News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিএনপিকে আইভীর ধন্যবাদে গুঞ্জন


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম বিএনপিকে আইভীর ধন্যবাদে গুঞ্জন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দেওয়া এক বক্তব্যে বিএনপি ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত আইভী নিজের দল বা দলের নেতাকর্মীদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করায় জেলা রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা এবং বিষ্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় আইভীর এই বক্তব্য কেবল সৌজন্য প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা বার্তাও খোঁজা হচ্ছে। বিশেষ করে মুক্তির পরপরই বিএনপির প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে নীরবতা অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে মনে হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন দ্ব›দ্ব ও ক্ষমতার লড়াইয়ের মধ্যে আইভী নিজস্ব একটি বলয় গড়ে তুলেছিলেন। যা মূল আওয়ামী লীগ দলের থেকে অনেকটাই ভিন্ন। এছাড়া তার রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে। এত এত হেভিওয়েট নেতাদের বাইরে তার জামিনে বেরিয়ে আসা সবার নজর কেড়েছে। সেই সাথে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, আইভীর বক্তব্যে বিএনপির প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত থাকুক বা না থাকুক, তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে তা নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ, একসময় আওয়ামী লীগের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত থাকলেও নিজ দলের নেতাকর্মীরাই তাকে বিএনপি জামায়াতের লোক বলে আখ্যায়িত করতো। তাতে তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি একটুও। বরং শামীম ওসমানের বিপরীতে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। ফলে সামনের দিনে এই নেত্রীর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মানেই রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়। আইভী এখনো সরাসরি কোনো নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা জোটগত অবস্থানের কথা বলেননি। ফলে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া গুঞ্জনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আরও সময় অপেক্ষা করতে হবে। বিশেষত আসন্ন নাসিক নির্বাচনে তিনি নির্বাচন করলে কোন দলের সমর্থন নিয়ে করবেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে, যদি আইভী আগামী দিনে স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন কিংবা প্রচলিত রাজনৈতিক মেরুকরণের বাইরে কোনো নতুন সমীকরণে ভ‚মিকা রাখেন, তাহলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রাজনীতিতে নতুন একটি শক্তির কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে। যেখানে আইভী একই সাথে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাংশের সমর্থন পেয়ে যেতে পারেন নিরবে। তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মিশেলে রাজনীতির মাঠে গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠতে যাচ্ছেন আইভী।

সব মিলিয়ে, জামিনে মুক্তির পর দেওয়া একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। আইভীর পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাÐ ও বক্তব্যই নির্ধারণ করবে এই আলোচনা সাময়িক কৌত‚হলে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সত্যিই জেলার রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুর সূচনা ঘটবে।

প্রসঙ্গত ১২ মামলায় কারামুক্তির পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বিএনপি সরকার ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি চাই সকলকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো আরো অনেক মায়েরা আছে। তাঁরা নিরপরাধ। আশা করি, সরকার তাদের প্রতিও সদয় হবে। আমি বিচার বিভাগের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বুধবার রাতে দেওভোগের বাসায় এসে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন।