News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

শতাধিক আলেমকে গ্রেপ্তারের খলনায়ক : বন্ধু তুমি শত্রু তুমি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম শতাধিক আলেমকে গ্রেপ্তারের খলনায়ক : বন্ধু তুমি শত্রু তুমি

মাওলানা হারুন অর রশিদ ও ফেরদাউসুর রহমানের সম্পর্ক প্রায় ২০ বছর| একে অপরকে মামা ভাগ্নে সম্বোধন করতেন| একে অন্যের অনেক ঘটনার সাক্ষী| মাঝে সম্পর্কের অবনতির কারণে এবার ফেরদাউসুরের অনেক গোপন খবর ফাঁস করেন এক সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হারুন| তাঁর ফাঁস হওয়া তথ্য অনেক ভয়ঙ্কর| একজন আলেম হয়ে ফেরদাউস কিভাবে আওয়ামী লীগ প্রীতি, র‌্যাবের এক কারাবন্দী কর্মকর্তার সোর্স হিসেবে শতাধিক আলেমকে গ্রেপ্তার করানো সহ উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য| তবে কয়েক মাসের ব্যবধানে সেটায় পরিবর্তন এসেছে| সম্প্রতি হারুনকে দেওভোগ মাদ্রাসা থেকে চাকরিচ্যুতের ঘটনায় ফেরদাউস ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়| শেষতক যখন হারুন আর কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না তখন ফেরদাউসুরের শরানাপন্ন হন| ফেরদাউসের কাছে ক্ষমা চান হারুন| এর পর রোববার হারুনের পক্ষে মাঠে নামেন ফেরদাউস|

আরে আগে ১৮ এপ্রিল জমিয়তের কেন্দ্রীয় কমিটির আমেলা সভা হয় যেটা দলের একটি সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম| সেখানে উঠে আসে এসে খবর| ওই সভাতে নারায়ণগঞ্জের জমিয়ত ও এর সহযোগি সংগঠনের ৭০ জন একটি অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন| অনাস্থায় ফেরদাউসুরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ও পত্রিকার কাটিং সংযুক্ত করে দেওয়া হয়| এছাড়া তার বেশ কিছু ছবিও সংযুক্ত করে|

জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হারুন অর রশিদ কথা বলেন| তিনি বলেন, ফেরদাউসুর রহমানের সাথে তার ২০ বছরের অধিক সময় ধরে সম্পর্ক| বিগত দিনে সংগঠনের স্বার্থে  অনেক কিছুই বলা হয়নি| কিন্তু এখন বিবেক ও মনুষ্যতের জন্য অনেক কিছু জানানো প্রয়োজন| হারুন বলেন, ‘র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা আলেপউদ্দিন (ধর্ষণ সহ নানা অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী) এর সাথে ফেরদাউসুরের ভালো সম্পর্ক ছিল| তখন আলেপের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন ফেরদাউস| আমি কাছে থেকে দেখেছি ২০২১ সালে এ আলেপকে তথ্য দিয়ে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে গ্রেপ্তার করানো হয়| ওই সময়ে আলেপের কাছ থেকে সুবিধা নেয় ফেরদাউসুর| আমি তখন ঘটনার সাক্ষী ছিলাম| বার বার ফেরদাউসকে এসব বিষয়ে সতর্ক করলেও তিনি মানেনি|

‘শুধু মনির হোসাইন কাসেমী না বরং নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার শতাধিক আলেম ওলামাকে গ্রেপ্তারের পেছনে ফেরদাউসুরের হাত ধরেছে|’ বক্তব্যে যোগ করেন হারুন|

সভায় জানানো হয়, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মনির হোসাইন কাশেমী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়| কিন্তু তখন শামীম ওসমানের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পোলিং এজেন্টের তালিকা বিক্রি করে দেয় ফেরদাউসুর| নিয়মিত শামীম ওসমানের জামতলার বাসায় গিয়ে তথ্য আদান প্রদান করতেন|

হারুন সভায় সবশেষ ২০২৬ এর ১২ ফেব্রুয়ারীর সংসদ নির্বাচন নিয়েও কথা তুলেন| বলেন, ‘ফেরদাউস আমাদের ও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মোনাফেকগিরি করেছেন| তিনি উপরে জোট প্রার্থী ও আমাদের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর পক্ষ নিলেও প্রতিদিন রাতে ¯^তন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম, গিয়াসউদ্দিন ও মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে ˆবঠক করতেন| এদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা এনেছেন| এক ˆবঠকে রোজেল ও রানাসসহ কয়েকজনের উপস্থিতিতে ফেরদাউস শপথ করিয়েছেন কোনভাবেই যেন মনির কাসেমীকে জয়ী না করানো হয়| কারণ আমি যে মনির কাসেমীকে ২০২১ সালে গ্রেপ্তার করিয়েছি এটা সে জানে| তিনি জয়ী হলে আমাকে জেলে ভরবে|

হারুনের বক্তব্য চলাকালে ফেরদাউস মাথা নিচু করে বসে থাকেন| আলোচনার এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়ত ও মাওলানা ফেরদাউস বিষয়ে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জল হক আজিজের নেতৃত্বে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া ও সহকারী মহাসচিব মাওলানা নাসির উদ্দিন খানসহ তদন্ত কমিটি করা হয়, যারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জমিয়তের কেন্দ্রীয় খাস কমিটিতে জমা প্রদান করবে|