News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

শুভ হত্যার বাদী মায়ের মৃত্যু


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ৩, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম শুভ হত্যার বাদী মায়ের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহরণ ও গুমের পর রূপগঞ্জে লাশ পাওয়া যায় শুভর। তাকে ইসদাইর থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় মামলা দায়ের করেন শুভ’র মা মাকসুদা বেগম। মামলায় অন্যতম আসামী করা হয়েছে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাখাওয়াত হোসেন রানাকে। সেই মাকসুদা বেগম মারা গেছেন। ২ মে তিনি জালকুড়িতে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশায় ওড়না পেচিয়ে মারা যান। তারা ফতুল্লার লামাপাড়ায় বসবাস করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে জালকুড়ি থেকে অটো রিকশায় লামাপাড়ার বাসায় যাওয়ার সময়ে চাকায় ওড়না পেচিয়ে গলায় প্যাচ খায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যায়।

গত ৩০ মার্চ মরদেহটি সড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাথা, মুখমন্ডল, হাত, পা ও বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মূলত নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে সেই আলামত স্পষ্ট। শুভর পরিবার এসে দাবী করে এই ব্যক্তি শুভ। তারা ছবি ও জামা কাপড় দেখিয়ে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছে এটি তাদেরই ছেলে। ত

অপহরণের শিকার হওয়া শুভ ফতুল্লার পুর্ব ইসদাইর রসূলবাগ এলাকার ঝুট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহেলের ছেলে। শুভ আগে ফ্রিজ মেকানিক হিসেবে কাজ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে মাদক সেবনের সাথে জড়িয়ে পড়ে বলে জানায় তার পরিবার।

এর আগে শুভকে গুমের অভিযোগে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে ১০ জনকে আসামী করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে।

গত ২৫ মার্চ শুভর নেতৃত্বে তার বাহিনীর সদস্যরা চাষাঢ়া রেললাইনের পাশে অবস্থিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার গ্যারেজে অতর্কিতভাবে চাপাতিসহ হামলা চালায়। এ সময় জীবন বাচাতে রানা ও কাশেমসহ তার বাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে যায়।

ওই ঘটনার পর শুভর পরিবারের অভিযোগ তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ওই ঘটনার পর স্ত্রী পিংকি বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় শাকিল ও রানাগংদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পরবর্তীতে শুভ’র মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে ২ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা (৫১), কাশেম (ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী) (৪৫), সাব্বির (২১), শাকিল (২৮), পাপ্পু (৪০), মো. আলী মিয়া (৩৮), জাহিদ (৩৫), রাজ্জাক (৫০), ওয়াসিম (২৩), লাল শুভ (২০)। মামলায় আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রানা প্রয়াত যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিডের ভাগ্নে। তিনি ভাগ্নে রানা হিসেবেই পরিচিত।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ মার্চ বিকেলে শুভ সিদ্ধিরগঞ্জের ঢাকেশ্বরী এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে যান। পরে সন্ধ্যায় শাকিল তাকে ফোন করে পূর্ব ইসদাইর রেললাইন এলাকায় ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন আসামি তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় শুভ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত এপাচি মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যাওয়া হয়।

শুভর বাবা সোহেল বলেন, অপহরণের রাতেই ফতুল্লা থানায় গেছিলাম। কিন্তু পুলিশ তখন মামলা নেয়নাই। তিনদিন পর মামলা নিসে। শুরুর দিন থেকেই কইছি কারা আমার পোলারে তুইল্লা নিয়া গেছে। তাদের নামও বলছি। ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালাইলে আমার পোলারে জীবিত ফিরা পাইতাম।’