ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ গোছাতে শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেওয়ার পর এখন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে শক্ত অবস্থান তৈরি করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করা এবং জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে দলটি।
সবশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিলেও জোটগত সমীকরণের কারণে সব আসনে প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরপরও একটি আসনে জয়লাভ করে দলটি জেলার রাজনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে সক্ষম হয়। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও সুসংগঠিতভাবে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এনসিপির গুরুত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে গত ১৪ জুলাই সোনারগাঁয়ে আয়োজিত এক পথসভায়। ওই সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তুহিন মাহমুদ, সোনারগাঁ পৌরসভার মেয়র পদে মোস্তফা খন্দকার এবং পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে শাকিল সাইফুল্লাহর নাম ঘোষণা করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির উদ্যোগে মোঘরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিনও।
দলীয় সূত্র বলছে, এটি কেবল প্রার্থী ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে একটি দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক পরিকল্পনার অংশ। প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে সাংগঠনিক কমিটি শক্তিশালী করা, নতুন কর্মী সংগ্রহ, নিয়মিত জনসংযোগ এবং স্থানীয় ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নেতাকর্মীদের।
এনসিপির নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় নির্বাচন জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলার বড় সুযোগ তৈরি করে। তাই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতেও দলটি আরও শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে পারবে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে দলের কার্যক্রম তুলে ধরার সুযোগও সৃষ্টি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের প্রভাব বেশি ছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন দল হিসেবে এনসিপিও নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। সংসদ নির্বাচনে সীমিত সাফল্য পেলেও দলটি এখন সেই অর্জনকে তৃণমূলে বিস্তৃত করার কৌশল নিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও নতুন রাজনৈতিক কর্মীদের সংগঠিত করার বিষয়েও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে বড় রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করছে। ফলে প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হওয়ার আভাস মিলছে। এমন বাস্তবতায় এনসিপি কতটা কার্যকর সাংগঠনিক শক্তি গড়ে তুলতে পারে এবং ঘোষিত প্রার্থীরা মাঠে কতটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারেন, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এনসিপির জন্য শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা, জনভিত্তি এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়েরও বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারলে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতের পাশাপাশি এনসিপিও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে।






































আপনার মতামত লিখুন :