News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ০২ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

জাতীয় পার্টি হারাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ!


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মে ২, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম জাতীয় পার্টি হারাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ!

এক সময়ে নারায়ণগঞ্জে ‘শুধু ওসমান লীগ আর ওসমান পার্টি’ বলেছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তার সুর ধরে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদিশা এরশাদ ও তিনবারের শহর-বন্দরের এমপি সেলিম ওসমান একাধিকবার বলেছিলেন। ওসমান পরিবারের বড় ছেলে নাসিম ওসমানের হাত ধরে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল তার মৃত্যু পর জাতীয় পার্টি সাংগঠনিক অবস্থান ও প্রভাব দূর্বল হয়ে পড়ে। ২৪ এর ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জে দলটি সক্রিয়তা হারাচ্ছে। ইতোমধ্যে ওসমান পরিবারের নাসিম ওসমানের স্ত্রী কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য পারভীন ওসমান ও সাবেক এমপি সেলিম ওসমান আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের প্রজন্ম আজমেরি ওসমানও এখন আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগের কমিটিতে ঠাঁই নেয়ার জন্য তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছে কলকাতা বসে। অন্যদিকে প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকাও কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে নিষ্ক্রিয় রয়েছে নারায়ণগঞ্জে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে একাধিকবার এমপি ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রয়াত নাসিম ওসমান ও সেলিম ওসমান। আর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে এমপি ছিলেন লিয়াকত হোসেন খোকা। ২০২২ সালে ১৮ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর কমিটির সম্মেলন আয়োজনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের উপস্থিত ছিলেন। সেই কমিটিতে সানাউল্লাহ সানুকে সভাপতি ও আবু নাইম ইকবালকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা এবং মোদাসেরুল হক দুলালকে সভাপতি ও কাউন্সিলর আফজাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষণা করা হয়। তারা সকলেই ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পর আত্মগোপনে চলে গেছেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সিনিয়র নেতাদের পদত্যাগের কারণে দলের জেলা ও মহানগর কমিটিগুলো প্রায় অকার্যকর।

যার কারণে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির (জাপা) সাংগঠনিক অবস্থান ও প্রভাব বর্তমানে খুবই দুর্বল। ২০২৪ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জের আসনসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিস্ক্রিয়তা, ভাঙন, এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে দলের প্রভাব প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে কর্মীরা দলে বিভেদ ও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে হতাশ। দলের অনেক নেতাকর্মী অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন, বিশেষ করে নবগঠিত বা সমমনা জোটে। জাতীয় পার্টির নিজস্ব প্রভাববলয় নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৫ আসনেও কমে এসেছে, যেখানে আওয়ামী লীগের পর বিএনপিতে এখন প্রভাব বেড়েছে।