News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

নিখোঁজ ৪১ আগ্নেয়াস্ত্র, সন্ধান দিলেই পুরস্কার


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২৫, ১০:২৯ পিএম নিখোঁজ ৪১ আগ্নেয়াস্ত্র, সন্ধান দিলেই পুরস্কার

নারায়ণগঞ্জে ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও ব্যারাকে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে নেয়া ৪১ অস্ত্র এখনও উদ্ধার করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র ব্যবহার হতে পারে অবৈধ কাজে কিংবা আইন শৃঙ্খলা অবনতিতে। একাধিক অভিযান চালিয়েও সকল অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে খোদ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা।

এমন অবস্থায় খোয়া যাওয়া এসব অস্ত্রের সন্ধান দিলে পুরস্কার ঘোষণা করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। সেই সাথে যারাই তথ্য দিবেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে। তাদের তথ্য পরিচয় গোপন রাখা হবে। উল্লেখিত পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে প্রতিটি পিস্তল ও শটগানের সন্ধান দিলে ৫০ হাজার টাকা। চায়না রাইফেলের জন্য ১ লাখ টাকা, এসএমজির জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এলএমজির সন্ধান দিলে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। আর লুট হওয়া গুলির সন্ধান দিলে প্রতি গুলির জন্য মিলবে ৫০০ টাকা পুরস্কার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্ট আন্দোলনের সময় কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর পুলিশ লাইন্স, আড়াইহাজার ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এবং দুটি তদন্ত কেন্দ্রে হামলা চালায়। এ সময় অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি থানার ১৫১টি অস্ত্র ও ৯ হাজার ২৫ রাউন্ড গুলি লুট হয়। গত এক বছরে পুলিশ ও র‍্যাব উদ্ধার করেছে ১১০টি অস্ত্র ও ১ হাজার ৫০৭ রাউন্ড গুলি। এখনও সন্ধান মেলেনি ৪১ টি অস্ত্রের।

নিখোঁজ অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সেভেন পয়েন্ট ৬২ মিলিমিটারের চায়না রাইফেল ৭টি, সেভেন পয়েন্ট ৬২ এসএমজি ১টি, সেভেন পয়েন্ট ৬২ এলএমজি ১টি, সেভেন পয়েন্ট ৬২ পিস্তল ৫টি, নাইন এমএম পিস্তল ৭টি, ১২ বোরের শটগান ১৬টি, ৩৮ মিমি. গ্যাসগান (সিঙ্গেল শট) ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি।

এছাড়া সেভেন পয়েন্ট ৬২ মিমি. গুলি ২ হাজার ৮৭৭টি, সেভেন পয়েন্ট ৬২ পিস্তলের গুলি ৩২৬টি, নাইন এমএম পিস্তলের গুলি ২৯১টি, ১২ বোরের শটগানের কার্তুজ (রাবার বল) এক হাজার ১৬৮টি, ১২ বোর শটগানের কার্তুজ (লিডবল) ২ হাজার ৭৩৩টি, ৩৮ মিমি. টিয়ার গ্যাসের শেল (লং রেঞ্জ) ৪০টি, ৩৮ মিমি. টিয়ার গ্যাসের শেল (শর্ট রেঞ্জ) ৮৩টি এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

এসকল অস্ত্র ও গোলাবারুদের সন্ধান দিলে সন্ধানদাতাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করায় বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বেশ কিছু অস্ত্র রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকতে পারে। এসব অস্ত্র কেউ না কেউ ব্যবহার করতে দেখেছে। কোন ভাবে এই তথ্য প্রকাশ করা হলে অতি সহজেই অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যাবে এবং তা উদ্ধার করা সম্ভব। আবার কিছু কিছু অস্ত্র ভয়ে পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছে বা কালোবাজারিতে চলে যেতে পারে। সেগুলো অভিযান ছাড়া ফিরে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য।

তবে শুধু পুলিশের অস্ত্রতেই সীমাবদ্ধ নয়। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেছে জুলাই আন্দোলনজুড়ে। শামীম ওসমান ও তার বাহিনী সহ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার বা সন্ধান দিলেও মিলবে পুরস্কার। যা সন্ত্রাসীদের হাত থেকে অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভুমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

Islam's Group