুন সীমানা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১১ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮০ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪০ হাজার ৮২০ জন এবং নারী ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৫। আসনটিতে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭ জন।
বাবার মতই ছেলে আবুল কাউসার আশা পুরোদস্তরের একজন রাজনীতিবিদ। তিনি নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভিপি ছিলেন। পরবর্তীতে শহর ছাত্রদলের সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মহানগরের সভাপতি ছিলেন। জনগণের ভোটে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হন। বিগত দিনে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকবার তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মানুষ একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদকে চেনে, জানে এবং চায়। আসন্ন নির্বাচনে সেই প্রত্যাশার নাম-আবুল কালাম। মানুষের পছন্দ, মানুষের প্রতিনিধি।


































আপনার মতামত লিখুন :