News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কক্সবাজারে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল শুভ হত্যার আসামী রাহাত!


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১০:১০ পিএম কক্সবাজারে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল শুভ হত্যার আসামী রাহাত!

বিলাসবহুল ভবনের আলিশান ফ্ল্যাটে মজুত রাখা হতো লাখ লাখ ইয়াবা। সুযোগ বুঝে প্রাইভেট কারে এসব ইয়াবার বড় চালান পৌঁছে দেওয়া হতো রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের শহীদ স্মরণি এলাকার একটি নবনির্মিত ভবনে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা নারায়ণগঞ্জের ‘রাহাত’ নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া এলাকার শুভ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী রাহাত। শুভ হত্যা মামলার আসামী হয়ে সে ফেরারী জীবনযাপনের অংশ হিসেবে কক্সবাজারে তার নতুন ঘাটি গড়ে থাকতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। কক্সবাজারে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সেখান থেকেই ইয়াবা পাচারের চক্র পরিচালিত করে আসছিল রাহাত।  

১৭ অক্টোবর রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের নবনির্মিত একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শহরের শহীদ স্মরণি এলাকার কোরাল রিফের নবনির্মিত পূর্বিতা ভবনে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো শরীয়তপুরের আবদুল কাদেরের ছেলে মো: আরমান, বরিশালের শামীম ও ভোলার কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রাকিব। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক কারবারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা প্রকাশ করেছেন যে, নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা রাহাত নামে এক ব্যক্তি ওই বাসস্থানটি ইজারা নিয়েছিলেন। রাজধানী শহরে প্রেরণের উদ্দেশ্যে সেখানে প্রচুর পরিমাণ মাদকদ্রব্য জমা করে রাখা হতো। পূর্বে ওই একই বাসস্থান থেকে বিশ লক্ষ পিসের আরেকটি মাদকের চালান সরবরাহ করা হয়েছিল বলেও তাঁরা স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য দিয়েছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী গণমাধ্যমকে জানান, এই সংক্রান্ত অপরাধের দায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাহাতসহ এই সিন্ডিকেটের প্রধান কুশীলবদের খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধারের এ ঘটনায় অভিজাত আবাসিক ভবনকে মাদক মজুত ও পাচারের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তদন্তে কথিত এই চক্রের পুরো নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয় বেরিয়ে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

এদিকে গত ৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ইয়াবা সহ শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মোহাম্মদ বিল্লালের লাশ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। লাশের দেহে গুলি ও ছুরিকাঘাতে চিহৃ নিয়ে তদন্তে নামেন পুলিশ ও ডিবি। সিসিটিভি ফুটেজে সূত্রে প্রথমে সিয়াম আহম্মেদ সিজানকে গ্রেপ্তার মাধ্যমে মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন ও তার সহযোগি মো. সোহানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি তদন্ত টিম। এরপর থেকে হত্যার জট খুলতে শুরু করে।

চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনের মাদক স্পট দখল ও আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালকে হত্যা করা হয়। এর আগে আমলাপাড়া মাদক সম্রাজ্ঞী ফতে বাড়িতে ডিবি অভিযান নিয়ে শুভ উপর নাখোশ হন ফতে’র ছেলে অনিক বাহিনী। যার জের ধরে হোসিয়ারি সমিতির ভিতরে-বাহিরে দুই দিনের পরিকল্পনায় শুভকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করা হয় বলে জানা গেছে গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের জবানবন্দিতে।

শুভ হত্যাকান্ডে জড়িত বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হলেও অন্যতম আসামী রাহাত ও বাহার গা-ঢাকা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে এক সপ্তাহ ধরে অনিক ও অহিদ নেপালে পাড়ি জমিয়েছেন।  গ্রেপ্তার এড়াতে অন্যতম চার আসামী এখন কৌশল অবলম্বন করছেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কারণে প্রকাশ্যে দেখা যায় না। দেশে আত্মগোপনে থাকা রাহাত ও বাহার কক্সবাজারে ইয়াবা পাচারের রুট পরিচালনা করে থাকতে পারে বলে অনেকের ধারনা। তবে কক্সবাজারের ওই ফ্ল্যাটের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হলে রাহাত ও বাহারের সম্পৃক্ততা মিলতে পারে বলে অনেকের অভিমত।