নারায়ণগঞ্জের গডফাদার শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের গত দেড় দশকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট সহচর ও দোসর ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার ছিল তার। শামীম ওসমান বাহিনীর অস্ত্রবাজি থেকে দখল-হামলা ছিল প্রকাশ্য। তার হুমকি-ধমকি ছিল সর্বত্র। সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে প্রশাসন সবক্ষেত্রেই একক নিয়ন্ত্রণ ছিল শামীম পরিবারের। দেশজুড়ে গডফাদার পরিচয় পাওয়া এই নেতার অপরাধ ও অপকর্মের ফিরিস্তি শেষ করা মুশকিল।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে সশরীরে নিজের বাহিনী নিয়ে অস্ত্রহাতে গুলি চালান। নারায়ণগঞ্জে যত ডিসি-এসপি যেতেন তাদের সরাসরি হুমকি দিতেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিতর্কিত গডফাদার শামীম ওসমান পরিবারসহ আত্মগোপনে রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শামীম ওসমানকে সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের যিনি গডফাদার ছিলেন তিনি কাপড়চোপড় পড়ে পালাতে পারেনি। উনি জাইঙ্গা পড়েছেন, সেন্টু গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরিধান করেছেন। এর চেয়ে জঘন্য পতন পৃথিবীতে আর হয় না। এটা বলার কারণ যারা রাজনীতি করেন আপনারা জনগণের জন্য রাজনীতি করেন।
বুধবার (২৭ আগস্ট) সময়ের নারায়ণগঞ্জকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান বিএনপিকে এমনভাবে মানুষকে মিশে যাওয়ার কথা বলেছেন। যেনো এই দলটি হয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। এই ধারাবাহিকতায় আমরাও সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন এখানে শাওনের স্মৃতিতে কোনো প্রতিকৃতি করা যায় কিনা। এই সুবাদে আমাদের এখানে আসা। ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর এই স্থানটিতেই পুলিশের গুলিতে শাওন মারা যান।
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে শহরের চাষাঢ়া বঙ্গবন্ধু সড়কে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করেন।
আর ওই মিছিলে শামীম ওসমান ও তার কয়েক শতাধিক অনুসারী আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে শহরের চাষাঢ়া এলাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সড়কে শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকার দিকে ধাওয়া দিয়েছিলেন।
সেখানে শামীম ওসমানের শ্যালক তানভীর আহমেদ (টিটু) গুলি ছোড়েন। শামীম ওসমানের আত্মীয় (অয়ন ওসমানের শ্বশুর) ফয়েজ উদ্দিন (লাভলু), তার ছেলে মিনহাজুল ইসলাম ও শীতল পরিবহনের বাসের পরিচালক অনুপ কুমার সাহা, ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নিয়াজুল ইসলামকে দেখা গিয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতাদের মুখে শোনা গিয়েছিল এই অস্ত্রের মহড়ার কথা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে শামীম ওসমান গর্ব করে বলেছেন।
নারায়ণগঞ্জের পরিবহন খাতে একছত্র আধিপত্য ছিল শামীম ওসমানের। নারায়ণগঞ্জ থেকে যাতায়াতকারী সব পরিবহননেই চাঁদা দিতে হতো শামীম ওসমানকে। পরিবহন সুবিধা দেওয়ার জন্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচলকেও অনেক সময় বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে।
দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির পাশাপাশি গডফাদার পরিচয়ে নিজস্ব অস্ত্রধারী বাহিনী দিয়ে পুরো জেলায় সন্ত্রাসের সাম্ম্রাজ্য গড়ে তোলেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবৈধ সম্পদ পাচার করেছেন।
এদিকে, প্রায় ২০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার স্ত্রী সালমা ওসমান ও তানভীর আহমেদকে আসামি করে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আপনার মতামত লিখুন :