News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিতর্কিত রফিকে বিএনপির বদনাম


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম বিতর্কিত রফিকে বিএনপির বদনাম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলামকে ঘিরে একের পর এক বিতর্কে অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় বিএনপি। তার ব্যক্তিগত কর্মকাÐ ও অসংলগ্ন বক্তব্যের কারণে বারবার সমালোচনার জন্ম দিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছেন তিনি। 

রফিকুল ইসলাম বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দেন গত বছর নির্বাচনের আগ মুহুর্তে। গত বছরের নভেম্বরে চট্টগ্রাম থেকে ভাড়া করে আনা একটি বার্জ জাহাজ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজটি রফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন ডকইয়ার্ডে নিয়ে কেটে বিক্রি করা হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে জাহাজের মালিক চট্টগ্রাম থেকে এসে মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় রফিকুল ইসলামের ছেলে ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে। 

ঘটনার পর তীব্র সমালোচনা তৈরি হলে তড়িঘড়ি করে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করে রফিক ও তার ছেলে শাহাদাত। ক্ষতিপূরণ প্রদান বা জাহাজ পুরোনো রূপে ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাসে থামানো হয় সেই সমালোচনা। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এমন ঘটনা বিএনপির জন্য নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপিত হয় সারাদেশে।

সেই ঘটনার সাত মাস পর আবারও নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন রফিকুল ইসলাম। এবার খোদ দলীয় প্রধানকে নিয়েই অসংলগ্ন মন্তব্য করে বসেছেন এই নেতা। সম্প্রতি সোনারগাঁয়ে একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রীর অল্প বয়স, এখনও বুদ্ধি পাকা হয়নাই।

তার এই বক্তব্য দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে। অনেকেই মন্তব্যটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপ্রাসঙ্গিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে হাস্যরস ও সমালোচনার সুযোগ পান। সেই সাথে তার মত পদস্থ একজন নেতা কিভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিএনপির নেতাকর্মীরা। 

দলীয় সূত্র জানায়, বক্তব্যটি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় জেলা বিএনপি রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। 

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর ভাষ্য, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে আসছেন। তাদের মতে, তার কর্মকাÐ ও বক্তব্যের কারণে দলকে অপ্রয়োজনীয় সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দলের ইমেজ ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্থ করা এবং নির্বাচনের পরে দলীয় প্রধানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার মত দুঃসাহস দেখানো নেতাকে দল থেকে বহিস্কার করা জরুরি। অন্যথায় এই ধরনের বেপরোয়া আচরণ তার বৃদ্ধি পেতেই থাকবে।