News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

থমকে আছে রিয়া গোপ হত্যার তদন্ত


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম থমকে আছে রিয়া গোপ হত্যার তদন্ত

২০২৪ সালের কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে নারায়ণগঞ্জে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু রিয়া গোপ। ওই ঘটনায় দেশের কনিষ্ঠ শহীদ হিসেবে রিয়া গোপের নাম সর্বপ্রথম রয়েছেন। একমাত্র মেয়ে রিয়া গোপের বাবা দীপক কুমার বলেন, মেয়ের ‘মা’ শোক কাটিয়ে উঠতে পারছে না। তাকে চিকিৎসা করানো হচ্ছে এখনো। তদন্তের ধীরগতি নিয়ে কোনো কথা বলতে চায় না।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের নয়ামাটি এলাকায় নিজ বাসার ছাদে খেলার সময় সে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় এবং পরবর্তীতে ২৪ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এই ঘটনার ১১ মাস পর গত বছর ২ জুলাই শিশু রিয়া গোপ হত্যার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করে।

এদিকে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় বাড়ির ছাদে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত রিয়া গোপ (৬) হত্যার তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলের কাজ সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য থেমে আছে। কোন ধরনের অস্ত্রের গুলিতে রিয়া মারা গেছে সেটি এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তবে রিয়া হত্যা মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা সবাই এখন জামিনে আছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলার সময়ে নারায়ণগঞ্জ চার আসনের সংসদ-সদস্য একেএম শামীম ওসমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়ে চাষাঢ়া থেকে দুই নম্বর রেলগেট এবং গুলশান সিনেমা হল পর্যন্ত এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। ওই সময় গুলশান সিনেমা হলের পেছনে নয়ামাটি এলাকার একটি বাসার ছাদে খেলা করার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় রিয়া। গুরুতর আহত রিয়াকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

২৪ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে রিয়া মারা যায়। কিন্তু ঘটনার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর থানার এসআই আবু রায়হান নুর বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের অজ্ঞতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

তবে, হত্যাকা-ের প্রায় দুই বছর পরও চাঞ্চল্যকর রিয়া হত্যা মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত চলছে অনেকটা ঢিমেতালে।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রাফিউর রাব্বি বলেন, সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট পেতে যদি দুই বছর চলে যায়, তাহলে পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ, বৈষম্যবিরোধী মামলাগুলো সরকারের দ্রুত নিষ্পত্তি করার কথা। সেই জায়গায় মামলার তদন্ত চলছে ধীরগতিতে। আমার ধারণা পতিত স্বৈরাচারের লোকজন পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। সরকারের উচিত এসব দোসরদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক বিনয় বাড়ৈ জানান, সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রিয়ার মাথায় যে বুলেট বিদ্ধ হয়েছে সেটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংরক্ষণ করা আছে। সেই বুলেট পুলিশ হেফাজতে মামলার আলামত হিসাবে জব্দ করার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পেলেই তদন্তকাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে। আওয়ামী লীগের লোকজনের নামে লাইসেন্স করা অস্ত্র ছিল। রিপোর্ট পেলে বোঝা যাবে কোন অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রতিটি বিষয় আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে মিলিয়ে দেখছি। তাই একটু সময় লাগছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, আমরা মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে দ্রুত তদন্ত করে এ বছরই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করতে পারব।