রংপুরে স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ সপরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে এবং দেশব্যাপী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উপর আক্রমণকারী উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।
সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরীনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, কবি সংবাদিক হালিম আজাদ, শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, সিপিবির জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, সংগঠনের উপদেষ্টা ভবানী শংকর রায়, প্রদীপ ঘোষ বাবু, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, বাসদের জেলা সদস্য সচিব আবু নাইম খান বিপ্লব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, শিল্পী অমল আকাশ ও সামাজিক সংগঠন সমমনার উপদেষ্টা দুলাল সাহা।
রফিউর রাব্বি বলেন, রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডের পুলিশের নানামুখী বক্তব্যে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গণপতি চক্রবর্তী হত্যার তদন্তে পূর্বের মতো জজমিয়া নাটক তৈরির অবতারণা লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু সরকার যদি এ হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন দিকে নিয়ে কাউতে রক্ষা করার পথে যায় তা সরকারের জন্য ভালো হবে না। তিনি বলেন, আজকে সারা দেশে ধর্ম রক্ষার নামে এক শ্রেণির উগ্রবাদীদের উত্থান ঘটেছে। তারা সারা দেশে ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের নমনিয়তা ও নিরবতা তাদের উৎসাহিত করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং দায়িত্বজ্ঞান বর্জিত। তাঁর বক্তব্যে মনে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেন দেশের আলাদা কোন ভূখ-। আমরা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিরোধী সকল তৎপরতা বন্ধে সরকারকে কঠোর হওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
হালিম আজাদ বলেন, বিগত ৬ মাসে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা লক্ষ করছি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশঙ্কাজনকভাবে অবনতি হয়েছে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সকল বক্তা গণপতি চক্রবর্তীকে সপরিবারে হত্যার দ্রুত ও সঠিক বিচারের দাবি জানান এবং ধর্মীয় উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।




































আপনার মতামত লিখুন :